ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

সুযোগ পেলেই আমরা জ্ঞানীগুণী, আমজনতা একযোগে ‘রাজনীতি’কে ধুয়ে মুছে সাফ করে দেই! নিজেরা কি পারি, আর না পারি, তা না ভেবে, খুঁজে বেড়াই এর দোষত্রুটি। আর “রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী”দের বেলায় তো কথাই নেই, সমালোচনার যত রকমফের আছে; তার সবই উগড়ে দেইএদের উপর। দেই যথাসম্ভব গালমন্দ, পাড়লে গুষ্টিসহ উদ্ধার করি। অথচ নিজেদের দিকে ফিরে তাকালেই কিন্তু সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পারতাম, ক্লিয়ার হতো সব, একদম হারপিক ক্লিয়ার! কিন্তু তা আমরা করি না, হয়ত আগামীতেও করবো না, এটাই আমাদের প্র্যাকটিস! স্বভাব! একেই বলে সুশীলতা।

আবার আমরাই এদের কাছে চাই স্বাধীনতা, চাই সুশাসন, অর্থনৈতিক মুক্তি, এমনকি বিপদে পড়লেও চাই সাহায্য সহযোগিতা। পড়শির সাথে বাড়ির সীমানা নিয়ে ঠেলাঠেলি হলে, ছেলের বা মেয়ের বিয়েতে কেউ বাগড়া দিলে-এথেকে মুক্তি পেতেও এদেরই দ্বারস্থ হই। পারলে তাদের পায়ের তালু থেকে চাটতে থাকি লজ্জা শরম পকেটে রেখে। অথচ একটু আগেই তাদের একচোট গালি দিয়ে এসেছি সুযোগ বুঝে, গোল টেবিলে বা টিভির পর্দায় বা চায়ের দোকানে।

আবার আমরাই টাকা নিয়ে ভোট দেই, দলবাজি করি অন্ধের মত। লাঠালাঠি করি নিজ পরিবারের মধ্যে, বন্ধু-বান্ধব এমনকি ক্লাসমেটদের সাথেও। মিথ্যাকে সত্য বলে অপপ্রচার চালাই জোরেশোরে। করি ধর্মের মিথ্যা ব্যবহার জেনেশুনে, নিজস্বার্থে। আর সবসময় চেষ্টায় থাকি- কিভাবে নিজের বাড়ীর-জমির সীমানাটাকে বাড়িয়ে অন্যের জায়গা, জমি দখল করা যায়! রাস্তা, নালা, নর্দমা, নদী ব্লক করে কিভাবে নিজের সুখটাকে আরও বাড়িয়ে সন্তান পর্যন্ত টেনে নেওয়া যায়। আর এটা করতে যেয়ে যদি দেখি পড়শির অসুবিধা হয়েছে, তখনই নিজের অপরাধ বেমালুম চেপে যেয়ে মায়াকান্না জুড়ে দিয়ে সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের গালাগালি করতে শুরু করে দেই।

এছাড়াও বছরের প্রথমে- ভাড়াটিয়াদের কিভাবে গলাটিপে ধরা যায়, তারই ফন্দি ফিকির করি সারাবছর ধরে! যদিও নিজেরা সরকারকে এক পয়সাও ট্যাক্স দেই না কিন্তু সরকারের কাছে চাই ষোলআনা সুযোগ সুবিধা! সরকার উপযাজক হয়ে ঈদের ছুটিতে বন্ধ বাসায় তালা লাগাতে বললেও তাতে দোষ খুঁজি অথচ এটা আমরা সবসময়ই করি; কিন্তু সরকারের কেউ বললেই তা অশুচ বলে নাক সিটকাতে থাকি।

অমুকে খারাপ, তমুকে খারাপ, এদের দিয়ে কিছু হবে না! দেশটা গোল্লায় গেছে। না, এদেশে আর থাকা যাবে না, কোন ভবিষ্যৎ নেই– এই মনোবৃত্তি নিয়ে নিজে একবারের জন্যও রাজনীতিকে পরিষ্কার করার জন্য, দেশের ভালোর জন্য রাস্তায় নামি না, নির্বাচন করি না, দেই না মিশতে ছেলে-মেয়েকে রাজনীতির সাথে, আবার জোর গলায় চাই গণতন্ত্র! শতভাগ খাঁটি!

একজন উচ্চ শিক্ষিত ছেলে নিজ দেশে এসেছে, নিজ মানুষের সাথে মিশতে, কথা বলতে। শেয়ার করতে চাচ্ছে তার চিন্তাভাবনা; অপরের সাথে। সেটা অবশ্যই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং তা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই …

তাতেও দোষ খুঁজি?

কথায় আছে-প্রজার গুনে রাজা!

তাহলে আমাদের রাজা/রানী’রা যদি খারাপ হয়, তাহলে এর জন্য দায়ী কে?

১৪/০৯/২০১৩ , রাত ১১-০০। আপডেট ১৪/০৯/১৪, রাত ১১.০০ (কাকতালীয়)