ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

সুতপা ওর ইংরেজি খাতাটা এগিয়ে দিয়ে বলল, বলো তো বাবা; কি লিখেছি?
আমি বললাম, C U লিখেছো মা!
ও বলল, মটু-পাটলু বলে, “সিঙ্গম স্যার See You” – তাই লিখলাম বাবা।
— মেয়ের শর্টহ্যান্ড দেখে, চামে ভাত বেশী খাইলাম!

১৭/০২/২০১৫ রাতঃ ৯.০০

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আণবিক বোমায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া জাপানে যেয়ে মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইন যেমন সবার সামনে মাটিতে হাঁটুমুড়ে বসে জোড়হাতে ক্ষমা চেয়েছিলেন, এই বোমার ফর্মুলা আবিষ্কারের জন্য।

তেমনি আজ যদি মহাত্মা গান্ধী ফিরে আসতেন, তাহলে বাংলাদেশে তার আবিষ্কৃত হরতালের খুনে ব্যবহার দেখে- এদেশে এসে কেঁদেকেটে মাটিতে গড়াগড়ি খেতেন আর বলতেন, “ওরে তোরা আমাকে আবারও মারিস নে”!
— মারিস নে বাপ!

১৭/০২/২০১৫ রাতঃ ৯.২৩

খবরে দেখলাম- মঙ্গলে মেঘ দেখে বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ! আরে ভাই! এতে কপালে ভাঁজ পড়ার কি আছে? ওখানে জল আছে না বরফ আছে, অক্সিজেন আছে না হাইড্রোজেন আছে; না কার্বনডাই অক্সাইড আছে? এসব নিয়ে টেনশনের কি আছে? আর এত এত কিউরিসিটি, মঙ্গলযান পাঠানোর দরকারটাই বা কি? পৃথিবী থেকে সব গাছের বীজ আর তেলাপোকা-কেঁচো বস্তা বোঝাই করে নিয়ে ওখানে ঢেলে দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়! ওরাই জানান দিবোনি আমরা মানুষ যা চাচ্ছি তা ওখানে আছে কি নাই? পৃথিবী থেকে মাঝে মাঝে টেলিস্কোপে চোখ রাখলেই তো বোঝা যাইতো মঙ্গলে কি হইতেছে!
— লাল থেকে সবুজ হইতেছে কিনা?

১৭/০২/২০১৫ রাতঃ ১১.০০

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লাগছে, ইউরোপে লাগু লাগু করতেছে কিন্তু ওদিকে মানে আফ্রিকায় যে অলরেডি লাইগা গেছে সেদিকে দেখি কারো খেয়াল নাই? বোকা হারামকে হারানোর লাইগা ক্যামেরুন, নাইজার আর চাঁদ যে সমানতালে ফাইট দিতেছে নাইজেরিয়ার সরকারের সাথে মিলা; আমরা কিন্তু তা জানি না। জানলেও খেয়াল করতেছি না। তাতে তো ওখানে মানুষ মারা আর মরা বন্ধ হয় নাই বরঞ্চ বাড়তেছে? ইউরোপের চেয়ে অনেক বেশী মরতেছে ওখানে।
— নাকি ওরা কালো বইলা মরার পরেও ওদের দাম নাইক্যা?

১৭/০২/২০১৫ রাতঃ ১১.২০

খবরে দেখলাম- বিএনপির খোকন কইতেছে, আমাদের ম্যাডাম মহাত্মা গান্ধীর মত শান্তিবাদী আন্দোলন করতেছে। শুইনা, আমারই গলায়; আমার হাঁসিটাই আঁটকে গেলো! তারপর পুড়াই ফিট হইলাম! ভাগ্যিস গান্ধীজীকে গডছে মারছিলো; না হলে এবার তিনি নিজেই সুইসাইড খাইতো! বলত, “ওরে, তোরা কেউ আমার গায়ে পেট্রোল বোমাটা ঢেল দে রে”! এ জীবন রাখার চেয়ে পুইড়া মরি!
— গ্যারান্টি!

১৭/০২/২০১৫ রাতঃ ১১.৩০