ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
safe_image.php

আজও পেট্রোল বোমার আগুনে মাগুরায় অনেকগুলো নিরীহ, খেটে খাওয়া মানুষ পুড়লো। টিভিতে দেখলাম তারা ছিল নয় জন। বালি ফেলার কাজ শেষে খালি ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিল তারা। ফিরছিল তাদের পরিবারের কাছে; সন্তানের কাছে।

বাড়ী ফেরার পথে হয়ত তাদের সবাই কিনে নিতো আজকের রাতের খাবার, যার জন্য শুঁখনো মুখে ঘরে বসে অপেক্ষায় ছিল তাদের মা-বাবা, স্ত্রী সন্তানরা! ঘরে ঢোকার সাথে সাথেই হয়ত তাদের মেয়েরা দৌড়ে এসে বাবার গালে গাল লাগিয়ে আদর নিত! ছোট ছোট ছেলেরাও হয়ত তাদের ছোট ছোট হাত দিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করত; তারাও চাইতো বাবার আদর! মায়েরা হয়ত ছেলেদের ক্লান্ত মুখের দিকে চেয়ে এগিয়ে দিত একগ্লাস ঠাণ্ডা জল! আমাদের গ্রাম বাংলার সব পরিবারের চেহারা তো একই। একই পারিবারিক বন্ডিং।

কিন্তু এখন? যেখানে শরীরের ২০ থেকে ২৫ ভাগ পুড়লেই মানুষ আর বাঁচে না? সেখানে পত্রিকায় পড়লাম তাদের সবারই ৬০ থেকে ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে! এখন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন উইনিটে আসছে পোড়া দেহগুলো! যার অর্থ হল ওরা সবাই জীবন্ত পুড়ে মারা যাওয়ার আগে আরও কয়দিন জ্বলে যাচ্ছে। আরও অনেক অনেক কষ্ট ভোগ করে যাচ্ছে। এই যা! নিয়তি ওদের লেখা হয়ে গেছে ছুঁড়ে দেওয়া পেট্রোল বোমার আগুনে! রাজনীতির প্রতিহিংসায়! কিন্তু ওরা তো কোন রাজনীতি করে না? তাহলে কেন ওদেরই পুড়তে হবে বারবার?

যারা এই পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষগুলো পোড়াচ্ছে, তাদেরকে বলতে ইচ্ছে করছে, কী পেলেন এই অভাগা নিরীহ মানুষগুলোকে পুড়িয়ে? কী স্বার্থ এ থেকে আপনারা লাভ করলেন? এতে কি আপনারদের পাপ হয় না? সৃষ্টিকর্তার কাছে কি এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে না? কী উত্তর দিবেন তখন আপনারা?

প্লিজ! খেটে খাওয়া এই গরীব মানুষদের আর পুড়িয়ে মারবেন না! কোনকিছুতেই আর আগুন দিবেন না!

এতে যে ভীষণ পোড়ায়; জ্বলে! জ্বলে জ্বলে মরে মানুষগুলো! প্লিজ!

২১/০৩/২০১৫ রাতঃ ১০.৫০