ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

১)

ছেলে হওয়ার খুশিতে ডগোমগো হয়ে রাজামশাই জিজ্ঞাসা করলেন, গোপাল, আমার ছেলে হওয়ার খবরে তোমার কেমন লাগলো?

গোপালও খুশিতে ঝটপট বলে ফেললো, হাগা’র মত আমার পেলাম!

শুনে রাজামশাই ভীষণ ক্ষেপে গেলেন এবং তৎক্ষণাৎ গোপালকে শূলে চড়ানোর আদেশ দিলেন!

উত্তরটা বুমেরাং হয়ে গেছে দেখে তৎক্ষণাৎ গোপাল, রাজামশায়ের কাছে একটা সুযোগ চাইলেন এবং সিদ্ধান্ত হলো আগামীকাল কাকডাকা ভোরে গোপাল রাজাকে নিয়ে নৌ ভ্রমণে যাবেন!

পরদিন যথারীতি রাজামশাই আর গোপাল কয়েকজন মাঝিমাল্লা নিয়ে নৌভ্রমণে গেলেন! গোপাল মাঝিদের নৌকা মাঝনদী বরাবর চালাতে নির্দেশ দিলেন এবং তার নির্দেশ ছাড়া নৌকা অন্যদিকে ঘুরাতে না করলেন।

নৌকায় খোশগল্প আর হালকা খানাপিনা করতে করতে রাজা মশায়ের সকালের চাপটা এলো! প্রথমে রাজামশায় সেটা চেপে যেতে চাইলেও তার শরীর থেকে দর দরিয়ে ঘাম বের হওয়াটা ঠেকাতে পারলেন না! আর টিকতে না পেরে অবশেষে গোপালকে বলেই ফেললেন, “গোপাল, নাউ ভিড়াও পাড়ে! পারিনা আর ঠেকাতে”!

শুনে গোপাল বলল, মহারাজ আর একটু পরেই সূর্য উঠবে; তখনই নাউ ভিড়াবো চরেতে!

রাখ সূর্য ওঠা; নৌকা একই ভিড়া! না হলে কিন্তু আমি এখনই নদীতে ঝাঁপ দিমু! বলেই রাজা মশায় উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করলেন কিন্তু গোপালও নাছোড়বান্দা সে রাজাকে একটা শিক্ষা দিয়েই ‘তার শূলে চড়ানোর রায়’ বাতিল করাবেন বলে পণ করেছেন! বললেন, না! আজ আমি যা বলবো তাই আপনাকে মানতে হবে” –এটাই চুক্তিতে আছে রাজা মশাই?

শুনে রাজামশাই কাঁদো কাঁদো মুখে অনেক কাকুতি মিনতি করতে লাগলো! তারপর আরও একটু সময় নিয়ে শেষে গোপাল নৌকাটা একটা চরে ভিড়িয়ে দিলেন; আর রাজা মশাই কালবিলম্ব না করে লাফিয়ে নৌকা থেকে নেমে মুখ ঢেকে সবার সামনেই দিলেন; হেগে!

২)

বাংগাল ভাই বলল, দাদা, ‘মুত্রখানা’ নিয়ে সেইরাম একখানা পোষ্ট দিলাম; পড়ে আপনার ক্যামন লাগলো?

বললাম, মুতে যেমন আরাম পাই তেমন আরাম পাইলাম!

শোনামাত্রই বাংগাল ভাই ফাল দিয়ে উঠে বলল, আপনার সাথে আর ব্লগিংই করুম না! দাঁড়ান আপনাকে এমন ‘ট্যাগ’ দিমু যে খালি দৌড়েও উপ্রে থাকবেন; আর পিছন ফিরে ফিরে তাকাবেন!

মুখ ফসকে সত্য বলে প্যাঁচে পড়ে গেছি দেখে- অনেক কাকুতি মিনতি করে, আজ ভোরে দুইজন এক সাথে গাবতলি থেকে মতিঝিলে যাওয়ার টাইম নিলাম।

আজ সকালে, টাইমমত আমরা বাসে উঠলাম! তারপর বাংগাল ভাইকে কোক, ডাব, রুআফজা’র শরবৎ, বেলের শরবৎ, মাঠা সমানে খাওয়াতে শুরু করলাম; আর মাগনা পেয়ে সে তা সমানে গিলতে লাগলো! আফটার অল বাংগাল তো বাঙ্গালীই তাই মাগনা পাইলে ছাড়বে কেন? আমি হলে কি ছাড়তাম?

গাড়ী জামে আঁটকে গেছে; দুইঘন্টা আগে রওনা হলেও এখনো ফার্মগেটই পৌঁছাতে পারি নাই; গত একঘণ্টা শ্যামলী মোড়েই আঁটকে আছি! কিছুক্ষণ ধরে বাংগাল ভাইকে দেখি এই জানালা ও জানালা দিয়ে তাকাতাকি করছে! বললাম, কি হইছে? বলল, একটু যে নামতে হয়! বললাম, পরে নামেন; এই জ্যাম ছাড়লেই একটানে মতিঝিল; বসে থাকেন চুপচাপ!

আরও একঘণ্টা পেরিয়ে গেছে- গাড়ী একটু এগিয়ে সংসদ ভবনের মোড়ে আবারও আঁটকে গেছে! এর মধ্যে অবশ্য আমি তাকে আরও দুই গ্লাস তোতমা’র খাঁটী ‘সালসা’ শরবত খাওয়াছি! আর শরীরে জোড় হবে ভেবে উনিও তা কতকত করে গিলে ফেলেছে!

মোচড়ামুচড়ি করছে আর ঘামছে দেখে বললাম, কি হইছে? উনি বলল, না কিছু না; একটু নামতে পাড়লে ভাল হত! বললাম ধুর! নামবেন কেন? এখন নামলে আর বাসে উঠতে পাড়বেন? আগে মতিঝিল যাই তারপর নামেন! বলতে বলতেই জ্যাম ছেড়ে দেওয়ায় বাসটা একটান দিয়ে ফার্মগেট পার করে কয়েকটা ব্রেক দিয়ে কারওয়ান বাজারে এসে দাঁড়ালো! আর তখনই বাসের প্যাসেঞ্জারদের ঠেলা গুঁতা দিয়ে ফেলে দিয়ে দেখি উনি বাস থেকে নেমেই ভোঁ দৌড় দিচ্ছে! আমি, পিছন থেকে ‘কোথায় যান’ বলার সময়ও পেলাম না!

ফিরে আসার পর জিগাইলাম, এত মানুষের মধ্যে রাস্তায়ই কাজটা সারলেন? উনি লজ্জায় কিছু বললেন না! আবারও জিগাইলাম, আমার সাথে আরও ব্লগিং করবেন?

শুনে, বাংগাল ভাই মাথা চুলকে একটা লাজুক হাসি দিলেন মাত্র >>>

১১/০৬/২০১৫