ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

শ্রদ্ধেয় জহিরুল চৌধুরী ভাইয়ের “শেখ হাসিনার বিদেশনীতি” বিষয়ক লেখাটা পড়লাম। পড়ে আমার মনে হলো, এই বিষয়ে আমারও কিছু বলার আছে-

একটা বচন খুব প্রচলিত আছে বাজারে- সেটা হলো, “আমেরিকা যার বন্ধু; তার আর শত্রুর দরকার নেই”! আমি জানি না এই কথাটা প্রথম কে বলেছিলেন? তবে এটা জানি, এটাকে খুব সহজেই ‘খনার বচন’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায়! কিন্তু সমস্যা হলো, এই ধরাধামে খনা যখন ছিলেন তখন আমেরিকা নামে কিছু ছিল না! তাই এটাকে খনার বচন হিসেবে চালিয়ে দিলেও সেটা ‘জাল বচন’ হিসেবে চিহ্নিত হবে! কিন্তু কথা তো সত্য? তাই জাল-টালের মধ্যে আর গেলাম না; তবে নাম না জানা এই বচনের স্রষ্টাকে স্যালুট!

আমেরিকা সেই বন্ধু; যাকে শুধুই দিতে হবে কিন্তু বিনিময়ে তার কাছ থেকে কিছুই পাওয়া যাবে না; এমনকি চাওয়াও যাবে না! আর পকেট খালি করে তাকে দিতে দিতে জামা-প্যান্ট খুলে দিলেও সে খুশি হবে না! সবশেষে কিছুই যখন আর দেওয়ার মত থাকবে না, তখন তাকে বিছানায় শোওয়ার জায়গাটা দিতে হবে; আই মিন সেনাঘাঁটির জন্য একটা এলাকা ছেড়ে দিতে হবে! তার কথামত নিজেকে যুদ্ধে জড়াতে হবে, তার কাছ থেকে বেশী দামে অস্ত্র কিনতে হবে এবং সেগুলো প্রয়োজন না থাকলেও! কাতারের কেনা ‘F-35 যুদ্ধ বিমান’ তার একটা ছোট্ট উদাহরণ! যদিও সেই বিমান এখনো শতভাগ প্রস্তুত হয়নি কিন্তু চামে আমেরিকা এই প্রোজেক্টের ব্যয়টা কাতারের কাছ থেকে তুলে নিয়েছে!

তারচেয়ে তাকে যতদূর সম্ভব দূরে রাখা যায় ততই দেশের জন্য; নিজের জন্য মঙ্গল! যদিও সেটাও ঝুঁকিপূর্ণ! গরীবের সুন্দরী বউ থাকলে ঝুঁকিটা আরও বেশী! আই মিন তেল, গ্যাস ও খনি সম্পদ থাকলে তার উপর তার শ্যেন দৃষ্টি থাকে!

আমাদের জাতির জনক ‘বঙ্গবন্ধু’ নিজ বুকে গুলি খেয়ে প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন উপরে বর্ণীত সেই প্রবাদটাকে। আমেরিকা যখন আমাদের বিপক্ষে ছিল, তখন আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীন হতে পেড়েছিলাম। যখনই বঙ্গবন্ধু আমেরিকাকে ‘বন্ধু’ বানাতে চাইলেই তখনই দেশের সাথে তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা লেগে গেল, দেশে দুর্ভিক্ষ হলো, দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হলো এবং একটা বিশ্বাসঘাতক দলের হাতে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে খুন হলেন! আমি আমি নিশ্চিত বঙ্গবন্ধু যদি আমেরিকাকে বন্ধু বানাতে না চেয়ে শত্রু হিসেবেই রেখে দিতেন, তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাস আজ অন্যরকম হতো।

কথা হলো, আমেরিকা যতক্ষন শত্রু হিসেবে থাকবে ততক্ষণ শত্রু চেনা যায় কিন্তু যখন সে বন্ধু হিসেবে থাকবে; তখন আর শত্রু খুঁজে পাওয়া যায় না! অচিরেই কিউবা বুঝতে পাড়বে এই সত্য, রাশিয়া বুঝেছে ইতিমধ্যেই! বুঝেছে এঞ্জোলা মার্কেলও, যখন তিনি তার “মোবাইলটা ট্র্যাপ করা হয়েছিল” জানতে পেড়েছিলেন!

তাই আমি মনে করি, আমাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী আমেরিকার সাথে ব্লাইন্ড গেম না খেলে; দেখে, শুনে, বুঝে খেলছেন! যদিও সেটাও ঝুঁকিপূর্ণ; তবে এখানে ঝুঁকিটা চাক্ষুষ!

এটাই আপাতত লাভ >>>

০৭/০৫/২০১৫