ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

বাঘ হরিণকে ডাকিয়া কহিলো, ওহে বৎস কোথায় যাও? এই দেখ তোমাদের জন্য আমি কত সুন্দর গাঁতা খুঁড়িয়াছি!

হরিণ মুখ ঘুরাইয়া কহিলো, গাঁতা তো দেখলাম; কিন্তু এর ম্যাজেজা কি বস?

প্রশ্ন শুনিয়া- বাঘ ভাঙ্গা দাঁতে কড়মড় শব্দ তুলিয়া কহিলো, আজ থাইকা তোমরা এই গাঁতায় টপাটপ পড়বা আর আমি তোমাদের জ্যান্ত চিবাইয়া চিবাইয়া মহাসুখে ভক্ষণ করিবো!

হরিণ মুচকি হাসিয়া কহিলো, মহারাজ! হটাৎ আপনার কি হইলো, বেশ তো এতদিন আমাদের পিছনে পিছনে দৌড়াইয়া, লাফাইয়া, ঝাঁপাইয়া খাইতেছিলে; আজ গাঁতা খোঁড়ার দরকার হলো যে বড়?

বাঘ কিছুটা লাজুক হাসিয়া কহিলো, আগে জোয়ান ছিলাম; তাই গায়ে জোড় ছিল, লেবাসও ছিল সেইরাম, তখন তোমাদের পিছনে পিছনে দৌড়াইয়া খাইতে মজা লাগতো, ব্যায়ামও হইত, মর্দামিও দেখানো যাইতো কিন্তু এখন দিন বদলাইছে, বয়স হইছে, গায়ে জোড়ও কমছে, সেই মর্দামিও আর নাই; তাই তো এই গাঁতা খুঁড়িয়াছি- তোমাদের বিনাশ্রমে খাবো বলে!

হরিণ অট্ট হাসিয়া কহিলো, গাঁতা খুঁড়িয়াছ ভাল কথা কিন্তু তুমি ভাবলে কিভাবে আমরা তোমার খোঁড়া এই গাঁতায় পড়বো! দেইখো, বাংলার বাঘ হইয়া বাংলার প্রবাদটা ভুইলা যাইয়ো না; নিজের খোঁড়া গাঁতায় যেন নিজেই উবদ্দা হইয়া পইড়ো না? তাইলে কিন্তু জানও যাইবো, বেজ্জতিও হইবা! আর আমাদের নিয়া টেনশিত হইয়ো না, আমরা তোমার গাঁতা ঠিকই লাফাইয়া পার হইয়া যামু। এইবার একটু জোড়ে লাফ দিতে হইবো এই যা!

অফটপিকঃ বঙ্গবন্ধু লাভারসরা এর আগেও অনেক গাঁতা লাফাইয়া পার হইছে, এটাও হবে। একটু জোড়ে লাফ দিতে হবে এই যা! আর বাংলার প্রবাদটা- আগের মতই রইলো এর খোদকদের জন্য !!!