ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
images

দোষ বেলের না; দোষ মাথার! আবার দোষ মাথার না; দোষ হলো যে মাথাকে ন্যাড়া করেছে! – এভাবে যুক্তি দিয়ে আরও অনেক কিছুই বলা যায়। দোষ খুঁজে লাভ কি? এক্ষেত্রে দেশীয় প্রবাদটা হল- বেল পাকলে কাকের কি?

হ্যাপির আর রুবেলের ঘটনাটা অনেক ভাবেই প্যাঁচানো যায়! মোদ্দাকথা হলো- রুবেল, হ্যাপির সাথে সহবাস করেছে এবং পরে তাকে ছেড়ে দিয়েছে; আর হ্যাপি সেটাকে ‘বিনা যুদ্ধে ছাড়িবো না সূচ্যগ্র মেদিনী’ পণে রুবেলের নামে ‘ধর্ষণ মামলা’ দায়ের করেছে। এর মধ্যে কে কাকে কি প্রতিশ্রুতি কি দিয়েছিল, সে কথা কেউ সঠিক করে বলতে পারবে না; কারণ ভালবাসায় হয় না এমন কোন ঘটনা পৃথিবীতে নাই!

অনেকে বলেছে- হ্যাপি এই প্রসঙ্গে ধর্ষণের মামলা করতে পারে না কারণ সে যা করেছে তা সম্পূর্ণ নিজ ইচ্ছায় করেছে! আবার কেউ কেউ বলেছে এই মামলা আদালতে টিকবে না! আমি যদিও আইন বিষয়ে কিছুই জানিনা তবুও পত্রিকার পড়ে যতদূর জানতে পেরেছি বা জানি সে বিষয়ে কিছু বলার ইচ্ছা প্রকাশ করছি-

প্রথমেই বলি ধর্ষণ প্রসঙ্গে –

যদি হ্যাপি নাবালিকা হয় তাহলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতেও যদি সহবাস হয় তাহলে সেটা আইনত ধর্ষণ; এখানে ধরে নিচ্ছি রুবেল সাবালক। ইতালির সরকার প্রধান- বারলুস কোনি নাবালিকা বেশ্যার সাথে টাকার বিনিময়ে সহবাস করেও আদালতে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন।

আবার ভারতীয় আদালতের রায় অনুযায়ী- যদি দুজন সাবালক/সাবালিকা নর-নারী পারস্পরিক সম্মতিতে একসাথে থাকে ও সহবাস করে তাহলে তারা বৈধ স্বামী-স্রী হিসেবে গণ্য হবে।

এখন আসি প্রতারণা প্রসঙ্গে –

প্রেমের ক্ষেত্রে প্রতারণা বা সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়া একটা স্বাভাবিক ঘটনা। যে এটাকে সহজভাবে নিতে পারে সে পরবর্তী জীবনে সুখী থাকে; আর যে এটাকে সহজভাবে মেনে নেয় না; সে জ্বলতে থাকে। এক্ষেত্রে সে হয়ে উঠতে পারে প্রতিহিংসা পরায়ণ; খুনোখুনি পর্যন্তও ঘটে যায়। এক্ষেত্রে হ্যাপি প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে পড়েছে রুবেলকে অন্য মেয়ের সাথে নয়-ছয় করতে দেখে। ধারনা করি- রুবেল যদি অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্কে না জড়াতো তাহলে হ্যাপি হয়ত চুপচাপ ছ্যাকাটা মেনে নিত!

একটা গল্প বলি-

প্রথম পর্ব:
অনেকদিন আগে- আমাদের এলাকার একটা ছেলে থানার বড় দারগার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেল স্বেচ্ছায়; আর তাদের পালানো ও বিয়েতে সাহায্য করলো ছেলেটির কয়েক বন্ধু। ঘটনা যখন জানাজানি হলো- পুলিশের প্রথম কোপটা পড়লো ছেলের বন্ধু ও তাদের পরিবারের উপর। যারা ধরা পড়লো তারা “পুলিশের মেয়েকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অপরাধে” বেদম পিটানি খেলো, দুই একজনের হাত-পা’ও ভেঙ্গে গেল, জেল খাটলো, অনেকেই এলাকা ছাড়লো। কিন্তু ছেলে-মেয়েকে আর পাওয়া গেল না কারণ তারা তখন সুখে সংসার করছিল গোপন স্থানে।

দ্বিতীয় পর্বঃ
বছর দুয়েক পর থানার দারগা সাহেব ট্র্যান্সফার হয়ে অন্য এলাকায় চলে গেলে ছেলেটাকে আবার গ্রামে দেখা গেল। কিছুদিন পর শোনা গেল ছেলেটি এখন শশূড়বাড়ী নিয়মিত যাতায়াত করে এবং তাদের বিয়েটাকে মেনে নেওয়া হয়েছে। ছেলেটার বন্ধুদের কেউ কেউ তখনো মেয়ে অপহরণের দায়ে জেল খাটছে।

শেষ পর্বঃ
এলাকায় চাউর হওয়া তথ্যটা যখন সঠিক বলে প্রমাণিত হলো- একদিন ছেলেটির সেই বন্ধুরা যারা তার জন্য নগদ পিটানি খেয়েছিল- তারা একজোট হয়ে ছেলেটিকে এমন পিটানি পেটালো যে, কেউ ভাঙল হাত, কেউ ভাঙল পা। সুদে-আসলে! ছেলের শশুড়বাড়ী আর তার বিটলামী দেখে, রাগ করে।

গল্পের ম্যাজেজাঃ
এই গল্পের ম্যাজেজা হলো – ছেলের বন্ধুদের মার ফেরত দেওয়া সুযোগ সব সময় ঘটে না এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমে দুধে মিলে যায়; পড়ে থাকে আঁটি! বন্ধুরা সাধারণত এই আঁটি’র রূপ ধারণ করে। আর আমরা যারা হ্যাপিদের ঘটনা নিয়ে চিন্তায় দিন গুজরান করছি; তারাও আঁটি হয়ে যেতে পারি যেকোন মুহূর্তে। প্রেমের ক্ষেত্রে দুটো প্রবাদ খুব খাটে-
১) প্রেমের মরা জলে ডোবে না।
২) প্রেমে নাই কোন অপরাধ।

এখন যদি রুবেল ফোন করে হ্যাপিকে বলে, আমি যা করেছি ভুল করেছি, প্লিজ! ক্ষমা করো আমাকে! তাহলেই কেল্লাফতে! মিলঝিল!

আমরা আঁটি !!!

অফটপিকঃ আমি আইনের কেউ না তবুও আইনের ব্যাখ্যা দিলাম; ভুল হলে কারেক্ট মি প্লিজ!!!

০১/০১/২০১৫

প্রেমের অঘটনের একটা প্রমান !