ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে না পারলে বা নিজেকে সেই উপযোগী না করলে যে কেউই বিলুপ্ত হয়ে যাবে, বিজ্ঞানের এই প্রমাণিত বাক্যকে যে মানবে না সে শুধু কপাল চাপড়াতে থাকবে আর নিজের ভাগ্যকে দুষতে থাকবে।

বলছিলাম, দিল্লির নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একেবারে ধুয়ে মুছে যাওয়া নিয়ে। বছরখানেক আগেও যারা এখানে ক্ষমতায় ছিল; মেয়াদান্তে নির্বাচনে হারলেও সম্মানজনক আসন পেয়েছিল; এবার সেখানে একটা আসনও পায়নি তারা। ক্ষমতাসীন বিজেপি মাত্র ৩ টা পেয়ে মুখরক্ষা করেছে ৭০ টার মধ্যে। বোঝা যাচ্ছে, দিল্লীর মানুষ আর সবার চেয়ে শ্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে বেশী পছন্দ করেছে; নিজেদের আদমি ভেবেছে তাকে। তাই এবার দলবেঁধে ঝাড়ূ বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে। যাক সেসব কথা; মূল প্রসঙ্গে আসি-

ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের প্রধানতম দল ছিল এই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যার শুরু হয়েছিল শ্রী মহাত্মা গান্ধীর হাত ধরে। কিন্তু শ্রী গান্ধী, তার প্রতিষ্ঠিত দলে নিজের ছেলেকে প্রতিষ্ঠা করেননি; করেছিল দলের যোগ্য নেতাদের। কিন্তু পরবর্তীতে শ্রী জহরলাল নেহেরু ও তার পরিবার দলটা একেবারেই পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলেছে। এমনকি দলের নেতারাও তাদের নিজ নিজ এলাকায় তাদের সন্তানদের প্রতিষ্ঠা করেছে রাজনৈতিক ডাইনেস্টির উত্তরসূরি হিসেবে। আবার কংগ্রেসের এই কার্যকলাপ ভারতের অন্যান্য বড় ও প্রাদেশিক দলগুলোও অনুসরণ করেছে; ফলে মানুষ বিকল্প বেছে নিয়েও ঠকেছে। চুলার আগুণ থেকে গরম কড়াইয়ে পড়েছে বারবার। মানুষ দেখেছে- তারা যাদের পাল্টাপাল্টি করে ভোট দিচ্ছে; তাদের সবাই একই কিছিমের মানুষ; শোষণকারী ও অপরাধী; নয়ত বাবা-মা’র হাত ধরে রাজনীতিতে এসে তাদের উপর চেপে বসেছে এবং কেউই নিজেদের মানুষ না।

মানুষের পক্ষে এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়ার মত বিষয় ছিল না এতদিন ধরে; তাই ডাইনেস্টিজমের পারফেক্ট বিকল্প পেয়ে তারা তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে প্রথমে ২০১৩ সালে দিল্লির প্রাদেশিক নির্বাচনে শ্রী অরবিন্দকে বেছে নিয়েছিলেন দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে। তারপর ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তারা বেছে নেন শ্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাদের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। দুইজনই ভারতের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ডাইনেস্টিকে চ্যালেঞ্জ জানানো মানুষ।

আমি ধারণা করছি, ভারতে আগামী দিনে রাজনৈতিক ময়দানে লড়াই হবে শ্রী মোদী ও শ্রী কেজরিওয়াল মধ্যে। এখন ভারতের জাতীয় কংগ্রেস যদি মানুষের সেই চাওয়া অনুযায়ী নিজেদের ঝাড়ে-বংশে পরিবর্তন করতে না পারে; তাহলে অচিরেই তারা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

তারপর, ডাইনেস্টি ধুয়ে ধুয়ে জল খেতে হবে!

পূর্বের লেখাঃ ভারতের আগামি দিনের নায়ক জনাব কেজরিওয়াল

১১/০২/২০১৫ সকাল: ১০.০২