ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

একটা বিষয় সবসময় খেয়াল করি। আমরা যখনই বাসে উঠি তখনই আমরা আমাদের মুখের লাগাম খুলে ফেলি। খুলে ফেলি ভদ্রতার মুখোশ। এই যেমন ঢাকা শহরে আমাদের প্রাত্যহিক চলাচলে বাস একটা অপরিহার্য যানবাহন। আমরা মানি আর না মানি, এতে আমাদের সবাইকে কমবেশি উঠতে হয়; হাতেগোনা উচ্চবিত্তের কিছু মানুষ ছাড়া। উঠেই আমরা যে কাজটা করি- তা হলো নিজেদের যতরকম বিরক্তি আছে তা মনের এক জায়গায় পুঞ্জিভূত করে রাখি। আর যখনই বাসের হেলপার বা কন্ডাক্টর ভাড়ার জন্য এসে দাঁড়ায় বা ড্রাইভার বাস চালাতে ঢিলেমি করে তখনই তা তাদের উপর ঝেড়ে ফেলি; শুরু করি অকথ্য গালাগাল। নিদেনপক্ষে একটা মুখ ঝামটা তো দেই -ই।

হ্যাঁ! আমি বলছি না যে এতে বাসের ড্রাইভার বা হেলপারের কোন দোষ থাকে না। তাদের অবশ্যই অনেক দোষ আছে, তারা সঠিকভাবে বাস চালায় না, সিটিং-এর নামে চিটিং করে, বেশি ভাড়া নেয়, রাস্তায় বাস তেরছা করে রেখে জ্যাম বাঁধায়, বাসে-বাসে গুতোগুতি করে কাঁচ ভাঙে;  প্যাসেঞ্জারদের ভয় পাইয়ে দেয়। এছাড়াও এরা ইচ্ছাকৃতভাবে চলতি বাসটাকে সিগন্যালে ফেলে দিয়ে অতিরিক্ত প্যাসেঞ্জার তোলে; অফিস-বাসামুখি মানুষদের দেরি করিয়ে দেয়।

অবশ্য এর কোনটাই বিনা পানিশমেন্টে যায় না। বাসের ড্রাইভার থেকে কন্ডাক্টর-হেলপার সবাই অকথ্য গালি খায়; মাঝে মধ্যে খায় মাইরও। কিন্তু তারপরেরও এর কোন পরিবর্তন হয় না। কিন্তু কেন?

আমরা কি জানি, বাসে কর্মরত এই মানুষগুলোকে যাদের আমরা ড্রাইভার, কন্ডাক্টর, হেলপার হিসেবে ডাকি- তারা কত টাকা বেতন পায়? সারাদিনে কী খায়? বাস মালিকরা তাদের সাথে কী আচরণ করে? তাদের ডিউটি রোস্টার কী?

না, আমরা জানি না। জানার কোন চেষ্টাও করি না। কখনো কি ভেবেছি, এই মানুষগুলোরও মোটিভেশনের দরকার আছে, আছে তাদের নিয়মিত ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করার।

পরিবার পরিজন নিয়ে এই মানুষগুলো সুস্থ থাকলেই দেশের আরও অনেক মানুষ সুস্থ ও সুন্দর থাকবে; ভাল থাকবে সবকিছু। না হলে, সড়ক দুর্ঘটনা, রাস্তায় জ্যাম আর আমাদের গালাগাল চলতেই থাকবে। কিন্তু এগুলো আমাদের জন্য ভাল কিছু বয়ে আনবে না কখনোই! বরঞ্চ থাকতে হবে ক্ষতির অপেক্ষায়।

অফটপিকঃ বাসে ওঠার সময় বাসের মালিকেরা তাদের ড্রাইভার-হেলপারদের বলে দেয়, “শোন! তোদের বাসে মাত্র দুইজন সুস্থ মানুষ থাকে আর তারা হলো তোরা দুইজন; বাকি সবাই পাগল”।

এই যদি হয় তাদের চলতি মোটিভেশন, তাহলে কি বোঝা যাচ্ছে বাকিটুকু?

১৯/০৭/২০১৫ সকালঃ ৯.০২