ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 
Barguna-04
বাংলাদেশে একমাত্র হিন্দু নির্যাতন ও তাদের জমি-বাড়ী দখলেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি ভাই ভাই! আর তাই তো এখানে পেট্রোল বোমা আর ক্রসফায়ারের কোন মারামারি নাই! এক কথায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। মিলঝিলকে ভাগাভাগি! আফটার অল হিন্দুরা মানুষ কবে হল যে তাদের জন্য প্রশাসনের গা পোড়াবে? নাগরিক-সুনাগরিকদের একযোগে মন পোড়াবে?আজ সকালে বরগুনার খবরটা পড়লাম; যদিও এই খবরটা অনেকদিন ধরেই ফেসবুকের পেজে পেজে ঘুরছিল! কিন্তু তখন প্রশাসন বা আমাদের ফ্রন্টলাইন মিডিয়াকর্মীদের তা নজরেই আসে নাই। যাক অবশেষে এলো। কথায় আছে লেট বেটার দ্যান নেভার!

তবে আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না উৎখাত হওয়া হিন্দু পরিবারগুলোর। তারা বলছেন, যথন উৎখাত করা হয়েছিল, তখন বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ করা হলেও কোনো প্রতিকার পাননি তারা।

বরগুনার তালতলী উপজেলার পঞ্চাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের চন্দনতলা (মগপাড়া হিসেবে পরিচিত) গ্রাম থেকে ২০১৩ সাল থেকে হিন্দুদের উৎখাতের প্রক্রিয়া শুরু হলেও বিষয়টি আলোচনায় আসে গত সপ্তাহে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্যাতনের মুখে ২০১৩ সালের শুরুর দিকে প্রথমে তিনটি পরিবার গ্রাম ছেড়ে বরগুনা শহরে আশ্রয় নেয়। ২০১৪ সালের শুরুর দিকে চলে আসে আরও দুটি পরিবার। সবশেষ ১৩ মার্চ নয়টি পরিবার একযোগে ভিটেমাটি ছেড়ে আসে।

হিন্দু পরিবারগুলো উৎখাত করে তাদের জমি দখলের অপচেষ্টার এই অভিযোগ উঠেছে বিএনপি এবং যুবলীগের স্থানীয় দুই নেতা আব্দুর রশীদ আকন (৪২) এবং জাকির হোসেন সরকারের (৪০) বিরুদ্ধে।

হিন্দুদের জমি-বাড়ী দখলও খবর হয় এই বঙ্গদেশে? ভাল! এর জন্য বিডি নিউজকে ধন্যবাদ! যদিও জানি এতে কোন কাজ হবে না! বাড়ী-জমি হারানো ভুক্তোভূগী মানুষগুলো এতে তাদের হারানো সম্পদ ফেরত তো পাবেই না; বরঞ্চ এবার তাদের বরগুনা শহর থেকে সরাসরি দেশত্যাগে বাধ্য করা হবে।

চন্দনতলা গ্রামের তাসলিমা বেগম (৪০) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হঠাৎ করেই কাউকে কিছু না বলে তারা (হিন্দু পরিবারগুলো) বাড়ি থেকে একত্রে বেরিয়ে পড়েন। পরে হাকিম আলী সরদারের ছেলে আ. সালাম, যুবলীগ নেতা জাকির ও ইলিয়াসের নেতৃত্বে হিন্দুদের ঘরগুলো একদল লোক এসে ভেঙে নিয়ে যায়। হিন্দুরা বাধ্য হয়ে তাদের কাছে কম মূল্যে বাড়িগুলো বিক্রি করে দেয়।”

আনোয়ারা বেগম (৬৫) নামে আরেক বৃদ্ধা বলেন, “ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না।”

তবে যুবলীগ নেতা জাকির তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “রশিদের কোনো দোষ নেই। হিন্দুরা ইচ্ছা করেই এলাকা থেকে ঘরগুলো বিক্রি করে চলে গেছে।”

তবে ওই গ্রামের আব্দুর রশিদ মাস্টারের কথায় ফুটে ওঠে গ্রামবাসীর কথা।

“সবকিছু তো প্রকাশ করা যাবে না। তবে পরিবারগুলো বড় কষ্ট নিয়ে সব ফেলে চলে গেছে।”

আর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে দেখে আমাদের সরকার বাহাদুর ও তাদের প্রশাসন হাফ ছেড়ে বাঁচবে। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, “রাম জল ছাড়িল আর আপদ গেল!” এই দেশে হিন্দু জনগোষ্ঠী একটা আপদ; তাই ভারত একটু গেটটা খুলে দিলেই হয়! ল্যাঠা চুকে যায়!

আর আওয়ামীলীগ-বিএনপি তাদের ছেড়ে যাওয়া সেই ভূমিতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে!

সবাই এই সহজ হিসেবটা কেন যে বোঝে না? তা আমিও বুঝি না!

২৯/০৩/২০১৫ দুপুরঃ ১২.০৪

আগের লেখাঃ
অর্পিত সম্পত্তি আইন: হিন্দুদেরকে অত্যাচারের হাতিয়ার
বঙ্গদেশের ছাগল
তাদের সব জমি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে