ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

index

ঘটনাঃ
আমাদের স্বনামখ্যাত অর্থনীতিবিদ স্যারের ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল থেকে বাংলাদেশে ১ ও ২ টাকার নোট অচল হয়ে গেছে! তাই আমি সরেজমিনে তদন্তে বের হয়েছি পাবলিক ইফেক্ট জানতে-

প্রথমেই কটকটির দোকানে কান পাতলাম- শুনলাম ক্রেতা বিক্রেতার দরদাম চলছে-

ভাই এটার দাম কত?
– ২ টাকা!
না ভাই ৫ টাকা চান!
– কেন?
আমার কাছে ৫ টাকার নিচে কোন নোট নাই!
– তাইলে ক্যামনে কি?
তার জন্যই তো বললাম ৫ টাকা চান!
– না ভাই! এটার দাম ২ টাকা; তাই ২ টাকাতেই বেচমু; বেশী নিমু ক্যা?
যতসব পাগল ছাগল নিয়ে পড়ছি! নিজের বুঝটা বোঝে না! এত ভাল মানুষ দিয়ে কি হবে! (ক্রেতা স্বগোক্তি করলো)

এবার ব্যাংকের ফরেন একচেঞ্জের লেনদেনে কান পাতলাম-

ভাই ডলার রেট কত?
– ৭৮ টাকা ৩৭ পয়সা।
কেন ভাই বেজোড় চান ক্যা? ৫ টাকা মিল করে চান।
– না ভাই আমরা নিয়মের বাইরে যেতে পারি না। আর এই নিয়ম চাইলেও চেঞ্জ করতে পারি না।
তাইলে এই লন ১০০ ডলার; আমাকে ৭,৮৩৭ টাকা দেন।
– ভাই, আপনাকে ২ টাকা কম নিতে হবে! আমার কাছে ৫ এর নিচে নোট নাই!
এটা কি কন? আপনি ব্যাংক হইয়া কাস্টমারকে ২ টাকা কম দিবেন? হিসাব মিলাবেন ক্যামনে? (“এভাবে ডেইলি ১০ হাজার ডলার বেচতে পাড়লে অনেক টাকা পকেটে থাকবে” চিন্তা করে ক্যাশিয়ারটা মুচকি হাসলো)

মাটির ব্যাংক ইফেক্টঃ

যারা মাটির ব্যাংকে ১ ও ২ টাকার নোট সঞ্চয় করছিল এতদিন ধরে; সেইসব গৃহিণীরা সদলে মরাকান্না জুড়ে দিয়ে উঠানে গড়াগড়ি খাচ্ছে আর আমাদের অর্থনীতিবিদ স্যারকে মারছে ভার্চুয়াল ঝাঁটা; সাথে ফ্রি দিচ্ছে রকমারি গ্রাম্য গালি!

গুজব ইফেক্টঃ

অপরদিকে গ্রামের টাউটরা হটাৎ করেই পড়ে পাওয়া এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে; পাড়ায় পাড়ায় “৫, ১০ থেকে ৫০০ টাকার নোটও অচল হয়ে যাবে” বলে গুজব রটিয়ে দিয়ে কাকা- দিদিমণিদের শেষ সঞ্চয়টা নতুন নোট দিবে বলে হাপিশ করে দিচ্ছে; আর সব হারানোদের অভিশাপ একজোট হয়ে জমা হচ্ছে আমাদের স্যারের পরকালের সেভিংস একাউন্টে!

আপাতত সরেজমিনে তদন্ত এতটুকুই >>>>

১৮/০১/২০১৫ রাতঃ ১০.৩৫

বিনিময় ইফেক্ট:

হটাৎ করে বাজারে ১ টাকা, ২ টাকা দামের লজেঞ্চ, ক্যান্ডি, চকলেটের ডিমান্ড বেড়ে গেছে। কোম্পানিগুলো বিষয়টা বুঝতে পেরে গতরাতের মধ্যেই তাদের প্যাকেজিং চেঞ্জ করে প্রোডাক্টের ব্র্যান্ড নেম তুলে দিয়ে তাতে ‘১ টাকা’ আর ‘২ টাকা’ লিখে দিচ্ছে; যাতে করে মানুষ সহজে বুঝতে পারে। আবার এই সুযোগে কিছু কিছু দুই নম্বরি প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত ১ টাকার পণ্যেই ‘২ টাকা’ লিখে দিচ্ছে।

বিষয়টা যখন জানলাম; এর প্রভাব দেখতে বাজারের ‘পান বিতানে’ খাড়া হইলাম-

ভাই একটা নেভী সিগারেট দেন? বলে ক্রেতা ৫ টাকার নোট এগিয়ে দিলো।
– এই লন! বলে দোকানদার ১ টা সিগারেট আর ২ টা লজেঞ্চ এগিয়ে দিলো।
ভাই আমি চাইলাম সিগারেট আর আপনি লজেঞ্চও দিচ্ছেন? ক্যামনে কি?
– সিগারেটের দাম ২ টাকা আর আপনি দিলেন ৫ টাকা, ভাংতি দিমু ক্যামনে? জানেন না? এখন নেন পরে লজেঞ্চ দিয়ে সিগারেট লইয়েন! লাগলে পানও দিমুনি।
আচ্ছা বলে। ক্রেতা খুশি মনে চলে গেল!

