ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

সে অনেকদিন আগের কথা, আমাদের গ্রামের এক পোলা কিছুতেই বিয়ে করবে না! আজ এ বাহানা; কাল ও বাহানা দেখিয়ে বাড়ীতে আসা বিয়ের প্রস্তাবগুলোকে বানচাল করে দেয় সে। বেশী জোরাজোরি করলে ঘরে কপাট দিয়ে না খেয়ে থাকে। মাঝে মাঝে বাড়ী থেকেও ভাগে!

কিন্তু পোলাটার বাবা-মা’ও নাছোড়বান্দা; কিছুতেই ছেলেকে বিয়ে না করিয়ে ছাড়বে না! আবার ছেলের ঠাকুমাও নাত বৌয়ের মুখ না দেখে ‘না মরার’ পণ করে গত পাঁচ বছর ধরে একই বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে আছে।

এই যখন অবস্থা তখন পোলাটা হাটে মাঠে ঘুরে ঘুরে কবিরাজদের কথায় ভরসা করে ঔষধ টোষধ খায়; কিন্তু জোরদার ভরসা পায় না। অবশেষে শ্রীপুরের ট্যাবলেটের বিজ্ঞাপনটা তার মনে ধরে খুব। আর এর উপর ভরসা করেই একদিন হটাৎ করে বিয়েতে রাজী হয়ে যায় সে। ওহ! এরই মধ্যে একদিন সে হাট থেকে এক বোতল কালিজিরার তেলও কিনে আনে।

দেখাদেখির পর্ব শেষে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই বর আর কনেপক্ষের বাড়ীতে জোরদার বিয়ের আয়োজন শুরু হয়ে গেল। সাঁজ সাঁজ রবে বিয়ের দিনও এসে হাজির হলো। হাজির হলো ঢাকবাদ্যির সাথে বরযাত্রী দলও; কিন্তু ছেলেটাকে আর পাওয়া গেল না! বাড়ী থেকে সে কাউকে কিছু না বলে নাই হয়ে গেল।

এই ডিজিটাল যুগে কি আর এসব কথা গোপন থাকে? অল্প সময়ের মধ্যেই তা চাউর হয়ে গেল; একসময় তা কনে পক্ষের কানেও গেল। সব শুনে, মেয়ে লগ্নভ্রষ্টা হওয়ার আশংকায় মেয়ের বাবা-মা শয্যা নিলো। এবার দায়িত্ব এসে পড়লো মেয়েটার গ্রামের মানুষের উপর; তারা আর কোন উপায়ান্তুর না পেয়ে সেই গ্রামেরই এক যুবক ছেলের সাথে কনেটার বিয়ে দিয়ে দিলো। এক্ষেত্রে তাদের বিবেচ্য বিষয় ছিল লগ্ন ভ্রষ্টা মেয়ের চেয়ে যেকোনভাবে তার বিয়ে দেওয়া ভাল। এতে জাত ও কূল দুটোই বাঁচে!

এদিকে, সেই ছেলেটি পালিয়ে থেকে সব খবরই রাখছিল। দুইদিন পর বাড়ী ফিরে এসে সে বেমালুম বলে বসলো, আমি জানতাম সেই ছেলেটার সাথে মেয়েটার সম্পর্ক ছিল। তাই আমি বিয়ে না করে ভালই করেছি!

অথচ তার যে শ্রীপুরের ট্যাবলেট খাওয়ার পাশাপাশি কালিজিরার তেল মেখেও কাজ হয়নি; সেটা সে বেমালুম চেপে গেল।

আর সব দেখেশুনে, নাত বৌয়ের মুখ না দেখেই ঠাকুমা স্বর্গধামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো।

২৮/০৪/২০১৫ রাতঃ ৮.৫৩