ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

বিশ্বব্যাপী আর একটা মহামন্দা কি আসন্ন ১৯৩০ সালের মত? এই আশংকা কিন্তু আমার নয়। এই আশংকা করছেন জনাব ডঃ রঘুরাম রাজন, বর্তমানে যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মজা করে ভারতীয়রা যাকে আবার তাদের আর্থিক ক্ষেত্রের “জেমস বন্ড” ডাকেন।

এর আগেও অর্থাৎ ২০০৮ সালের বিশ্ব মন্দার ভবিষ্যৎ বাণীটিও তিনিই করেছিলেন  ২০০৫ সালে লেখা তার একটা গবেষণাপত্রে। তখন তিনি কর্মরত ছিলেন আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে। তার সেদিনের ভবিষ্যৎ বানীকে তখন কেউই পাত্তা দেয়নি, এমনকি তদানীন্তন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের চেয়ারম্যান জনাব এলেন গ্রীনস্প্যানের সাথে এই নিয়ে তার একটা বিবাদের সংবাদ শোনা গিয়েছিলো সেইসময় গুলোতে। কিন্তু পরবর্তীতে ডঃ রাজনের ধারনাই অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায় এবং আমেরিকা তথা বিশ্ব অর্থনীতি এক এক করে ধসে যেতে থাকে। অপরদিকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণে জনাব গ্রিনস্প্যানকে রিজার্ভ সিস্টেমের দায়িত্ব ছেড়ে চলে জেতে হয়েছিল, যাকে এক সময় বলা হত- “আমেরিকার একমাত্র স্থায়ী প্রেসিডেন্ট”! বেল আউট প্যাকেজের মাধ্যমে ৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও অধিক অর্থ ঢেলে আমেরিকা তার বড় বড় কর্পোরেশন ও ব্যাংক গুলোকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে তখন। ইউরোপকেও একই ব্যবস্থা নিতে হয়, নিজেদের অর্থনীতিকে বাঁচাতে। যার রেশ এখনো চলছে।

মোটামুটি আমরা সবাই জানি, এই মহামন্দা কি? কি তার ফলাফল? ২০০৮ সালের মন্দার ফল তো বর্তমান বিশ্ববাসী হাতে হাতেই পেয়েছে; যার রেশ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। সেই সময়ে অর্থাৎ ২০০৮ সালে পৃথিবীতে আজকের ২০১৪ সালের মত এত অস্থিরতা ছিল না, ছিল না পৃথিবীব্যাপী এত যুদ্ধের ডামাডোল। রাশিয়া-চিন-ভারতও এত সোচ্চার আমেরিকা বিরোধী ছিল না। শোনা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী মার্কিন বিরোধী জোটের আওয়াজ। ইতিমধ্যে আইএমএফের বিকল্প ব্যাংক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে চীন, রাশিয়া আর ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে। এর সাথে আছে আবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোও- যারা এতদিন আমেরিকার ভয়ে গুটিয়ে ছিল। অপরদিকে আমেরিকাও হন্যে হয়ে উঠেছে তার প্রভাব বলয় ঠিক রেখে নতুন করে আরও বাড়াতে। ন্যাটোতে ভর করে ইতিমধ্যেই পোঁছে গেছে সে রাশিয়ার দৌড় গোঁড়ায়, জর্জিয়া-ইউক্রেনে। ইসরাইল, সৌদি আরব আর পাকিস্তান তো আছেই সেই আগের জায়গায়ই অর্থাৎ আমেরিকার পক্ষে। পুড়ো মধ্যপ্রাচ্য আজ অস্থিতিশীল। তেল-গ্যাসের উপর নিজ নিজ অধিকার বজায় রাখতে বিশ্বশক্তি গুলো আজ একে অপরের সাথে প্রক্সি যুদ্ধে লিপ্ত। দেশে দেশে বেড়ে গেছে সাম্প্রদায়িক হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ, কাড়াকাড়ি।

১৯৩০ সালের মহামন্দাকে দায়ী করা হয় ১৯৩৯ সালে শুরু হওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ‘র কারণ হিসেবে।

তাহলে আর একটা বিশ্বব্যাপী মহামন্দা কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধকেও ডেকে আনবে?

এর আলামত কিন্তু স্পষ্ট !!!

০৮/০৮/২০১৪, বিকাল: ৩.০৫