ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গতকাল সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রাইভেট কারযোগে ঢাকার প্রায় অর্ধেকটাসহ পাশের রূপগঞ্জ-সোনারগাঁও হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামের হাইওয়ে ধরে দাউদকান্দি পর্যন্ত ঘুরেছি। কিন্তু কোথাও হরতাল-অবরোধের ছিটেফোঁটাও দেখিনি। বরঞ্চ দেখেছি কর্মব্যস্ত মানুষ আর ছুটন্ত গাড়ির রাজপথ আর ঢাকার সেই চিরচেনা ট্রাফিক জ্যাম। অথচ গতকাল ছিল বিএনপি জোটের ডাকা টানা অবরোধ প্লাস হরতালের ৭০তম দিবস।

এখানে বলে রাখি- অবরোধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম অফিসের কার নিয়ে বের হলাম আমাদের নেপালি ক্রেতার আগমন সূত্রে। আমাদের এই যাত্রায় নতুন বানানো ৩টা ফ্লাইওভারই ব্যবহার করেছি; যাতে করে আমাদের কর্মঘন্টা বেঁচেছে কমছে কম ৫ ঘণ্টা। আমাদের বেঁচে যাওয়া এই সময়ের জন্য অনেকগুলো কাজ বেশী করতে পেরেছি আমরা। এর জন্য শেখ হাসিনা সরকারকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারেনি আমাদের সেই নেপালি ক্রেতা। যিনি তার শিক্ষাজীবন কাটিয়েছে এই দেশে; তাই তার সবকিছুই নখদর্পণে। এমনকি আমাদের রাজনীতিও।

বাংলায় একটা কথা আছে, লেবু বেশি কচলালে সেটা তিতা হয়ে যায়। তেমনি এই কর্মসূচী এখন পুড়াই তিতা হয়ে গেছে। মানুষের মধ্যে পেট্রোল বোমার যে আতঙ্ক ছিল তাও এখন আর অবশিষ্ট নেই। খেটে খাওয়া মানুষরা ইতিমধ্যেই তা ভুলে গেছে। হ্যাঁ, এটা এখনও কিছুটা বর্তমান আছে- মা’দের মনে আর কিছু ননীর পুতুলদের মধ্যে; যাদের কাজ করে খেতে হয় না বা বসে খেলেও তাদের রাজভাণ্ডার ফুড়াবে না!

এখন প্রশ্ন হল, বিএনপি এই কর্মসূচী থেকে কি পেল? সেটা কি তারা মূল্যায়ন করবে? নাকি কাকের মত চোখ বুঝে ভাববে, “আমি দেখি নাই; তাই কেউ দেখে নাই!”

অথবা ভাববে, আমি নিজ থেকে বন্দী; তাই সবাই বন্দী?

১৭/০৩/২০১৫ সকালঃ ১০.৩২

পূর্বের লেখাঃ বেগম জিয়া’র গ্রেফতার ও আমার মত