ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

একটা গল্প বলি শোনেন; তয় চোখ লাগাইয়া-

১)

একদা এক গ্রাম্য টাউটের ঝগড়া বাঁধানোর শখ হলো, সে করলো কি? বাজারে ঘুরতে ঘুরতে গুঁড়ের হাঁড়ি থেকে আঙুলের ডগায় একটু গুঁড় এনে সে একটা দোকানঘরের খুঁটিতে লাগিয়ে দিলো।

একটু পর সেই গুঁড়ের লোভে সেখানে আসলো পিঁপড়া। কিছুক্ষণ পর পিঁপড়া খেতে আসলো টিকটিকি। তারপর টিকটিকি খেতে আসলো কয়েকটা বিড়াল। এবার বিড়ালকে তাড়াতে আসলো বাজারের কুকুরগুলো দলবেঁধে। কিন্তু বিড়ালগুলো ছিল নাছোড়বান্দা কিছুতেই তারা ঘুঁটির পাশ ছাড়বে না। ফলে বেঁধে গেল বিড়াল আর কুকুরের ঝগড়া। তাই দেখে সেই দোকান মালিক, লাঠি নিয়ে করলো তাড়া বিড়াল আর কুকুরের দলকে।

এবার কুকুরগুলো তাড়া খেয়ে পালাতে যেয়ে পড়লো পাশের মিষ্টির দোকানে সাজিয়ে রাখা জিলাপি উপর। আহা! আহা! করতে করতে ময়রাটা দেখলো তার পাশের দোকানদার লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পড়ে থাকা জিলাপির সামনে। সে ভাবলো- এই কর্ম, এই ব্যাটার! তাই আর দেরী কেন? সেও হাতে তুলে নিলো একখানা লাঠি। শুরু হয়ে গেল লাঠালাঠি!

আর তাই দেখে গ্রাম্য টাউট’টা হেসে কুটিকুটি।

২)

একদা এক ব্লগার দেখলো, তার লেখা কেউ পড়ে না; কমেন্ট করে না! কি করা যায়? কিভাবে নাম কামানো যায়? সে ভেবে ভেবে গুঁড় লাগালোর গল্পটার একটা মডার্ন ভার্সন বের করলো। সে কায়দামত একখানা ‘বেনাম’ও ঠিক করলো। এবার সে লগইন করে ব্লগে পোস্টাইলো। সে জানতো তার আকাঙ্ক্ষা মিটাতে চাইলে কোন গুঁড়, কোথায় লাগাতে হবে? কোন খুঁটিতে ভড়াতে হবে?

তাই সে মানুষের সবচেয়ে নরম জায়গাটা ঠিক করে সেখানে গরম তেল ঢেলে দিলো। আলোচনার নামে লেখায় সে তার পাঠকদের একটুখানি আঙুল ঢুকিয়ে দিলো।

ব্যাস! আর যায় কই! শুরু হয়ে গেল কমেন্ট আর রিডিং এর বন্যা! ব্লগের আর সব ব্লগাররা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লাগিয়ে দিচ্ছে। কামড়াকামড়ি করচ্ছে। এসব দেখে আর নিজের নাম হচ্ছে ভেবে ব্লগারটা গ্যালারিতে বসে মুচকি মুচকি হাসছে!

আর এটা দেখিয়ে দেখিয়ে বন্ধুদের কাছে সমানে ভাবও মারছে।

৩)

ইতিমধ্যেই বন্ধুদের সুনামে, প্রশংসায় ব্লগারটা ফুলে ফেঁপে উঠেছে। গুঁড় ভড়ানোর নতুন নতুন কায়দা বের করে সমানে নাম কামাছে; হয়ে উঠেছে সেলিব্রেটি! এখন তার পোষ্টে কমেন্টস লাইকের বন্যা বয়ে যায়!

বিদেশে পাড়ি দেওয়ার বিমানখানার সিট বেল্টটা চকচক করে ওঠে তার চোখে; মনে! ভাবে এই তো আর কয়টা দিন! তারপরেই জার্মানি, আমেরিকা! আহা! কী সুখ! সুখই সুখ! সুখের উপ্রে সুখ!

গুঁড় লাগানো আর আঙুল চালাতে এখন সে এতই উৎসাহী যে মাঝে মাঝে সে তার বন্ধুদের পাছায়ও তা চালান করে দেয়! আর ভাবে মওকাই মওকা!

কিন্তু সমস্যা হল সেদিন, যেদিন আঙুলে আঙুলে ক্ষিপ্ত তার প্রকৃত নাম জানা বন্ধুটা পিছনে দাঁড়িয়ে গেল!

ব্লগারটার স্বপ্নও ভেঙে গেল! বালিশ ছাড়া শুয়ে পড়লো!

শুতে শুতে সে ভাবলো, ধুর! স্বপ্নটা দুঃস্বপ্ন হয়ে রইলো! বিমানটা মোরে না নিয়েই উড়ে গেল!

ধুর!

অফটপিকে আর একটা গল্প বলি, আপনাদের জানা গল্প; তারপরেও বলি-

এক ছাত্র, নদীর রচনা পড়ে পরীক্ষার হলে যেয়ে দেখে ‘গরুর রচনা’ এসেছে। ছাত্রটা ভাবলো, এখন কি করি? তারপর মনে মনে একটা সমাধান বের করলো সে; গরুটাকে টেনে নদীতে নামিয়ে ‘নদীর রচনা’ লিখে গেল।

বাই দ্যা ওয়ে, গল্পটাকে টেনে নদীতে না নামানোর অনুরোধ থাকলো! ইহা গল্পই গল্প! গল্পের উপ্রে গল্প!

১১/০৪/২০১৫