ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

বন্ধু বলিল, জারজ হয়ে গেলাম দোস্ত! কী উপায়? কী উপায়?

আমি বললাম, সমস্যা মারাত্মক! খুলে বল সব!

ও বলিল, যেদিকেই তাকাই সেদিকেই দেখি- তার ছবি! শুনি তার বাণী! নামে ধামে সংবিধানে; সব জায়গায় আছেন তিনি!

বললাম, সমস্যা জটিল হচ্ছে ক্রমশ- আরও ডিটেলস বল! পাইবি চিকিৎসা! গ্যারান্টি সহকারে ঔষধ দিমু তোরে; দারুণ খাসা!

বলল, না! এক বাপ নিয়েই সন্তুষ্ট আছিলাম! শুনি আমাদের নাকি আরও একটা বাপ আছে! জাতির বাপ? তাই দুই বাপ হওয়াতে ঝামেলায় আছি! সমস্যা হচ্ছে! বেদম সমস্যা! নিজেকে জারজ জারজ লাগে!

বললাম, আমার কথা শোন! তোর মা কয়টা?

কেন? একটা!

কেন আরও কাউকে কাউকে মা ডাকিস না?

ডাকি! এই যেমন, মাসি মা, দাদী মা, দিদি মা, খালাম্মা আরও আছে অনেকে! বাংলা শব্দে! আত্মীয়তায়!

কেন আরও শব্দ তো আছে; সেগুলো জানিস না? এই যেমন দাই মা, দুধ মা, দেশকেও তো সবাই মা ডাকে! তুই ডাকিস না? তুই কি এই বাংলাদেশের সন্তান না? দেশকে মাতৃভূমি মনে করিস না?

অবশ্যই মনে করি!

তাহলে ধর- তুই যখন মায়ের গর্ভ থেকে পিছলে পড়লি! কোথায় পড়লি প্রথম? কার কোলে পড়লি?

কেন মাটিতে পড়লাম, এই বাংলাদেশের মাটিতে পড়লাম!

তাই যদি হয়, তাহলে তুই কি ‘গর্ভধারিণী মা’ আর এই ‘মাটি মা’- এই দুইটাকে স্বীকার করিস না?

তা করি!

তাহলে এবার বল, তোর মায়ের গর্ভে তোকে বুনেছে কে? নিশ্চয় তোর বাবা? যার নাম তোকে তোর গর্ভধারিণী মা বলেছিল! শিখেছিলি সেই শিশুকালেই! তোর সার্টিফিকেটেও তা লেখা আছে! তাই না? আর তোর এই মাটি মা; সে কথা বলতে পারে না বলেই কি তুই দ্বিতীয় বাবাকে নিয়ে টেনশন করবি? নিজেকে জারজ বলবি? নিজ মাকে অপমান করবি? আরে পাগল, তোর এই বাংলাদেশ নামক ‘মাটি মা’ যদি কথা বলতে পারতো; তাহলে শুনতি তোর আরও একটা বাবার নাম! বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান যার নাম! যা ঔষধ দিচ্ছি! এবার শান্তিতে ঘুম দিয়ে সুস্থ হ! নিজেকে জারজ বলে মাকে আর অপমান করিস না! তো মান সম্মান না থাকতে পারে; তোর মা’র আছে! আমি সেটা রক্ষা করবো! ভাগ!

অফটপিকঃ মা দিবসে পৃথিবীর সকল মা’দের শুভেচ্ছা! সাথে বাবাদেরও! যারা আমাদের জন্ম দিয়েছে, স্ট্যাটাস দিয়েছে! দিয়েছে পতাকা-পাসপোর্ট ও সংবিধান! দিয়েছে স্বাধীনতা! মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার!

মা, তোমাদের সবাইকে প্রণাম জানাই >>>

১০/০৫/২০১৫