ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 
আমাদের মোনেম ভাইয়ের লেখা মানেই ভিন্ন চিন্তা, ভিন্ন ভাবনা ও ভিন্ন স্বাদের অন্যকিছু। ব্লগে ঢুকলেই আমি সবার আগে ওনার পোষ্ট-কমেন্ট খুঁজি। তারপর অন্যদিকে তাকাই।তার আজকের লেখাটাও বরাবরের মতই চমৎকার।

লেখাটা পড়ার পরে আমার মনে হল, আমারও কিছু বলার আছে। হয়ত ওনার স্ট্যান্ডার্ডে লিখতে পারবো না কিন্তু প্রতিক্রিয়ায় কিছু না লিখে বসে থাকাটাও যুক্তিযুক্ত না; তাই শুরু করছি-

পোশাক বিষয়ক:

পোশাক বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত মত হলো, পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি ও স্বধর্ম মেনেই তা পরিধান করা উচিত। আমগাছে যেমন তালপাতা এখন আর মানাবে না; তেমনি মানাবে না কলাগাছে কাঁঠালপাতা। আবার মিয়ামী বিচে যেমন স্যুট-টাই পরিধান করা হবে হাসির খোরাক; তেমনি ঢাকা শহরে মিনিস্কার্ট পড়া হবে চরম দৃষ্টিকটু। এক্ষেত্রে প্রকৃতি ও পরিবেশই মুখ্য। তাই বিতর্ক এড়াতে আমরা “যেদেশে যে বাউ সেইভাবেই নাও বাও” বাংলা প্রবাদটির সহায়তা নিতে পারি। এতে সমস্যার পূর্ণ সমাধান না হলেও বাঁচা যাবে।

আচরণ বিষয়কঃ

মানব-মানবীর আচরণ নিয়ে আলোচনার আগে আমি একটা রূপকের আশ্রয় নেব-

ধরুন, দুটো মোমবাতি পাশাপাশি রেখে তাদের পলতে দুটোতে একসাথে আগুণ দেওয়া হলো কিন্তু ঘটনাক্রমে প্রথম মোমের পলটাতে আগুণ ধরলেও দ্বিতীয়টাতে আগুণ ধরল না। এখন আগুনের ধর্ম অনুযায়ী সে পাশের না জ্বলা পলতেটাকে বারবার জ্বালাতে চেষ্টা করবে; তাতেও যদি সেটা না জ্বলে, তখন কিন্তু ‘আগুণ’ দ্বিতীয়টার গা পোড়াতে থাকবে।

ধরুন, ব্যাপারটা মানব-মানবীর মধ্যে ঘটলো অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী বা প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসার রসায়নে দুইজন সমানভাবে সাড়া দিলো না। তাতে করে পরস্পরের মধ্যে মনোমালিন্য বা জোরাজোরি হবে। একপক্ষ অন্যপক্ষকে সন্দেহের চোখে দেখবে। আরও অনেক অনেক সমস্যা তৈরি হবে, এমনকি ধর্ষক বা যৌন হয়রানকারী হিসেবেও ভাবাভাবি হবে। আদালত পর্যন্তও গড়াতে পারে বিষয়টা। স্বামী কর্তৃক স্ত্রী ধর্ষণ বা প্রেমিক কর্তৃক প্রেমিকা হয়রানীর মত ঘটনাগুলো এভাবেই ঘটে। অবশ্য এছাড়াও আরও কারণ থাকতে পারে।

এক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান হলো, যিনি একটিভ তাকে ডিএকক্টিভের সমস্যাটা বুঝতে হবে; সময় দিতে হবে বা মেনে নিতে হবে। আর খুব বেশী বাড়াবাড়ি হয়ে গেলে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি কুল ডাউন করতে হবে।

পুরুষের শয়তানী সমস্যা বিষয়কঃ

এই বিষয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগে আমি কয়েকটি কেস স্টাডি চালাবো-

১) আমি একজন বিপত্নীক ৯০ বছর ঊর্ধ্ব পুরুষকে দেখেছি, যিনি সকালে-বিকালে রাস্তার পাশে বসে থেকে ছোট ছোট স্কুলগোয়িং মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকতো। তার চোখ কোথায় কোথায় ঘুরত তা এখানে না বললেও; মানুষের লজ্জা থেকে বাঁচতে অগত্যা তার ছেলে-নাতিরা একটা গরীব অথচ উর্বশী মেয়েকে তার ঘরণী বানাতে বাধ্য হয়েছিল। অবশ্য উর্বশীর শরীরের উষ্ণ সান্নিধ্য ঘাটের মরাটার বেশীদিন পাওয়ার সৌভাগ্য না হলেও ঠিকই উর্বশীর উর্বর গর্ভে তার বীজ বপন করার সক্ষমতা দেখিয়েছিল।

