ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

একটা জিনিষ আমি অনেকদিন ধরেই খেয়াল করছি- দেশে যখন কোন একটা দুর্ঘটনা ঘটে পাশাপাশি সময়ের মধ্যে একই রকমের দুর্ঘটনা আরও ঘটে। গার্মেন্টসে আগুণ লাগলে দেখা যায়; পরের কয়েকদিনে পর পর আরও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে আগুণ লাগছে। একটা লঞ্চ ডুবলে, আরও লঞ্চ ডোবে। কিছুদিন আগে পদ্মা-যমুনা নদীতে পর পর কয়েকটি নৌকা ডুবেও অনেকে মারা গেল। এই রকম ঘটনার নজীর দেশে আরও আছে।

বর্তমানে দেশে চলছে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের দুর্ঘটনা। একটার পর একটা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে; সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকেই। সরকার কিছুতেই তা রুখতে পারছে না। শিক্ষামন্ত্রী নানা কথা বলে প্রথমে তা পাশ কাটাতে চাইলেও এবার আর তা পারবে না- বলে মনে হয়। প্রাথমিকের প্রশ্নপত্র এবার ব্যাপকভাবেই ফাঁস হয়েছে।

মানুষের লোভের কাছে যখন বিবেক বন্দি হয়ে পড়ে তখন আর কিছুই করার থাকে না। কারণ যাই কিছু করা হোক না কেন, তাতে মানুষের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভূমিকা থাকবেই। এখন যদি তারা নিজেরাই স্ব স্ব স্থানে অসৎ হয়ে যায়, বিবেক হারায়; তাহলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। এতে করে দেশ থাকেনা, মানবিকতা থাকে না, ধর্ম থাকে না। যারা আজ প্রশ্নপত্র ফাঁস করছে তারা সবাই লোভের কাছে নিজেদের বিবেককে বন্দি করে ফেলেছে। টাকার কাছে নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছে।

ফেসবুক, মোবাইল ফোন বন্ধ করে দিয়ে এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে না; বলে আমি মনে। এথেকে মুক্তি পেতে চাইলে প্রশ্নপত্রের পদ্ধতি পাল্টাতে হবে-

আমার ধারণাঃ

আচ্ছা একই বিষয়ে ৫/১০ সেট প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হলে কেমন হয়? তাতে সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা প্রশ্ন থাকবে অর্থাৎ প্রতি পরীক্ষায় ৫/১০ টা করে সেটে পরীক্ষা নিলে কেমন হয়? যদি তা পরীক্ষার হলে Randomly বণ্টন করা হয় ছাত্র/ছাত্রীদের মধ্যে?

তাতে করে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও সবাইকে অন্তত ৫ থেকে ১০ সেট করে উত্তর পড়তে হবে এবং কিছুদিন পরে ফাঁসকারীরা প্রশ্ন ফাঁস করতে নিরুৎসাহিত হবে। হবে অভিভাবকরাও!

— আমি, আমার ধারণাটাকে পারফেক্ট বলছি না; বলছি- এথেকে পরিত্রাণের উপায় কি তা আমাদেরই ভেবে বের করতে হবে? এটা ভেবেই বললাম !!!

২৭/১১/২০১৪