ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

এবার একটা কাজের কাজ হয়েছে। কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও র‍্যাব-১৪ এর এক যৌথ অভিযানে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির ৩২ জন বিক্রয় প্রতিনিধিকে ১৫ দিনের জেল ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে তারা জেলা প্রশাসকের অস্থায়ী হাজতের অস্থায়ী বাসিন্দা হয়ে আছে।

দেশে বর্তমানে ঔষধ কোম্পানিগুলোর দৌরাত্ম্য এতই বেড়েছে যে, তারা পাড়লে দেশের সব ডাক্তারকে স্ব স্ব নামে কিনে নেয়; আর ডাক্তার গুলোও এই সুযোগে তাদের আখেরে যা যা লাগে তা বাগিয়ে নিচ্ছে ইচ্ছামত। আমার জানামতে কিছু কিছু ডাক্তার মাসে ৫ লক্ষ টাকা করে মাসোয়ারা নেয় শুধু একটা কোম্পানির নির্দিষ্ট ঔষধ রুগীর প্রেসক্রিপশনে লিখবে বলে। এছাড়াও আছে বিদেশ ভ্রমণ, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ; এমনকি ছেলে-মেয়ের বিয়ের খরচও দিচ্ছে এই কোম্পানিগুলো তাও আবার কার আগে কে দিবে ভিত্তিতে। আর এর প্রভাব পড়ছে ঔষধের মূল্যের উপর- যা বহন করছে দেশের অসুস্থ, গরীব, দুঃখী খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষগুলো।

রিপোর্টটা পড়ে আমার আবার খারাপও লাগছে, কারণ যে ৩২ জনকে আজ জেল জরিমানা করা হল, এরা আসলে কতটুকু দোষী? এদের দোষ তারা হাসপাতালে ভিড় করে ডাক্তারের সাক্ষাতের জন্য বসে ছিল; বা তারা ডাক্তারের করা প্রেসক্রিপশনগুলো পরীক্ষা করছিল এটা জানার জন্য যে, ডাক্তাররা তাদের প্রতিশ্রুতি মত তাদের কোম্পানির ঔষধগুলো লিখছে কিনা? নিতান্তই পেটের আর পেশার দায়ে এরা ওখানে নিয়োজিত ছিল; কারণ তাদের নিজ নিজ সেলস টার্গেট পূরণ না হলে যে তারা বেতন পাবে না, এমনকি চাকরীচ্যুতও হতে পারে কেউ কেউ। উপরি পাওনা হিসেবে গালমন্দের কথা না হয় বাদই দিলাম।

আমি মনে করি, এই অভিযান চলতে থাকুক কোন আপত্তি নাই। কিন্তু সবকিছুর নাটের গুরু ‘ডাক্তার’ আর ‘ঔষধ কোম্পানির হেড অফিসে বসে বসে ছড়ি ঘোরানো বসদের’ না ধরলে এই অভিযান থেকে কোন ফল পাওয়া যাবে না। মধ্য থেকে কিছু নিরীহ ও শিক্ষিত ছেলে হয়রানীর শিকার হবে। অপদস্থ হবে সমাজ ও পরিবারে। এমনকি ধরা পড়ার দোষে চাকুরীও হারাতে পারে কেউ কেউ।

কারণ লোভী মানুষের কাছে কোন কিছুই অপ্রত্যাশিত নয়! এরা পারে না হেন কোন কাজও নাই, ছলনারও অভাব নাই, এদের !!!

১৪/১২/২০১৪ রাত: ১০.২৭, আপডেট ১৫/১২/২০১৪