ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

Puja

ছুটির শুরুতেই, ছোটবেলার কর্মব্যস্ত বন্ধুদের অনুপস্থিতে গতকাল এক ফাঁকে স্বপ্নে ডোবার চেষ্টা করেছিলাম, মানে হলো ফ্রয়েডের ‘স্বপ্ন’ পড়ার চেষ্টা করতে করতে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম থেকে জেগে; প্রথমেই মাইন্ডে ক্যাঁচ খেলো, কি স্বপ্ন দেখলাম? – ফ্রেস ফ্রয়েডীয় সিন্ড্রোম!

আজ সকাল থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে সেই যে গালাগালি চলছে থুক্কু আড্ডা চলছে, তা যেন থামতেই চাচ্ছে না; খাওয়া-নাওয়া, বউ-বাচ্চা ভুলে জেগে উঠছে শয়তানি সব প্ল্যান, ঘুরছে মাথা থেকে মাথায়। কারটা সেরা হবে?- তার প্রতিযোগিতা চলছে।

গতকাল রাতেই ঘোষ বাড়ীতে সদ্য বানিয়ে জমা করে রাখা দইয়ের উপর নজর পড়েছিল আমার। ভয়ানক নজর! তখনই ভেবেছিলাম এটা আমি খাব, দাম যাই হোক, অনেকদিন ধরে এই খাসা জিনিষ খাই না, আজ খাব। ক্ষীর খাসা বলে কথা! পরক্ষনেই ভাবলাম খাব যখন তবে একটু পুণ্য করেই খাই। আর পূজা যখন সেই ঘোষ বাড়িতেই? তখন পড়ে পাওয়া সুযোগটাকে কাজে লাগাই। যেই ভাবা সেই কাজ, আজ সকালের অষ্টমী পূজাতে ৩০০ টাকায় এটা কিনে- দুর্গা মাকে নিবেদন করে নিজের পুণ্য ও খাওয়ার রাস্তা পোক্ত করলাম।

খাসা জিনিষ খেতে গেলে যেমন হয়, এক্ষেত্রেও তেমনি হল; স্বাদ ও ক্ষীরের ঘনঘটা দেখে মনে হল; এই দইয়ে টিস্যু পেপার মেশানো নাই তো? সে এক সামান্য সময়ের বিরতি; তারপর গো গ্রাস। একটু পড়েই পেট কামড়ানি, তারপর দৌড়াদৌড়ি। আপাতত একটু স্বস্তি!

এদিকে মা ঘুরছে আমাকে প্রসাদের পায়েস-খিচুড়ি খাওয়ানোর জন্য। বারবার না করে অবশেষে বলেই ফেললাম, পেটের অবস্থা ভাল না, মা। শুনেই সে তার স্বভাবমতো উতলা হয়ে ঔষধ খাওয়ার জন্য পিড়াপীড়ি করতেই আমি কাঁচা বেলের টনিক বানাতে বললাম। আর বেল? সে তো গাছেই আছে- জায়গা মত পড়ার জন্য।

সবকিছুকে ছাপিয়ে, পুজোর ছুটির যে আনন্দ; তা উথলে পড়তে চাচ্ছে মনে! কিন্তু গ্রাম বাংলায়- শারদীয় উৎসবের যে বাঁধ ভাঙা আওয়াজ ওঠে প্রতিবার, এবার সেটা উঠতে চাচ্ছে না। মানুষগুলো সব মনমরা। কি যেন এক অজানা ভয় তাদের কুঁকড়ে রেখেছে! দেবীও যেন তাইই চাচ্ছেন, তাই তো দুইদিনের পূজা একদিনে সমাপ্ত হয়েছে আজ; অষ্টমী–নবমী যে একদিনে পড়ছে এবার। আর তাই তো অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে বার্থ হয়ে নবমীতে দিলাম ব্রাহ্মণ ঠাকুরের লগ্ন ধরার তাড়াহুড়ায়।

তারপরেও সবকিছুকে অতিক্রম করে, জরা-ভয়কে পিছনে ফেলে শারদীয় উৎসবের ‘শুভ নবমী’ সবাইকে!

০২/১০/২০১৪ বিকালঃ ৫.২০