ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

গত কিছুদিনে একের পর এক ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমি রীতিমত অস্থির আছি! এর মধ্যে আদিবাসি ‘গারো’ মেয়েটার ধর্ষণকান্ডটা শুনে রীতিমত আপসেট! আমি ঘটনার পরমপরায় যাবো না; শুধু কিছু বিষয়ে আলোকপ্রাত করার চেষ্টা করবো- যা আসলে আমাদের সংবাদপত্রগুলোত এসেছে; এসেছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও!

খবর থেকে যতটুকু জানতে পাড়লাম; তা থেকে যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে আমরা কি পাই? আসুন দেখে নেওয়া যাক-

১) কুড়িল রেল গেটের যে এলাকা থেকে মেয়েটিকে কিডন্যাপ করে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং যে এলাকায় ঘুরে ঘুরে তাকে রেপ করা হয়েছে, সেই এলাকাটা ঢাকা শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকার মধ্যে একটা। এবং এখানে সবসময় পুলিশ, ট্র্যাফিক সার্জেন্ট ও অনেক ধরণের ফোর্স থাকে। মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার সময় নিশ্চয় আশেপাশে অনেক মানুষ ছিল; তারা দেখে চিল্লাচিল্লি করেছে? জানিয়েছে পুলিশকে? পুলিশের ওয়্যারলেসগুলো তো সাথে সাথে একটিভ হওয়ার কথা ছিল?

২) “রাত ৯টা থেকে ১০টা বা এর আশেপাশের সময়টা”- এই এলাকায় তেমন কোন রাতই না? প্রচুর ব্যস্ত থাকে এই এলাকাটা; থাকে যানজট। পাশাপাশি মাইক্রোবাসটা ঘুরেছে এয়ারপোর্ট (ভিআইপি) রোডের বিমান বন্দরের মোড় হয়ে কুড়িল ফ্লাইওভার হয়ে প্রগতি সরণীর নতুন বাজারের কাছাকাছি যেয়ে- মোড় ঘুরে আবার যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে দিয়ে এয়ারপোর্ট রোডে এসেছে; গেছে উত্তরার জসিম উদ্দিন রোডে। দেড়-দুই ঘন্টা সময়ে নিশ্চয় তারা খুব আস্তে গাড়ী চালাতে পারে নাই? তাই আমি মনে করি- এই এলাকা দিয়ে তাদেরকে কয়েকবারই চক্কর দিতে হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি–বেসরকারি অনেক সিকিউরিটি ফোর্সের সামনে দিয়ে বীরদর্পে ঘুরে ঘুরে মেয়েটিকে রেপ করেছে রেপিস্টরা। তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনরকমের শঙ্কায় ভোগেনি। তারা জানতো তাদের গাড়ী কেউ আটকাবে না। ও হ্যাঁ! এই এলাকাটাতেই আছে আমেরিকাসহ অনেক দেশের দূতাবাস যা সবচেয়ে আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম দিয়ে আবৃত থাকে সবসময়; থাকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও! তাই এখানে গাড়ীটা যদি সত্যিই এসে থাকে তাহলে তা অবশ্যই রেকর্ডে আছে!

৩) একজন যদি মেয়েটিকে আগে থেকেই চিনতো; তাহলে নিশ্চয়ই সে পরে যমুনা ফিউচার পার্কে তার ধর্ষক বন্ধুদের নিয়ে আবারো মেয়েটিকে দেখে এসেছে দূর থেকে এবং ওইদিন তাকে ফলো করেছে গাড়ী নিয়ে। সিসিটিভির ছবিতে তাদের পাওয়া যাবেই। অথবা ওই মেয়ের সাথে কাজ করে এমন কেউ বা পাশের দোকানের অন্যকেউ মেয়েরটার ছুটি হওয়ার খবর ধর্ষণকারীদের দিয়েছে। বা তাদের একজন তাকে পিছন থেকে ফলো করেছে!

৪) একজনের পর একজন ধর্ষণ করেছে গাড়ী মধ্যে খুবই ঠাণ্ডা মাথায়! এবং ধর্ষণ শেষে মেয়েটিকে রাস্তায় ভালভাবে নামিয়েও দিয়েছে এবং দিয়েছে শাসিয়েও। এতে ধরে নেওয়াই যায় যে এই ধর্ষণকারীরা এইরকম কাজ আগেও করেছে একইভাবে। আনকোরা কোন অপরাধীর কাজ হলে তারা মেয়েটাকে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করতো; ছেড়ে দিত না!

৫) ধারণা করি, ধর্ষকরা সেই এলাকার বড় ধরণের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সন্তান! তাই তাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে অথবা ইতিমধ্যেই চলে গেছে! এর পর দেওয়া হবে ধামাচাপা; তারপর আমাদের শোনানো হবে, “কয়েকটা দুষ্ট ছেলে এবার টার্গেট করে রেপ করেছে; ভুলে যান ছোটখাট এই বিষয়টা”!

যা বললাম, তার পুড়োটাই আমার ধারনা; ভুলও হতে পারে! সেই ছোটবেলায় শার্লক হোমস পড়েছিলাম কিনা? তবে আর যাই হোক- মেয়েটার অসীম সাহসের কারণে এবার আর ‘রেপ’ কথাটাকে লুকাতে পাড়বে না; আমাদের সেই মহাজনেরা!

অফটপিকঃ শালার এই ছোট্ট জীবনে অনেক কিছুই দেখেছিলাম, শুনেছিলাম; টার্গেট করে ডাকাতি শুনেছি, লুট শুনেছি, কিলিং শুনেছি? এইবারই প্রথম ‘টার্গেটেড গ্যাং রেপ’ শুনলাম!

আমার ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতাঃ ছোটবেলায় আমাদের বাড়ীতে অনেক গারো সম্প্রদায়ের ছেলে কাজ করতো। তাদের সাথে আমাদের একটা পারিবারিক ভালবাসা তৈরী হয়ে গেছিলো। এডিশন, শরৎ নামগুলো এখনো মনে দাগ কেটে আছে! এর মধ্যে ‘সুশান্ত’ নামে একজন আমার কিছুদিনের গৃহশিক্ষক ছিলেন; যদিও রাতে তিনি বাড়ী পাহারা দেওয়ার কাজ করতেন! শুধু পেটের দায়ে >>>

এইসব নিরহংকারী আর সাদাসিদে মানুষদের ভুলি কেমন করে?

আগের লেখাঃ এডিসন’রা এখনো ভোগায়!

২৫/০৫/২০১৫ রাতঃ ৪.১৮, আপডেটঃ ৪.২৩ বিকাল