ক্যাটেগরিঃ জানা-অজানা

ভয়েজার, মানবের তৈরি একটা মহাকাশ যানের নাম। ১৯৭৭ সালে, পৃথিবী থেকে একে সৌরজগতের গ্রহগুলোকে পর্যবেক্ষণের জন্য রকেটের মাধ্যমে মহাশূন্য উৎক্ষেপ করা হয়। আজ ৩৬ বছর পর সে সৌরজগতের সব গ্রহকে পর্যবেক্ষণ শেষ করে এমন একটা শীতল ও অন্ধকারময় স্থানে পৌঁছে গেছে, যেটা আসলে দুই নক্ষত্রের মধ্যবর্তী একটা ফাঁকা জায়গা; যাকে বলে ইন্টারস্টেলার স্পেস। এই স্থানের বাস্তব কোন অভিজ্ঞতা মানুষের নেই, সেখানে নেই সূর্যের কোন নিয়ন্ত্রণ অর্থাৎ ভয়েজার এখন বাস্তবিক এক স্বাধীন জগতে।

এখন থেকে সে বাঁধা-বিঘ্ন হীনভাবে ক্রমাগত চলতে থাকবে সামনের দিকে এবং পৃথিবীতে পাঠাতে থাকবে তার সংগৃহীত তথ্য, উপাত্ত ও ছবি। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহের যে ব্যবস্থা আছে, তাতে করে ধারণা করা হচ্ছে যে, সে আরও ১০ বছর এভাবে তথ্য ও ছবি পাঠাতে সক্ষম হবে। তারপর সে আর কোন তথ্য পৃথিবীতে পাঠাবে না, হয়তবা পৃথিবীর সাথে আর কোন যোগাযোগও রাখবে না!

কিন্তু তাতে কি হয়েছে? এরপরও সে চলতে থাকবে, চলবে সে এক সীমাহীন গন্তব্যের পথে, হয়ত এভাবে চলতে চলতেই সে একদিন পৌঁছে যাবে অজানা কোন এক নক্ষত্রের বলয়ে এবং পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করবে সেখানকার গ্রহ উপগ্রহগুলোকে। ততদিনে হয়তবা পৃথিবীতে শত কোটি বছর পেরিয়ে যাবে, বিলুপ্ত হয়ে যাবে মানব সভ্যতারও। সেই সময়টাতে এতে সংগৃহীত ছবি ও তথ্যগুলো হয়ত পাবে অন্য কোন গ্রহের, বুদ্ধিমান কোন প্রাণী।

বিজ্ঞানীরা কিন্তু এই বিষয়টা আগে থেকেই ভেবে রেখেছিল, আর তাইতো এতে রাখা আছে, পৃথিবীর মানুষ থেকে শুরু করে নানা জীব, পশু-পাখির, ছবি, শব্দ, সঙ্গীত, ভাষা। এমনকি বাংলা ভাষার রেকর্ডও আছে এতে। যাতে করে কোন বুদ্ধিমান প্রাণী যদি কোনদিন এটার সন্ধান পায়, তাহলে সে জানতে পারবে পৃথিবী নামক হারিয়ে যাওয়া এক নীল গ্রহ সম্বন্ধে!

তারা জানুক, এতে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু আমার মুল প্রশ্নটা হল, যদি এর সন্ধান কোন বুদ্ধিমান প্রাণী কালেই না পায়? বা পুরো ইউনিভার্সে আদৌ যদি কোন বুদ্ধিমান প্রাণী না থাকে বা কোন প্রাণই না থাকে? তাহলে এসব পাঠানোর দরকারটা কি? কোন মানে কি খুঁজে পাওয়া যাবে?

তারচেয়ে কি এটা ভাল হত না যে, এসবের সাথে পৃথিবীর নানা প্রজাতির উদ্ভিদ ও বৃক্ষের বীজের পাশাপাশি এককোষী প্রাণী ও কেঁচোর, তেলাপোকার জীবন্ত কিছু নমুনা পাঠিয়ে দেওয়া? তাতে হয়ত ছড়িয়ে যেতে পারত “প্রাণ” বা আমাদের প্রেরিত এলিয়েন!

অবশ্য সবই সম্ভাবনা; নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না!

হয়তবা এমন একটা সময় আসবে, যখন ভয়েজারকেই মানব প্রেরিত এক এলিয়েন যান হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, রটবে কল্পকাহিনী

অন্য কোন গ্রহে …

আমাদের মত করেই …

১১-৫০ রাত, ২২/০৯/২০১৩

এই মহাকাশ যানটি ছুটে চলছে অজানার পথে। ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে আমাদের চেনা সৌরজগৎ থেকে। এটা বানানোর সময় বিজ্ঞানীরা যা ভাবতে পারেনি তারচেয়ে অনেক বেশী ইতিমধ্যেই সে দিয়ে ফেলেছে। আর তাই তো এর কাছে এখন মানুষের চাওয়া আরও বেশী।

চার বিলিয়ন মাইলেরও বেশী দূর থেকে ভয়েজারের তোলা ‘পৃথিবী’র ছবি। ছোট নীল বিন্দুগুলোই আমাদের চেনা এই ‘পৃথিবী’; আমাদের বাসস্থান।

আর ও ছুটছে আমাদের তথ্য নিয়ে; বাংলা ভাষা নিয়েও >>>

আপডেট: ২১/০২/২০১৫

সুত্রঃ নাসা ও বিবিসি

পূর্বের লেখাঃ সামুতে আছে।

slide