ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

প্রিয় ব্লগার আকিল জামান খান (ইনু) একটা ভাল বিষয় তুলে এনেছেন! তিনি শুরু করেছেন প্রধান সামরিক প্রশাসক ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বলা সেই অমর বানী দিয়ে; যাতে তিনি বলেছিলেন-

Money is no problem ! I will make politics difficult !

পাশাপাশি তিনি ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় নির্বাচনের ঘটে যাওয়া পদ্ধতিগত ভুলগুলোকে আলোকপাত করেছেন- টেনে এনেছেন জাতিসংঘকেও।

আসুন আলোচনা শুরু করি, প্রিয় ব্লগার ইনু আমি জানি-

আপনার প্রিয় নেত্রীও জানেন-

জিয়া তার অমর বানী দিয়ে যেটা শুরু করেছিলেন, বর্তমানে ওটারই এক্সটেনশন চলছে; বলতে পারেন মডার্ন ভার্সন চলছে! আপডেট সফটওয়ার! রাজনীতি এখন দু-তরফেই জটিল হয়েছে।

আপনার নেত্রীর জন্য নিচের দুইটা বাংলা প্রবাদ উৎসর্গ করছি-

১) যে খাল কাটে; সেই সে খালে পড়ে।
২) ঘুঘু, তুমি বারবার খেয়ে যাও ধান; এইবার ঘুঘু তোমার বধিবে পরান!

আপনার জন্য উদাহরনঃ

১) জিয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যেয়ে ভোট পেয়েছিলেন ৯৯% প্লাস।
২) ২০০১ সালের নির্বাচনে কি হয়েছিল তা জাতি জানে; আমি নিজে ভুক্তভোগী!
৩) তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতিতে বিচারপতি হাসান ও ইয়াজউদ্দীন কাণ্ডের কথা।
8) লাল টেলিফোন ক্রমাগত বেজে যাওয়া বা মোবাইল ফোনের আপনার, আমার নেত্রীদ্বয়ের সেই আলাপন!

জাতিসংঘ ম্যাটার্সঃ

আহ! তারানকো! মাসাধিক কাল দৌড়ঝাঁপ শেষে খালি হাতে ফিরে বান কি মুন সাহেবের কাছে রিপোর্ট দিলেন, “শেষ মুহূর্তের একপক্ষের নতুন প্যাঁচের কারণে আলোচনা সফল হলো না”। অবশেষে জাতি জানলো, সেটা ছিল- লন্ডন ম্যাটার্স!

নির্বাচন নিয়ে- বাজী ম্যাটার্সঃ

১০ম জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমাদের দুই নেত্রীর মধ্যে একটা বাজী হয়েছিলঃ প্রথম পক্ষ যেকোনো মূল্যে নির্বাচন চেয়েছিল আর দ্বিতীয় পক্ষ সেই নির্বাচন যেকোনো মূল্যে ঠেকাতে চেয়েছিল! আসুন দেখা যাক সেই বাজীতে কি ঘটেছিল-

প্রথম পক্ষঃ ১৫৩ আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিয়েছিল আর বাকিগুলো যেভাবেই হোক রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে ভোট করেছিল। আইনগত বা সাংবিধানিকভাবে সেটা ছিল বৈধ! যদিও নৈতিকভাবে সেটা গ্রহণযোগ্য ছিল না! বাজীতে নীতিকথা নিষিদ্ধ; সেখানে জয়-পরাজয়টাই ‘আসল সত্য’!

দ্বিতীয় পক্ষঃ নিজেরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে; সর্বশক্তি নিয়ে নামলো নির্বাচন ঠেকাতে। ৫০০ এর উপরে ভোটকেন্দ্র পুড়িয়ে দিলো, পোলিং অফিসার থেকে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাহিনী’র সদস্যদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারলো। পুড়ে মারা গেল নিরীহ গরুও! হরতাল–অবরোধ দিয়ে, রাস্তাঘাট কেটে, গাছ কেটে, ভোটারদের মেরে, আওয়ামীলীগের কর্মীদের মেরে, হিন্দুদের মেরে, ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করলো। ভয় ভেঙ্গে যারা গেল; তাদের মধ্য থেকেও বেছে বেছে শুধু হিন্দুদের মারতে শুরু করলো, তাদের বাড়িঘর, মন্দিরে আগুণ দিলো। এই পুড়ো কর্মকাণ্ডই ছিল সংবিধান বিরোধী; ফৌজদারি অপরাধ। ওই সে বললাম, বাজীতে নীতিকথা বলা মানা।

