ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

যেখানে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে তিক্ততা ক্রমেই বাড়ছে; সেখানে বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমা আন্তর্জাতিক আদালত থেকে সমাধান করে আনতে পেড়েছে। পাশাপাশি তার প্রতিবেশী দুদেশ মিয়ানমার ও ভারতকেও খুশি রাখতে পেড়েছে। বিশ্বে এ এক অপূর্ব নজীর; যেখানে শাতিল আরব নিয়ে ইরান আর ইরাক টানা ৯ বছর যুদ্ধ করেছে কিন্তু সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। এখন সেই একই সমস্যা ফিরে এসেছে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যেও। এই দুই শক্তিশালী দেশের মধ্যেও যুদ্ধ বাঁধি বাঁধি করছে!

এথেকে একটাই উপসংহার টানা যায় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বদানের যোগ্যতা পৃথিবীর অনেক নেতা থেকে যোজন যোজন দূর এগিয়ে। আমি এই ব্লগেই একটা পোস্টের কমেন্টে বলেছিলাম, “শেখ হাসিনা এই ভূমির সেরা রাষ্ট্রনায়ক”! আসুন দেখে নেওয়া যাক- আমি কথাটা ভুল বলেছিলাম; না ঠিক বলেছিলাম।

আলোচনার প্রথমেই তার ক্ষমতা আরোহণের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ ও ২০০৯ থেকে মে ২০১৫ পর্যন্ত সময়কালকে বিবেচনায় নিচ্ছি! দেখি তিনি এই সময়কালে বড় কাজ কি কি করতে পেরেছেন যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত?

১) গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি।
২) পার্বত্য শান্তি চুক্তি।
৩) মিয়ানমার–বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা নির্ধারণ।
৪) ভারত-বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা নির্ধারণ।
৫) ভারত-বাংলাদেশ স্থল-সীমান্ত চুক্তি।

এই প্রতিটি কাজ এক একটা মাইলস্টোন এবং সবগুলোর সমাধান হতে লেগেছে ২৫ থেকে ৪২ বছর। এর সবচেয়ে ভাল দিক হলো, এর সবকয়টিই হয়েছে আলোচনা ও আন্তর্জাতিক সালিশির মাধ্যমে।

আমি আলোচনার ব্যাপ্তিটা কম রাখার জন্য শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর উল্লেখ করলাম এবং এই পাঁচটা চুক্তিই তাকে আগামি দিনে একজন বিশ্বনেতায় পরিণত করবে। আমি এও মনে করি, এই চুক্তিগুলোই তাকে বিশ্বশান্তিতে নোবেল পুরস্কার এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। যদি এই কাজগুলোর একটাও আমেরিকার কোন প্রেসিডেন্ট করতো তাহলে ওই বছরেই তিনি শান্তিতে নোবেল পেতেন!

বাকি আলোচনাটা কমেন্টে করার আশারাখি >>>

অফটপিকঃ

১) যখন নোবেল কমিটিকে বেয়াড়া কোন আদমি জিগায়, আচ্ছা! আপনারা এত শান্তিবাদীদের নোবেল দিচ্ছেন কিন্তু বিশ্বে এই শান্তিবাদীদের পথপ্রদর্শক “মহাত্মা গান্ধী”কে কেন এই পুরস্কার দেননি? এই প্রশ্ন শোনামাত্র বর্তমান নোবেল কমিটি টেবিলের নীচে লুকায় তাদের পূর্বসূরিদের আকাম ঢাকতে! আগামীতে যেন নোবেল কমিটিকে “শেখ হাসিনাকে কেন নোবেল দেওয়া হয় নাই?” এই প্রশ্ন শুনে টয়লেটে লুকাতে না হয়; তার সুব্যবস্থা এখনি এরা করে রেখে যাবেন আশা করি!

২) নোবেল শান্তি পুরষ্কারের তালিকা দেখলে পাওয়া যাবে সেখানে আছে হেনরি কিসিঞ্জারেরও নাম! আরে ভাই, যার কারণে পৃথিবীতে ‘শয়তানীর’ নাম হয়েছে ‘কিসিঞ্জারী’ সেও পেয়েছে “নোবেল শান্তি” পুরস্কার তার একটা পার্টিকুলার কাজের জন্য। এথেকে এটাও প্রমাণ হয় যে নোবেল কমিটি একজন রাজনীতিবিদের দুর্বলতা না খুঁজে খোঁজে সফলতা।

৩) এবার আসি, আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্টের নোবেল শান্তি পুরষ্কার প্রাপ্তিতে। মিঃ ওবামা নিজেও অবাক হয়েছিলেন তাকে নোবেল দেওয়া দেখে এবং ওই সময়ের পত্র পত্রিকা দেখলে দেখা যাবে অবাক অবাক করা সব রিপোর্ট। এর মধ্যে প্রথম আলোতে ফারুক ওয়াসিফ একটা স্যাটায়ার লিখেছিলেন, যাতে তিনি ওবামার নোবেল প্রাপ্তিকে “পোস্ট পেইড” বলেছিলেন; অর্থাৎ আমাকে কেউ যদি বলে, “সুকান্ত তোমাকে আগামী ৫ বছরে বেতন এডভান্স দেব আমাদের প্রতিষ্ঠানে যোগ দাও”! সে ক্ষেত্রে আমি যা করতাম; মিঃ ওবামাও তাই করছেন, নোবেল পকেটে রেখে বিশ্বে শান্তি আনয়ন করছেন। অবশ্য অন্যদেশে ড্রোন, বিমান, কমান্ডো হামলা এই শান্তি পুরষ্কারের বাইরের ঘটনা।

মোটোঃ বলা হয়- রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়েও না; তাহলে সে তোমাকে হিপ্টোনাইস করে ফেলবে; তারপর খাবে”! আমেরিকান লেপার্ডটা ভুল করে রয়েল বেঙ্গলের চোখের দিকে তাকিয়েছে!

৩০/০৫/২০১৫