ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

একদিন মেঠোপথে বেড়াতে বেড়াতে খান সাহেব একটা ডিম খুঁজে পেয়ে তা বাসায় নিয়ে এলেন। কয়েকদিন পর সেই ডিম ফুটে একটা সাপের বাচ্চা বের হলো। একটু ভেবে খান সাহেব নরম তুলতুলে, লিকলিকে বাচ্চাটাকে খাঁচায় রেখে দিলেন। মনস্থির করলেন, এটাকে পুষবেন। পাশাপাশি একটা ভয়ংকর চিন্তাও তার মাথায় খেলে গেল। সিদ্ধান্ত নিলেন; বিষাক্ত এই সাপটাকে ব্যবহার করবেন তার প্রতিবেশীদের উপর- পরাজয়ের প্রতিশোধ নিবেন, ভয় দেখাবেন, স্বার্থসিদ্ধি করবেন।

খান সাহেবের চমৎকার প্রতিপালনে সেই ছোট্ট লিকলিকে সাপটাই একসময় ভয়ংকর গোখরায় পরিণত হয়েছে; তারপরও খান সাহেব, তার দক্ষ ও নির্ভুল পরিচালনায় এটাকে কখনো প্রতিবেশীর ঘরে, কখনো কারও বিছানায় নীচে, কখনোবা বন্ধুর পোশাকের ভিতরে চালান করে দেয়। আর এটার আক্রমণে- আক্রান্তদের আহত, নিহত ও ভয় পেতে দেখে খান সাহেবের ভীষণ ভাললাগে, আনন্দ হয়। তার প্ল্যানের নির্মম কার্যকারিতা দেখে উৎফুল্ল হয়; নতুন নতুন আরও টেকনিক বের করেন এটাকে ব্যবহারের।

বর্তমানে এর উপর নির্ভরশীলতা খান সাহেবের এতও বেড়েছে যে, তিনি তার কাজের অন্যান্য টেকনিক হারিয়ে ফেলেছেন। ভুলে গেছেন যে, এটার বিষদাঁত থাকা অবস্থায় সবসময় পকেটে নিয়ে ঘুরতে নেই; জাত হিসেবে এদের শত্রু-মিত্রও নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে- খান সাহেব আজ একটু বেখেয়ালে পকেটে হাত ঢোকাতে যেয়ে সাপটাকে ব্যথা দিয়ে ফেলেছেন এবং খেয়েছেন সেই ভয়ঙ্কর বিষাক্ত ছোবল যা এতদিন তার প্রতিবেশীরা, বন্ধুরা খেত।

আর তখনই খান সাহেবের মনে পড়ে গেছে, আরে! এটা যে সাপ! ভয়ংকর সাপ !!!

১৭/১২/২০১৪