ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

১)
চলমান অবরোধে প্রতিদিন রাস্তায় চলাচলকারী কর্মব্যস্ত নিরীহ মানুষগুলো পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ছে। পোড়ার হাত থেকে ট্রাক ড্রাইভার থেকে শিশু; কেউই রেহাই পাচ্ছে না। কেউ জানে না কে কবে পুড়বে? কোথায় পুড়বে? কতটুকু পুড়বে? বেশী না কম? বাসে পুড়বে নাকি ট্রাকে পুড়বে; নাকি সিএনজি, হিউম্যান হলারে? সবই অনিশ্চিত! নিজে সেফ থাকলেও জানে না কেউ, কখন তার জন্য দুঃসংবাদ হয়ে আসবে বাবা-মা ভাই-বোন-স্বামীর পোড়ার খবর!

এই যে আমি লিখছি আর শুনছি- কলিগ মান্নান ভাইয়ের মোবাইল কথোপকথন; গতরাতে যাত্রাবাড়ীতে পুড়ে যাওয়া এক দুর্ভাগা মানুষের কথা; যিনি আমাদেরই এক ডিলারের বোনের জামাই যার মাথাসহ মুখোমন্ডল পুড়ে গেছে। স্থান হয়েছে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে। বুঝলাম! ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হচ্ছে! এটা শুনে মৃত্যু ভয় সবাইকে গ্রাস করছে। আগুনে পুড়ে মৃত্যু বড়ই নির্মম; আহত হয়ে বেঁচে যাওয়া আরও!

২)
আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করছি- কিছু কিছু মানুষ; নিরীহ মানুষদের উপর পেট্রোল বোমা মারাটাকে সমর্থন করছে; অন্যকে মেরে নিজের ভাল চাচ্ছে! নিজেদের আদর্শের প্রতিষ্ঠা চাচ্ছে! বাংলায় একটা প্রবাদ আছে- “নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করা” – সব দেখেশুনে প্রবাদটি যারা তৈরি করেছে সেইসব নাম না জানা প্রাচীন মানুষদের স্যালুট জানাতে ইচ্ছে করছে, বলতে ইচ্ছে করছে- তোমরা আসলেই আমাদের চিনেছিলে!

৩)
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে- আমাদের দেশে ক্রমেই একটা ফিল্ড তৈরি করা হচ্ছে বোমা বর্ষণের; সন্ত্রাসবাদের বাজার তৈরি করা হচ্ছে! এখানেও একটা বাংলা প্রবাদ মনে পড়ছে, “কানাকে পথ দেখিয়ে লাভ নাই!” প্রবাদে ‘বাংলা’ আসলেই অনেক ধনী।

বাড়ীর সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যেতে যখন গেটপাস লাগবে; তখনও বাঙ্গালী খুশি হবে কারণ সেই প্রবাদ ‘অন্যের যাত্রাভঙ্গ’! তবে মনে করি, এবার বাঙ্গালীর, ‘বানরের রুটি ভাগে’র গল্পটার কথাটাও মনে রাখা উচিত! আবার এটাও বলতে ইচ্ছে করছে- This is not end; It’s a just beginning!

৪)
একটা গল্প বলি- আমাদের পাড়ার একটা ছেলেকে ছোটবেলায় আমরা দুরা বলে ক্ষ্যাপাতাম। এখানে বলে রাখি আমাদের অঞ্চলে কচ্ছপকে ‘দুরা’ নামে ডাকা হয়। ক্ষ্যাপাতে ক্ষ্যাপাতে ওর নামই একসময় ‘দুরা’ হয়ে গেল। আসল নাম আমরা কেউই জানি না। কারণটা বলি-

দুরা’র বাবা বাজার থেকে একটা বড় কচ্ছপ কিনে এনেছে। কচ্ছপটা যেন পালাতে না পারে সেইজন্য দুরার বাবা সেটাকে বাড়ীর আমগাছের নিচু ডালে পায়ে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে রেখেছে। এমন সময় দুরা খেলাচ্ছলে ঝুলন্ত কচ্ছপের মাথার নিচে যেয়ে বলছে, দুরা আজ তোরে আমরা খামু, রান্না করে খামু” হটাৎ করেই কচ্ছপটি তার কুঁচকে রাখা মাথা দিয়ে দিলো এক কামড় দুরা’র ঠোঁটে। কচ্ছপের কামড় বলে কথা; মাথা কেটে তবেই দুরার রক্ষা!

অবরোধীয় অবসরের ছিন্নভাবনা-১

২৪/০১/২০১৫ সকাল ১১.৫১