ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে ভাগ্নে বলল, মামা! ধর তোমার বাড়ীতে আমাকে পাহাড়ায় রেখেছো। দায়িত্ব দিয়েছো বাড়ীর জিনিষপত্র সব দেখেশুনে রাখতে। কিছুদিন পর তুমি এসে দেখলে বাড়ীর মূল্যবান জিনিষপত্রের অনেক কিছুই নেই। তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে, জিনিষপত্র গুলো কই গেল? আমি উত্তর দিলাম, এগুলো চোরেরা বস্তায় ভরে চুরি করে নিয়ে গেছে; পাড়া পড়াশিরা কেউ কিছু বলল না ওদের, সবাই নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল তখন। এক্ষেত্রে তুমি কি করতে বা কি বলতে আমাকে?

আমি বললাম, সেক্ষেত্রে তোর কানের নীচে একটা রাম থাপ্পড় দিয়ে বলতাম, হারামজাদা, চোর যখন বস্তায় জিনিষ গুলো ভরছিল তখন তুঁই কি করছিলি?

ঠিক আছে মামা! আমি জানি তুমি তাই বলতে, অন্য কেউ হলে সেও তাইই বলতো বা করতো। এবার আসি আমার মূল কথায়-

মামা, তুমি তো জান, আমাদের সরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক গুলোর মধ্যে প্রায় সবগুলোই গত সরকারের আমলে লুটপাট হয়ে গেছে। লুট হয়ে গেছে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকার মত; তারমধ্যে সোনালী ব্যাংক থেকে এক হলমার্কই হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা, আবার বেসিক ব্যাংক থেকে নামে বেনামে সেই ব্যাংকের চেয়ারম্যানই কর্মচারীদের সাথে মিলে ডাকাতি করেছে আরও প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। জনতা ব্যাংক থেকেও হয়েছে কিছু। আর ডাকাতি গুলো হয়েছে প্রায় তিন-চার বছর ধরে এবং চোখের সামনে, পত্র পত্রিকায় এনিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে কিন্তু চুরি ঠেকেনি বরঞ্চ চোররা জামাই আদরে থেকেছে এবং ভেগেছে! – ঠিক আছে?

আমি বললাম, আছে! তোর মূল কথায় আয় এবার!

আচ্ছা মামা, তুমি তো  এই বিষয়েরই ছাত্র ছিলে, আচ্ছা বলতো দেখি এই চুরি ঠেকানোর দায়িত্ব কার ছিল?

আমি বললাম, যেহেতু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকে সেক্ষেত্রে প্রথম দায়িত্বটা ছিল তারই অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রধান দায়িত্ব ছিল এটা ঠেকানো। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রীর এবং সব শেষে সরকারের।

বুঝলাম! মামা তুমি আজকের নিউজটা পড়েছো?

আমি বললাম, কোনটা?

ওই যে, “আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর; যিনি গত টার্মেও গভর্নর ছিলেন মানে ব্যাংকগুলোতে চুরির সময়ে ছিলেন; তিনি সংসদীয় কমিটির মিটিঙে বলেছেন, “বেসিক ব্যাংকের  টাকা জালিয়াত চক্র ও আগের পরিচালন পর্ষদ বস্তায় ভরে নিয়ে নিয়ে গেলেও দুদক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না”। – এই বিষয়ে তোমার অভিমত কি মামা, মানে এই কথা তোমার সামনে বললে তুমি কি বলতে?

যা ভাগ এখান থেকে! আমার মাথাটা গরম করে দিস না! বলে আমি নিজ কাজে মন দিলাম।

আমার ঝাড়িতে ভাগ্নে উত্তর না জেনেই যেভাবে এসেছিল সেভাবেই চলে গেল! আর আমি মনে মনে বললাম, ভাগ্নে আমার; না বুঝেই আমাকে জেলের ভাত খাওয়াতে এসেছিল!

ভাগ ! আমি জেলে গেলে তুঁই ত বেশী কষ্ট পেতিরে পাগল !!!

সুত্রঃ প্রথম আলো, ৩১/১০/২০১৪, শেষ পৃষ্ঠা

৩১/১০/২০১৪ রাতঃ ১০.৩৫

পূর্বের লেখাঃ ১)  ‘বাংলাদেশ’ লুটের কল্পকাহিনী ও কিছু আলোচনা

২) কোনটা বড়ঃ চার হাজার কোটি টাকা না দুইশত টাকা?