২) আমি একজন স্মার্ট, শিক্ষিত, সংসারী পুরুষকে জানি, যিনি তার পছন্দের একটা মেয়েকে কোনভাবেই কায়দা করতে না পেরে, এমন একটা ফন্দি করতে শুরু করলো- যা এখানে বলা লজ্জাজনক। আবার এই লোকটার শয়তানী প্রকাশ করতে হলে সেটা বলতেই হবে। সে যেটা করতো তা হলো, সেই মেয়েটি টয়লেট থেকে বের হলেই সে টয়লেটে ঢুকত আর এই কাজ করার জন্য সে সারাক্ষণ তক্কে তক্কে থাকতো। এখন সে টয়লেটের ভিতরে কি করতো সেটা জানা না গেলেও, সে যে এটা থেকে ‘যৌন সন্তুষ্টি’ পেত তা বোঝার জন্য ফ্রয়েড হতে হয় না। আমার ধারণা, “মাংস না পেলে কি হবে, ঝোল খা!” এই প্রবাদটা শালার পুত জানত এবং করত তার বাস্তবায়ন বর্জ্যের উপর বর্জ্য ফেলে।

৩) আমি এমন কিছু ভদ্র, শিক্ষিত ও মার্জিত পুরুষকে চিনি- যারা বিদেশের মাটিতে পা রেখেই প্রথম যেটা খোঁজেন সেটা হল, মেয়ে মানুষ। অথচ দেশে তারা কতই না চমৎকার সংসারী মানুষ। পরিবার পরিজন নিয়ে কতই না আহ্লাদ তাদের।

৪) রাস্তাঘাটে আশেপাশে মেয়ে থাকা অবস্থায় পুরুষদের চোখের দিকে খেয়াল করলেই দেখা যাবে অনেকেরই চোখ নানা জায়গায় ঘুরছে। শালীন পোশাক পরিধানকারীনিরাও তাদের চোখের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এই শয়তানী চোখগুলো পেরিস্কোপের রূপ ধারণ করে আঁকাবাঁকা পথে পোশাকের ভিতরে ঢুকতে চাচ্ছে যতদূর পারে।

এই ঘটনাগুলোকে কেস স্টাডি হিসেবে উল্লেখ করলাম এই কারণে যে, পুরুষেরা তাদের বিহেভিয়ার না পাল্টালে কিছুতেই ধর্ষণকাণ্ড বা সেক্সস্যুয়াল হ্যারাজমেন্ট ঠেকানো যাবে না; হাজারবার ঢেকেও না। হয়ত কমানো যাবে বাট জিরো ডিগ্রীতে পৌঁছানো অসম্ভব।

আমাদের সেই পুরুষেরা কোনভাবে যদি কিছু নাও করতে পারে; তাহলেও এটলিস্ট তারা মনে মনে বুলি ঝাড়বে, “মামুর বুঠি, তোখে কিন্তু চোখেই লিয়ে লিবো!” বা বলবে, “এমুন চোখে তাকাইবো যে, প্র্যাগনেন্ট বানিয়ে দিবো, হ্যাঁ!” অথবা আরও একটা মারাত্মক টিজ ছিল, যা এই রকম- “আরে মামুর বুঠি, তোকে ……… কি ……… লাগে নাকি? চোখেই লিয়ে লিবো।“ (আমি লিখতে পারলাম না, বুঝে নিন)।

এবং করবেও তাই >>>

লেখার মোটোঃ পুরুষের চোখ আর মনের দোষগুলোকে শরীরের নিন্মাঙ্গের মত করে আন্ডারওয়ার দিয়ে না ঢাকতে পারলে- মেয়েদের ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখলেও ধর্ষণ ও যৌন হয়রানী থেকে তাদের বাঁচানো যাবে না। সেই পুরুষগুলো ঢাকা দেওয়া জায়গাটিতে যেয়েও ঘুর ঘুর করবে এবং খাবে- মনে মনে মনকলা।

আর সেটা করা যাবে শুধুমাত্র সৎ চিন্তা, সুশিক্ষা, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ দিয়ে।

বুলির রেফারেন্সঃ রাজশাহী অঞ্চল; আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এদের ব্যাপক প্রচলন ছিল তখন।

সেলফ ডিক্লারেশনঃ উঠতি বয়সে আমি কিন্তু সাধু পুরুষ ছিলাম না! বয়সের দোষত্রুটিযুক্ত ছেলেই আমি ছিলাম। এই দোষ ততটুকু পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল; যতটুকুকে তাদের মায়েরা ‘বয়সের দোষ’ হিসেবে আঁচল ঢাকা দেন।

আর তাই তো আজও এই হবু লুল কবি বলে-

মেয়ে, তুমি খুব-
বিউটিফুল!
নয়ন লাগিয়ে দেখবো তোমায়-
কমপ্লিট, ফুল!

১০/০৩/২০১৫ রাতঃ ৮.২৭ আপডেটঃ ১১/০৩/২০১৫