ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

১)
গত কয়েকদিন ধরে, চলতি পথের রেস্টুরেন্টগুলোতে কাবাব বানানোর দৃশ্যের দিকে আর তাকাতে ইচ্ছে করে না; শুধুই মনে পড়ে পেট্রোল বোমায় পুড়ে যাওয়া মানুষের বীভৎস মৃতদেহের ছবি।

আমার মাঝে মাঝে মনে হয়; আচ্ছা আমি যেমন খাসী-মুরগীর পোড়া মাংস যাকে আমরা কাবাব বলি- দেখে খুশি হই; খেতে লোভী হয়ে উঠি। এমন কোন মানুষ কি আছে- এই পুড়ে যাওয়া মানুষের দেহগুলো দেখে আনন্দিত হচ্ছে; খেতে লোভ হচ্ছে তার- কাবাব মনে করে?

২)
অনেকদিন পর, গতরাতে টিভিতে আমাদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখলাম। দেখে বুঝলাম; আমাদের অনেক মাননীয় সংসদ সদস্যেরই স্কুলিং লাগবে- কে বিরোধী দলের বর্তমান নেতা তার নাম ঠোঁটের আগায় রাখতে। প্রয়োজনে স্পীকারের তত্ত্বাবধানে তাদের বাচ্চাদের ধারাপাত মুখস্থ করানোর মত করে এই নামটা মুখস্থ করতে বাধ্য করা হোক! ভুল হলে বেতন কেটে নেওয়া হোক!

কারণ যারা জাতীয় সংসদে ফ্লোর নিয়ে কথা বলবে- তাদের এই ভুল মেনে নেওয়া যায় না; কারণ তা থেকে মানুষ ভুল তথ্য পাচ্ছে, তাদের চিন্তায় গোঁজামিল লেগে যাচ্ছে।

৩)
আচ্ছা! জনাব হিটলার যদি প্ল্যাস্টিক সার্জারি করে সুকান্ত’র চেহারা নিয়ে টিভির টকশোতে বসে ইহুদীদের গুণগান গায়; তাদের প্রতি মায়া দেখায়, শান্তির বানী বর্ষায়; তাহলে কি টিভি দর্শকরা তার সত্যিকারের মনোভাব বুঝতে পাড়বে? নাকি বুঝবে আহা! সুকান্ত কত সুন্দর সুন্দর কথা বলে? ইহুদীদের প্রতি কত মায়া তার? কত বড় শান্তিবাদী সে!

আমি বিশ্বাস করি, সুকান্ত’র চেহারা নিয়ে বসে ভাল ভাল কথা বলা হিটলারের প্রকৃত মনোভাব টিভি দর্শকদের পক্ষে বোঝা সম্ভব না ততক্ষণ পর্যন্ত; যতক্ষণ না তারা জানছে- সুকান্ত’র চেহারার আড়ালে বসে আছে স্বয়ং হিটলার। সে যা বলছে তার সবই মিথ্যা কথা; সে আসলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে টিভির টকশোতে এসেছে।

সময় এসেছে- যারা আমাদের টিভির টকশোতে বসে ভাল ভাল কথা বলছেন- তাদের প্রকৃত পরিচয় যেমন- বাবার নাম ও তার আদর্শ, ঠিকানা, নিজের রাজনৈতিক আদর্শ, গত নির্বাচনগুলোতে কোন দলে ভোট দিয়েছে সে, ইনকাম ট্যাক্স দেয় কিনা, মূল পেশা কি সহ আরও প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো শো শুরু হওয়ার প্রথমেই টিভির দর্শকদের সামনে তুলে ধরা বা স্ক্রিনে ঝুলিয়ে রাখা; যাতে করে সাধারণ মানুষ তাদের কথা থেকে প্রকৃত তথ্য পায়, বিভ্রান্ত না হয়। মনে রাখতে হবে, সংবাদ মাধ্যমের কাজ শুধু তথ্য প্রচার করাই না; তা থেকে মানুষ যেন সঠিক ও নির্ভুল তথ্য পায়- সেটাও নিশ্চিত করা।

২১/০১/২০১৫