বাজীর ফলঃ প্রথম পক্ষ জয়ী; দ্বিতীয় পক্ষ পরাজিত। মাঝামাঝি কিছু নেই। ফল নিয়ে নীতিকথা বলা নিষিদ্ধ! কারণ বাজীর ফল এটা।

আপনার নেত্রীকে শিক্ষা নিতে বলবো-

১) ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে।
২) ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট থেকে।

আপনার নেত্রীকে দেখতে বলবো-

‘নায়ক’ হিন্দি সিনেমাটা; বিশেষ করে অনিল কাপুরের সেই ডায়ালগটা, “তোমরা সবাই মিলে আমাকেও পলিটিশিয়ান বানিয়ে দিলে”?

অথবা পড়তে বলবো, মহাভারত-

আসুন জানি, কিছুটা মহাভারত কাহিনী! শকুনি মামা’র জীবনীটা ঘাটি একটু উল্টা করে; কারণ আমরা জানি উনি নাকি “নির্মম আত্মীয়”? আসলেই কি তাই? দেখি তবে-

১) ‘শকুনি’ ছিল মহারানী গান্ধারী’র শত ভাইয়ের সবচেয়ে ছোট ভাই, যে ছিল পোলিও রোগে আক্রান্ত; এক পা খোঁড়া। মানে মহারাজ ধৃতরাষ্ট্রের ছোট শ্যালক ও দুর্যোধনদের আপন ছোট মামা।

২) রাগ করে শশুড় ও তার শত পুত্রকে এক জেলে পুড়ে দিলো আপন মেয়ের জামাই মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র। জেলখানায় তাদের খেতে দেওয়া হত, শুধুমাত্র এক মুঠো চাল! তাও ছড়িয়ে দেওয়া হতো জেলখানার মাটিতে খুঁটে খুঁটে খাওয়ার জন্য। ১০১ জন মানুষকে আই মিন দাদু আর মামাদের সেই চাল খুঁটতে দেখে নাতি-ভাগ্নে- দুর্যোধনরা মজা নিত; তারাও যে ছিল শত ভাই।

৩) শকুনি’র বাবা আর তার বড় ভাই’রা- সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলো, “এই এক মুঠো চাল খেয়ে আমরা একজনও বাঁচবো না; সবাই না খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবো। তারচেয়ে সবচেয়ে ছোট’টাকে এই একমুঠো চাল খাইয়ে বাঁচিয়ে রেখে যাবো”। সবাই মিলে প্রতিদিন খুঁটতে শুরু করলো মাটিতে পড়া সেই চাল; ক্ষুধার্ত পেটে!

৪) মরার আগে বাবা, ছোট্ট শিশু ‘শকুনিকে’ কানে কানে বলে গেল, “আমাদের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তুই প্রতিশোধ নিবি এক এক করে। আর আমার হাড় দিয়ে বানাবি পাশা’র গুঁটি। সেই গুঁটিকে তুঁই যা যা বলবি তারা তাই তাই শুনবে আর সেগুলোই হবে তোর প্রতিশোধের হাতিয়ার”।

৫) বেঁচে গেল শকুনি! মৃতপুরীতে ভাগ্নেরা এসে দেখে ১০০ জনই মারা গেছে শুধু ছোট একটা শিশু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে আসছে তাদের দিকে। অন্য ভাগ্নেরা তাকে তাৎক্ষণিক মেরে ফেলতে চাইলেও বড় ভাগ্নে দুর্যোধনের কাছে তার ‘লাফিয়ে লাফিয়ে হাঁটাটা’ দেখতে ভীষণ মজা লাগলো; আবারো বেঁচে গেল শকুনি। আমাদের জানা সেই “শকুনি মামা”!

এখন কি শকুনি মামাকে “নির্মম আত্মীয়” বলে মনে হচ্ছে?

মহাজন বলে- মশাই, কলা তুমি একাই খাবে? তা হবে না, তা হবে না!

১১/০৫/২০১৫ দুপুরঃ ১২.৫৪