ক্যাটেগরিঃ কৃষি

সকালেই ব্লগে সহব্লগারের ফ্রান্স থেকে পোষ্ট করা ভেন্নাফলের ছবিটা দেখে মন ভাল হয়ে গেল। দারুণ দেখতে লাল টকটকে! ছবিটা দেখে আমার প্রথম একপ্রেশনটাই ছিল, আরে! এই গাছ তো দেখি সব জায়গায় আছে? এটা আমাদের বাড়িতে দেখেছি, ভারতের অনেক জায়গায় দেখেছি, ইয়াঙ্গুন শহরের সবজায়গায় দেখেছি, ভুটানে-নেপালে বাই রোডে যেতে দেখেছি- রাস্তার ধারে; রেললাইনে। দেখেছি পাহাড়-পর্বতের আনাচে কানাচেও।

বৃষ্টি মৌসুমে এই গাছ খুব দ্রুত বাড়ে আর এর পাতাগুলো দেখতেও চমৎকার হাতের তালুর মত পাঁচ দিকে ছড়িয়ে থাকে। ছোটবেলায় এর ডান্ডি নিয়ে নদীতে নামতাম; ডুবরিদের মত করে পাইপ বানিয়ে ডুব দিয়ে জলের উপর থেকে নিঃশ্বাস নিতাম। আবার এর ফাঁকা ডান্ডিতে কুড়িয়ে আনা মোম জ্বাল দিয়ে ঢেলে রঙ বেরঙের মোমবাতি বানাতাম।

এর বীজ থেকে একধরনের ঘন তেল হয় যাকে ‘ভেন্নারতেল’ বলে। ছোটবেলায় আমার স্কুল বন্ধু’র বাড়ীর ‘তেলের ঘানীতে’ দেখেছি সরিষার সাথে এগুলো গোপনে মিশিয়ে তেল বানাতে! আবার এর তেল দিয়ে ভাল সূতা পরিষ্কার ও নরম হয়; ব্লিচিং আর কস্টিকের সাথে এর ব্যবহার করা হত। সম্ভবত কেমিক্যালগুলোর দাম বেড়ে গেলে তাদের বিকল্প হিসেবে এর ব্যবহার বাড়ত, বাড়ত মুদিদের কদরও।

আমাদের বাড়ির ‘ডাইং ঘরে’ সূতা রঙ করার আগে চৌবাচ্চাতে জলের সাথে এই তেল মিশয়ে তাতে সূতা ভেজাতে দেখেছি। আর ‘ভেন্না ভেজালের সরিষা তেল’ মাথায় মেখে স্নান করে কেঁদেছি চুলে আঠা হয়ে যাওয়া কারণে। প্রতিদিন স্নানের আগে এই তেল মাথায় দেওয়া নিয়ে মা’র সাথে ক্যাচাল করতাম। পরে আমরা এর রাগ ঝাড়তাম, মুদিদের উপর যারা আমাদের পাড়ায় মাথায় করে ঝাঁকা ভর্তি ভাঁড় নিয়ে ঘুরত সরিষার তেল বিক্রি করতে। খুব ছোটবেলায় দেখেছিলাম, আমাদের ইঁদারার পাশের নোংরা কাঁদায় কাকারা এক তেলীকে তেলের ভাঁড় ভেঙ্গে তা গলায় ঝুলিয়ে চোবাচ্ছে।

অবশ্য বর্তমানে এই তেলের আপগ্রেড হয়েছে; বেড়েছে স্ট্যাটাস। আর তাই এবার আর ভেজাল নয়, এখন উন্নত দেশগুলোতে এই তেলবীজ থেকে হচ্ছে সরাসরি বায়োডিজেল বা বায়োফুয়েল।

তবে এই গাছের কাণ্ডের কোন মূল্য নেই; কাউকে ‘অপদার্থ’ বোঝাতে বলা হয়, “ও হল ভেন্নাকাঠ!”

এই যেমন ‘আমি’ !!!

অফটপিকঃ আমি জানি যাত্রোফা (Jatrofa) আর আমাদের ভেন্নাগাছ একই প্রজাতি।

১৯/০২/২০১৫