ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

প্রতিবার ঈদের ছুটিতে বা বড় কোন ছুটি পেলেই ঢাকার মানুষ গুলো ঊর্ধ্বশ্বাসে ছোটে তাদের ছেড়ে আসা ঘর পানে। যেখানে আছে তাদের বাবা-মা ও প্রিয়জনরা। তারা সবাই চায় উৎসব ও ছুটির আনন্দটুকু ভাগাভাগি করে নিবে, একসাথে কাটাবে কয়েকটা দিন।

প্রতিবার এই ছুটিগুলো শুরু হওয়ার আগেই দেশের হাইওয়ে থেকে শুরু করে ছোট বড় রাস্তাগুলো ভাঙ্গতে থাকে, গর্ত হতে থাকে, এমনকি অবস্থা এমন দ্বারায় যে বুঝতে কষ্ট হয় যে, এটা আসলে রাস্তা না নর্দমা। যার কারণে প্রতিবারই মানুষের ভোগান্তি চরমে ওঠে, দুই ঘণ্টার জার্নিতে লাগে ১০ ঘণ্টা। আবার কোন জায়গায় পৌঁছাইতে লেগে যায় পুরো একদিন, কখনো তার চেয়েও বেশী। এই দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে অনেকেই দেশে যাওয়ার কথা ভুলে; ঢাকায় থাকে মুখ গোমরা করে।

প্রতিবার রেডিও, টিভি, সংবাদপত্র আর হালের সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে এই নিয়ে হাউকাউ শুরু হয়, শুরু হয় সরকারের গুষ্টি উদ্ধার করা। দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মহোদয় আর ইঞ্জিনিয়ারদের দৌড়াদৌড়ি বেড়ে যায়, একটার পর একটা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। প্রকাশ্যেই ঘোষণা করা হয় যে করেই হোক- এই খারাপ রাস্তা গুলো ছুটির আগেই ঠিক করা হবে। সেই অনুযায়ী শুরু হয়ে যায় প্রকল্প তৈরি এবং তা জরুরী ভিত্তিতে বাস্তবায়নের কাজ।

প্রতিবার এই প্রকল্প গুলো ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার জন্য ইঞ্জিনিয়াররা তাদের সবচেয়ে কাছের ঠিকাদারদের ডেকে আনেন, নামমাত্র বা কখনো বিনা টেন্ডারে ১০ কোটির টাকার কাজ ৫০ কোটি টাকা দিয়ে করান- একটাই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে, আর সেটা হলো জনস্বার্থ। কেননা এই জনস্বার্থ দেখাটাই সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য!

প্রতিবার মানুষ শেষপর্যন্ত কোনমতে মেরামত করা সেই ভাঙ্গাচুরা রাস্তাগুলো ঠেলে গুঁতিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছে ছড়িয়ে দেয় একরাশ উচ্ছ্বাস যা ছড়িয়ে পড়ে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে, মানুষের মনে প্রাণে।

প্রতিবার সেই খুশির রেশ ছড়িয়ে পড়ে রাস্তা মেরামতের ক্রাশ কার্যক্রমের সাথে জড়িত সকল রাজনীতিবিদ, ইঞ্জিনিয়ার আর ঠিকাদারদের মধ্যেও। তোলা হতে থাকে পেটমোটা বিলগুলো একের পর এক- ডাবল খুশিতে! বিনা বাঁধায়!

প্রতিবার … না থাক, It’s a Taboo !!!

সবাইকে প্রতিবারের মত- আমার পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা! … It’s a Real !!!

২৫/০৭/২০১৪, রাতঃ ৯.৩০