ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

visa

“ভারতের অনলাইন ভিসা এপ্লিকেশনে তথা ই-টোকেনে আর Appointment Date নামক সোনার হরিণের প্রয়োজন পড়বে না” – খবরটা [সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ২২ জানুয়ারি ২০১৫] পড়ে আমি সন্তুষ্ট কারণ আমি জানি এতে করে অনেক মানুষ হয়রানির শিকার থেকে বাঁচবে; বাঁচবে তাদের অনেক টাকাও। যদিও সুযোগটা ভ্রমণ ভিসার জন্য দেওয়া হয় নাই তারপরেও আমি খুশি! এতে করে ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসহ জরুরী ভিত্তিতে যারা ভারতে যেতে চায় তারা উপকৃত হবে।

ফেব্রুয়ারির প্রথমদিন থেকেই ঢাকা’র ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রগুলোতে Appointment Date ছাড়াই সরাসরি ইটোকেন ফর্ম পূরণ করে ভিসা অফিসে দাঁড়ানো যাবে।

কিন্তু যারা ভিসার জন্য দাঁড়াবে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো ঠিকঠাক করে নিয়ে যেতে হবে। আমি দেখেছি অনেকেই স্রেফ কেয়ারলেসের কারণে কিছু কিছু ভুল করে; যার কারণে তারা রিফিউজড হন। যেমন-

১) ফর্মে নিজের নাম, জন্ম তারিখ, বাবা-মা-স্পাউসের নাম ভুল করেন অনেকেই- এটা গ্রহণযোগ্য না ওদের কাছে। অর্থাৎ একবারে নির্ভুল ফর্ম নিতে হবে। তারা যা চাচ্ছে সেই তথ্য ১০০% সঠিক দিতে হবে এবং নিজের পাসপোর্ট ও ইউটিলিটি বিল সামনে রেখে ফর্ম পূরণ করতে হবে। অন্যথায় ভুল হবে এবং ভিসা পাওয়া যাবে না।

২) পাসপোর্টের প্রথম ৪-৫ পাতার ফটোকপি নেন না অনেকেই। আবার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপিও অনেকেই জমা দেন না বা অন্যেরটা এডিট করে নিজের নামে জমা দেন অনেকেই। – এটা চলবে না।

৩) রিসেন্ট পাসপোর্ট সাইজের ছবির কথা বলা হলেও অনেকেই অনেক পুরাতন ছবি নিয়ে হাজির হন, অনেকে আগের ভিসার হুবহু ছবি প্রদান করেন; অনেকেই পুড়নো ছবি কম্পিউটারে এডিট ও প্রিন্ট করে নিয়ে যান। এগুলো করা যাবে না। দালালকে তিন হাজার টাকা দিতে পারলে স্টুডিও থেকে নতুন ছবি তোলার জন্য ১০০ টাকা খরচ করলে ক্ষতি কি?

৪) ফর্ম পূরণের সময় বর্তমান ঠিকানার বিদ্যুৎ/পানির বিলের ঠিকানার মিল থাকে না; যা অত্যন্ত জরুরী। আবার অনেক পুরাতন বিল নিয়ে হাজির হন। – এটা করবেন না। আবার অরিজিনাল কপিটা সাথে নিয়ে যাবেন এবং পাসপোর্টের সাথে পিন-আপ করে জমা দিবেন।

৫) ব্যাংক স্টেটমেন্টে কমপক্ষে ১৫,০০০ টাকা ব্যালেন্স রেখে জমা দিন একজনের জন্য। যদি আপনার সাথে ফ্যামিলি থাকে তাহলে প্রতিজনের জন্য আরও ১৫,০০০ টাকা করে রাখুন। অথবা ১৫০ ইউএস ডলার প্রতি পাসপোর্টে এন্ডোরস করুন; পুড়নো পাসপোর্ট যদি থাকে তা নতুনটার সাথে স্টাপলারের পিন দিয়ে শক্ত করে আটকিয়ে দিন। অন্যথায় বিদায় খালি হাতে!

সবচেয়ে ভাল হয় অনলাইনে সেসব নিয়মের কথা লেখা আছে ভিসাভেদে তা ভাল করে পরে নিন; নিজে না বুঝলে অন্যের সাহায্য নিন কিন্তু গা জোয়ারকি করে ভিসা পাবেন না!

সবশেষে আমি আবারও দাবি জানাচ্ছি- যারা ভ্রমণ ভিসা নিয়ে ভারতে যেতে চায় তাদের ই-টোকেনে তারিখটা তাৎক্ষনিক দেওয়া হোক! হোক না সেটা ১-২ মাস পরের। তাতেও অনেক মানুষ হয়রানি থেকে বাঁচবে। বাঁচবে অনেক টাকা। কমবে দুর্নীতি! দালালের হয়রানি!

কমবে ভিসার নামে ব্ল্যাকমেইলিংও —

ভারতের ভিসা অফিসকে মনে রাখতে হবে- ডিউ প্রসেসে দুর্নীতি বা অবহেলা রেখে শুধুমাত্র ঘোষণা দিয়ে দালালের হয়রানী কমানো যাবে না; বরঞ্চ সুযোগগুলোকে আরও সহজ ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনলে এটা এমনিতেই কমবে!

ধন্যবাদ !!!

অফটপিকঃ আমি ভারতের ভিসা পেতে ও ভিসাকেন্দ্রে ঘুরে যা জেনেছি তাই লিখলাম!

২২/০১/২০১৫

পূর্বের লেখাঃ

১) ভারত ভিসার ইটোকেন ভেল্কি
২) ভারতের ভিসার ডেট পেতে কত টাকা লাগে?