ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

ঘন জনবসতির এই দেশে, রাজধানি ঢাকা ও আমাদের বড় বড় শহরগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পাবলিক টয়লেট নেই! এই বিষয়ে আমি মনে করি দলমত নির্বিশেষে আমরা সবাই একমত হবো? দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক যদি হয় পুরুষ; তাহলে বাকি অর্ধেক হলো নারী। এখন এই টয়লেটবিহীন নগরগুলোতে প্রতিদিন লাখ লাখ নরনারী চলাচল করে। তাদের কি কারো টয়লেট চাপে না? নাকি এটা শুধু পুরুষেরই চাপে?

ধারণা করি- এই প্রাকৃতিক কাজ নরনারীর উভয়েরই চাপে। প্রকৃতিগত কারণে ও চক্ষুলজ্জা কম থাকায় আমরা পুরুষেরা যেখানে সেখানে প্যান্টের জিপার খুলে দাঁড়িয়ে যেতে পারি বা বসে যেতে পারি লুঙ্গি তুলে! আমাদের সমাজ সেটা এলাউও করে! কিন্তু মেয়েরা তা পারে না বা আমাদের সমাজ তা এলাউ করে না! তাহলে মেয়েরা কী করবে? হ্যাঁ! তারা একটা বিকল্প উপায় বের করে ফেলেছে আর সেটা হলো ‘জল কম খাওয়া’! অর্থাৎ বাইরে বের হবে এটা মেনে নিয়েই মেয়েরা জল কম খায়; যাতে করে অন্তত চাপ কম থাকে বা আসে। কিন্তু এটার একটা ভয়াবহ ব্যাড ইফেক্ট আছে- আর সেটা হলো কিডনি ড্যামেজ হওয়ার আশঙ্খা!

শুধু টয়লেট চাপার ভয়ে যদি মেয়েরা মৃত্যুর মুখে পড়ে তাহলে কি বিষয়টা ঠিক হলো? আমি বলবো, ঠিক তো হলই না বরঞ্চ অপরাধ হলো! অথচ হাজার হাজার বাড়ি-ঘরের মাঝে মাঝে একটা করে পাবলিক টয়লেট স্থাপন করে দিলেই কিন্তু ল্যাঠা চুকে যেত? আমাদের রাজউক শুধুই বাড়ি-অফিস বানানোর প্লট বরাদ্দ দিয়ে থাকে! কেউ কি শুনেছেন, তারা হাউজিং প্রোজেক্টগুলোতে একটা করেও পাবলিক টয়লেটের জন্য প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন? আমি যতদূর জানি- উত্তর হবে ‘না’! যদিওবা কাগজে কলমে থাকে কিন্তু ফিল্ডে যেয়ে দেখা যাবে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে কোন হোমরাচোমরার সাক্ষাৎ বাড়ি!

তাই রাজউককে বলছি, কেন রে ভাই- ব্লকে ব্লকে দুটা করে ‘পাবলিক টয়লেটের প্লট’ বরাদ্দ দিলে কি আপনাদের কমোডের জায়গা কমে যেত? যাউকগা! এতক্ষণ সমস্যা নিয়ে নিজের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা চালালাম! এবার এই বিষয়ে একটা উদ্ভট চিন্তাযুক্ত সমাধান বলি, লাইগাও যাইতে পারে!

আমাদের সবেধন নীলমণিখ্যাত যে কয়টা পাবলিক টয়লেট এখনো শহরগুলোতে আছে তাদের পরিবেশ খুবই নোংরা! কিন্তু দেখা যায় টেবিল পেতে ২-৫ টাকা ঠিকই তুলছে। ফাঁকি দিয়ে যে বের হয়ে যাবো তার সুযোগ নেই! তাহলে এই টাকা কারা নিচ্ছে? নিচ্ছে হলো- বিভিন্ন এলাকার রাজনৈতিক নেতা, খ্যাতা আর তাদের চ্যালা-চামুণ্ডারা! তাহলে কি আমরা পাবলিক টয়লেটেও ‘কাজ’ সারার জন্য ভাল পরিবেশ পাবো না? এমনই দুর্গতি নিয়ে এদেশে জন্মেছি?

এর চেয়ে কি এটা ভাল হতো না যে, আমাদের যতগুলো পাবলিক টয়লেট আছে এবং আগামিতে যেগুলো হবে; সবগুলোর রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব পার্মানেন্টলি আমাদের সমাজের ‘হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষদের দিয়ে দেওয়া? তারা কিন্তু এর রক্ষনাবেক্ষনটা ভালই করবে কারণ এটা তাদের ‘প্রায় জন্মগত’ পেশা! আর ওরা ওদের পেশাকে ভালও বাসে; শুধু রাষ্ট্র ওদের একটু আদর দেখালেই চলবে!

বাদবাকি সবকিছু ক্লিন থাকবে >>>

০৪/০৬/২০১৫ রাতঃ ৯.৫৪