ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

যাদের, বাসার চুলায় জল ফোটানোর অভিজ্ঞতা আছে তারা জানেন ফোটানোর একটা পর্যায়ে ‘জল’ আর গরম না হয়ে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। অর্থাৎ জল বেশীক্ষণ ফোটালে তা পাতিল থেকে ক্রমাগত কমতে থাকে এবং ফোটানো বন্ধ করা না হলে একপর্যায়ে পুড়ো পাতিলের জলই শুকিয়ে যায়। এমনকি তাতেও যদি কেউ ক্ষান্ত না হয় বা চুলা না নেভায়? তাহলে দেখা যাবে একসময় পাতিলটাও পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে এবং সবশেষে দেখা দিবে ঘরে আগুণ লাগার সম্ভাবনার; ঘরের আগুনে নিজেদের পুড়ে মরার।

জল ফোটানোর আর একটা কায়দা আছে- যদি কেউ জলকে খুব বেশী এবং দ্রুত গরম করতে চায় তাহলে তাকে পাতিলটাকে একটা ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে; তাতে করে জল দ্রুত গরম হবে। এক্ষেত্রে তাকে একটা পর্যায়ে থামতে হবে বা ঢাকানা সরাতে হবে বা চুলা নেভাতে হবে; নইলে উত্তাপ বেড়ে পাতিলটা একসময় বিস্ফোরিত হয়ে আশেপাশের সবাইকে পুড়িয়ে মারবে।

অতএব বোঝা যাচ্ছে জল ফোটানর দ্বিতীয় তরিকাটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ; গাণিতিক হিসেবে ভুল হলে পরিণাম হবে নির্মম।

বর্তমানে দেশব্যাপী বেগম জিয়া যে আন্দোলন চালাচ্ছেন, তার সাথে জল ফোটানোর ঘটনাটাকে যদি কেউ মেলান তাহলে দেখবেন, বিএনপি জোট তাদের সর্বোচ্চ শক্তি বা তাপ দিয়ে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ৩০-৩২ দিন ধরে। এতে করে তাদের পাতিলে থাকা সকল রসদ, কায়দা, নির্মমতা, বোমাবাজি, মানুষ পুড়িয়ে মারা’র আইটেমগুলো ইতিমধ্যেই ব্যবহার করে ফেলেছে তারা। এবার এগুলোর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে কমবে এবং সেটা হবে মানুষের রোষে, প্রতিবাদের মুখে। এমনকি যারা তাদের গোপনে এতদিন ধরে এটা করতে উৎসাহ দিয়েছিল; সেই আমেরিকাও এবার বেগম জিয়াকে পরিত্যাগ করবে অথবা বিকল্প খুঁজবে- এমন ভয়াবহ মানুষ পোড়ার ছবিগুলো দেখে। কারণ তাদের দেশেও তো মানুষ আছে? আছে বিরোধী দল, আছে জনগণের ম্যান্ডেট নেওয়ার দায়। এছাড়াও আছে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়ার ভয় কারণ ইতিমধ্যেই তারা অনেকগুলো ফ্রন্ট একসাথে খুলে ফেলেছে যার সাথে তাল এখন নিজেরাই রাখতে পারছেনা।

অপরদিকে রাশিয়া ইউরোপের দিকে ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছে; যার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন নিজেদের বাড়ী পোড়ার ভয়েই আতঙ্কিত। রাশিয়ান ভল্লূকদের এগোতে দেখে তাদের এখন কাপড় নষ্ট হয়ে যাওয়ার জোগাড়; মুখে যতই হুমকি ধামকি দিক, ন্যাটোর ভয় দেখাক; বাস্তবতা হলো জার্মানি- ফ্রান্স জানে এই ভল্লুকের থাবা কি জিনিষ? আবার ভারতের মোদী সরকার যতই ডানপন্থী হোক, তারাও নিশ্চয় চাইবে না তাদের উত্তর-পূর্বদিকে আর একটা পাকিস্তান-আফগানিস্তান স্থাপিত হোক। দশ ট্রাক অস্ত্র ও উলফার আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কথা, ২০০১ সালে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের কথা নিশ্চয় তারা ভুলে যায়নি? যদি না তারা পাগল হয়ে থাকে? বড়জোর তারা তৃতীয় কোন পক্ষকে চাইতে পারে সবশেষের বিকল্প হিসেবে কিন্তু এতে বেগম জিয়ার কোন লাভ হবে না। এছাড়া চীনও এটা চাইবে না যতই সে পাকিস্তানকে বন্ধু ভাবুক। মনে মনে ইতিমধ্যেই তারা উইগুরদের নিয়ে পাকিস্তানের উপর বেজায় নাখোশ। আবার চীন নিশ্চয় আমাদের আর এক পড়শি- মায়ানমারের কথা ফেলবে না? কারণ তাদেরও আছে জঙ্গিবাদের ভয়। কে চায় পাশের ঘরে আগুণ লাগাতে কারণ আগুণের ধর্ম সবারই জানা!

এবার আসি জল ফোটানোর দ্বিতীয় পদ্ধতির দিকে- যারা বলেন বেগম জিয়াকে গ্রেফতার বা আটক করে জেলে নেওয়া উচিত; তারা কিন্তু জল ফোটানোর পাতিলে ঢাকনা দিতে চাচ্ছেন? এতে করে বিস্ফোরণের আশংকা থাকবে। থাকবে অহেতুক নিজে পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

তাই আমি মনে করি, বেগম জিয়াকে গ্রেফতার করা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। এতে করে সে গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পাবে; যা সে ইতিমধ্যেই হারিয়েছেন। সরকারের তথা আওয়ামী লীগের উচিত উল্টাপাল্টা কথা না বলে আইনের কঠোর প্রয়োগের দিকে নজর দেওয়া। যেসকল কারণে বা নেতার কারণে বা জোচ্চোরদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে- তাদেরকে সমূলে ছেঁটে ফেলা; দলে সংশোধন এনে দলকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি মানুষের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনা। বিপক্ষের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দেওয়া কোনমতেই বুদ্ধিমানের কাজ না।

বরঞ্চ পাতিলের ঢাকনা খোলা রাখলে- জল এমনিতেই বাষ্প হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে, তারপর নিজেরা পুড়বে নিজেদের লাগানো আগুনে!

প্রকৃতির নিয়ম সবখানেই এক >>>

০৬/০২/২০১৫ বিকাল: ৩.১০