অপরদিকে বাজারে আরও ঘুরে বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে গুলের কৌটা, ম্যাচের খোল ও সিগারেটের খাপের প্রচলন হতে দেখলাম নিম্ন মূল্যে-

১) গুলের খালি কৌটাঃ আট আনা
২) ম্যাচের খালি খোলঃ ১ টাকা
৩) সিগারেটের খালি খাপঃ ২ টাকা

একটা দোকানে জটলা দেখে এগিয়ে যেতেই নতুন প্রচলন হওয়া বিনিময় মাধ্যমের সাইড ইফেক্ট দেখলাম; বুঝলাম সিগারেটের খালি খোলের দাম ২ টাকা হওয়ায় দোকানদার পুড়া প্যাকেট বিক্রি করতে চাচ্ছে না, আবার ক্রেতা পুড়া প্যাকেটই নিবে। তাই এই গ্যাঞ্জাম!

আপডেট ১৯/০১/২০১৫

দাঁতে পোকা ইফেক্ট

সকালে প্রতিদিনের মত অফিসের জন্য তাড়াহুড়া করছি। এমন সময় সুতপা এসে বায়না ধরে বলল, বাবা আমাকে ২ টাকা দাও চকোচকো খাবো। না হলে স্কুলে যাবো না।
– আমি কিছুটা বেখেয়ালে পকেট থেকে একটা লজেঞ্চ বের করে দিলাম।
কিছুক্ষণ পর ও এসে আবারো ২ টাকা চাইলে আমি বললাম, তোমাকে তো লজেঞ্চ দিলাম সেটা কই? ও বলল, খেয়ে ফেলেছি বাবা। এই দ্যাখো! বলেই সে দাঁতের কামড়ের ফাঁকে লজেঞ্চটা দেখালো।
– আমি বোকা বনে আবারো একটা লজেঞ্চ দিলাম।
কিছুক্ষণ পর ও আবারো এসে বলল, বাবা তোমার কাছে টাকা চাচ্ছি দিচ্ছো না কেন? আমি বললাম, কেবল যে লজেঞ্চটা দিলাম সেটা কই? ভাই খেয়ে ফেলেছে, সে উত্তর দিলো। এবার বিনাবাক্যে ওকে আরও একটা লজেঞ্চ দিয়ে বললাম, এটা দিয়ে তুমি চকোচকো কিনবে ঠিক আছে? ওর পাঁচ বছরের মাথায় এত প্যাঁচ ঢুকলো না; বলল না বাবা এটা আমি স্কুলে ঐশীকে দিবো!
– আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে চুপচাপ বসে থাকলাম; ভাবলাম লজেঞ্চ কেনাটা ভুল হয়েছে; কাল থেকে ১০ টাকা দিয়ে ৫টা চকোচকোই কিনে আনবো। শুধু শুধু বাচ্চাদের লজেঞ্চ খাওয়ালাম সকালে? এমনিতেই চিন্তায় আছি; শুনেছি বাচ্চাদের দাঁতে পোকা ধরলে নাকি স্কুলে নেয় না!

১৯/০১/২০১৪ সকাল ১১.৩৭

আল্টিমেড ইফেক্টঃ

এবিষয়ে আমাদের স্যারের প্রতিক্রিয়া জানার জন্য তার সামনে বসে আছি-

আমাদের অর্থনীতিবিদ স্যারের মন খুব খারাপ; তাই চুপচাপ রুমে একাকী বসে আছেন। এমন সময় তার পিএস দরজা ঠেলে রুমে ঢুঁকে একটা মুখবন্ধ খাম স্যারের টেবিলে রেখে বলল, স্যার! আপনার জরুরী চিঠি।
– রাখো! বলেই স্যার গর্জে উঠে বললেন, দেখেছো! রাবিশ পোলাপানের কাজকর্ম দেখছো? রাবিশরা আমাকে পচাইয়া ফেলেছে! এটা রাবিশ কর্মকাণ্ড! কিছুতেই এই রাবিশ পচানোটা মেনে নেওয়া যায় না! আবার নাকি আমাকে নিয়ে রাবিশরা- রাবিশ স্যাটায়ারও লিখেছে?
ইয়েস স্যার! আপনার আজকের কারেক্টেড স্টেটমেন্টের পরে সেটা কিছুটা কমেছে। অচিরেই বিষয়টা আমাদের নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে স্যার! চিঠিটা খোলেন স্যার? উপরের চিঠি! বলেই পিএস কাটারটা এগিয়ে দিলেন।
– রাবিশ বলে খামটা খুলেই স্যার একটা ধন্যবাদপত্র পেলেন, তাতে লেখা আছে, “জাতির এই দুঃসময়ে একটা মোক্ষম স্যাটায়ার উপহার দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ! রাবিশ!” – নিচের স্বাক্ষরটা দেখে স্যারের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো! খুশিতে দুহাতে তালি দিয়ে বলে উঠলেন, রাবিশ !!!

১৯/০১/২০১৫ বিকালঃ ২.৫৪