ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল বিএনপি জোটের ডাকা অবরোধ প্লাস হরতালের ৬৬তম দিন আজ শুক্রবার ছিল টানা অবরোধের ৬৭ তম দিন। দু’দিনই আমি জরুরী কাজে ঢাকা থেকে ভৈরব হবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে গিয়েছিয়াল এবং ফিরে আসলাম বাসে করে কিছুটা ভিন্ন ভিন্ন রুটে। অর্থাৎ দেশব্যাপি টানা অবরোধ ও হরতাল থাকা অবস্থায় আমি ঢাকা-সিলেট হাইওয়েতে দুইদিন ভ্রমণ করলাম। এছাড়াও গত সপ্তাহের শনিবার ও তার আগের সপ্তাহের শুক্র-শনিবার আমি এই রুটে বাসযোগে যাতায়াত করেছিলাম। এটা অবশ্য বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সেইদিনগুলোও ছিল অবরোধের আওতাধীন।

এবার আমি যেটা দেখলাম তা হল, গত সপ্তাহের তুলনায় রাস্তায় অনেক বেশী যানবাহন চলছে। চলছে, বাস ট্রাক, কন্টেইনারবাহি ট্রেইলার, কাভার্ড ভ্যান, অটো, রিক্সা ছাড়াও আরও যা যা চলে আমাদের মহাসড়কগুলোতে; তার সবই দেখেছি এবার। গত সপ্তাহে এর কিছু কিছু অনুপস্থিত ছিল।
gari -2
আরও দেখলাম মানুষের মধ্যে পেট্রোল বোমার আতংক কমে যাচ্ছে। আগে যেখানে যাত্রীরা বাসের সিটে বসেই জানালা বন্ধ করে দিত; এবার দেখলাম উল্টো চিত্র। সবাই জানালা খুলে বউ বাচ্চা নিয়ে দিব্বি হাওয়া খাচ্ছে, জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের সবুজ জমিগুলো আনমনে দেখছে।
sobuj
এছাড়াও দেখলাম, এই চলতি পথের দুপাশে যত ফ্যাক্টরি, দোকান, মার্কেট, বাজার আছে; তার সবই খোলা আছে; এমনকি নরসিংদীর বাবুর হাটও চালু অবস্থায় দেখলাম।

তবে রাস্তায় ট্র্যাফিক জ্যাম না থাকায় বুঝলাম- অনেক গাড়ী, যার মধ্যে প্রাইভেট কার অন্যতম, কম চলছে। তাতে বোঝা গেল, যাদের পেটে খুব দায় আছে, নাই কোন সেভিংস, নাই কোন ফিক্সড ইনকাম; তারাই বর্তমানে রাস্তায় চলাচল করছে।

এবং চালু রেখেছে দেশের অর্থনীতিকে-

আর দেশের সব বড় বাবুরা বাসার এসিরুমে বসে- দেশ গেল, অর্থনীতি গেল, বলে সমানে চিল্লাচ্ছে-

১৩/০৩/২০১৫ রাতঃ ১০.৩১

ছবিঃ গাড়ির ছবিটা ০৭/০৩/২০১৫ তারিখে ভৈরবে তুলেছিলাম; আর সবুজেরটা তুলেছিলাম আখাউড়া থেকে।