ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
ACC-222
মালয়েশিয়ার MH 370 নিখোঁজ হয়েছে আজ প্রায় বছর দুয়েক হলো। অনেক চেষ্টা করেও বিমানটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বোয়িং-৭৭৭ মত এত বড় প্লেনটা কী কারণে নিখোঁজ হলো তার সঠিক কারণ কেউ জানাতে পারেনি এখনো। কিন্তু এই বিষয়ে একটা জেনারেল পার্সেপশন হলো- বিমানটি নিখোঁজের পিছনে পাইলট ও কো-পাইলটের দায় আছে। অর্থাৎ বলা হচ্ছে- বিমানটিকে এরা ইচ্ছাকৃতভাবে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়েছে। এক কথায় বলা যায়- যতদিন না দুর্ঘটনার সঠিক তথ্যটা জানা যাচ্ছে; ততদিন সকলের চোখে পাইলটদ্বয়ই অপরাধী।বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যদি একটা বিমান হিসেবে ধরে নেই; তাহলে এর পাইলট ও কো-পাইলট যথাক্রমে আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টার গভর্নর। আমরা সবাই জানি ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে আমাদের অর্থনীতিতে বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে; যেমন- শেয়ার মার্কেটে লুটপাট হয়েছে, সোনালী ব্যাংক থেকে হলমার্কের নামে চার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, বেসিক ব্যাংকে ভয়াবহ লুটপাট হয়েছে যার পরিমাণও প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা নামে বেনামে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
অর্থনীতি নামক আমাদের বিমানের পাইলটদ্বয়কে বলছি-আপনারা আমাদের দেশের হাতেগোনা কয়েকজন সৎ, বিজ্ঞ ও সম্মানিত মানুষদের দুইজন। ব্যক্তিগতভাবে আমি আপনাদের করজোড়ে প্রণাম জানাই। কিন্তু আমার উল্লেখিত দুর্ঘটনাগুলো যেহেতু আপনাদের দায়িত্বকালীন সময়েই হয়েছে সেহেতু আপনারা এই লুটপাটের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। মালয়েশিয়ার জেটের পাইলটদ্বয়ের মত আম-জনতার চোখে আপনারাও আসামী; যতক্ষণ না আপনারা প্রকৃত অপরাধীদের ধরিয়ে দিচ্ছেন অর্থাৎ ‘ব্ল্যাক বক্স’ এর তথ্য উদ্ধার করা যাচ্ছে।আজ প্রথম আলোর “আবদুল হাই বাচ্চুকে ধরার সাধ্য কার” শিরোনামের খবরটা পড়লাম, বেসিক ব্যাংকে লুটপাটের নায়ক বাচ্চুকে আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক) দায় মুক্তি দিচ্ছে অর্থাৎ তাকে বাদ দিয়ে অন্যদের আসামি বানাচ্ছে! খবরটা পড়ে রীতিমত অবাক হয়েছি; প্রথম যে প্রশ্নটা আমার মাথায় এসেছে তা হলো- দুদক দায়মুক্তি দেওয়ার কে? কে অপরাধী আর কে ভাল মানুষ; এটা বিচার করার জন্য আমাদের আদালত আছে, আছে সুপ্রিম কোর্ট! ব্যাংকের প্রধান হিসেবে যার দায়িত্বকালীন সময়ে বেসিক ব্যাংকে এত বড় লুটপাট হলো; তাকে বাদ দেওয়ার অধিকার কি দুদুকের আছে? নাকি দুদক নিজেই নিজেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ভাবছে? দুদক হয়ত ভুলে গেছে এই ব্যাংক একটা সরকারি ব্যাংক এবং এখান থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে যা সম্পূর্ণ এই দেশের জনগণের সঞ্চিত টাকা। নাকি গল্পের সেই “বেড়ায় ক্ষেত খাওয়ার” মত করে দুদুকের দুর্নীতি ঠেকানোর জন্য আরও একটা কমিশন গড়তে হবে এই অভাগা জাতিকে?খবরে আরও পড়লাম, সরকার লুটপাটকৃৎ হাজার হাজার কোটি টাকার এক পয়সাও উদ্ধার না করে সরকারেরই কোষাগার থেকে আরও দুই হাজার কোটি টাকা দিয়ে বেসিক ব্যাংককে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে চাচ্ছে। আই থিংক ইটস এ রাবিশ চিন্তা!সরকার ব্যাংকটিকে বাঁচাক এতে আমার কোন আপত্তি নাই! কিন্তু সেটা হতে হবে লুটেরাদের যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। হতে হবে প্রকাশ্য আদালতে প্রকৃত অপরাধীদের কঠোর বিচার।কিন্তু তা না করে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ থেকে দেওয়া করের টাকা দিয়ে ব্যাংকটিকে বাঁচানোর বুদ্ধিটাকে আমি আরও একটা ‘কূটবুদ্ধি’ মনে করছি! পাশাপাশি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একজন নিয়মিত আয়কর দাতা হিসেবে মনে করি- এই দুই হাজার কোটি টাকার মধ্যে আমার ‘এক পয়সা’ হলেও আছে এবং আমি তা লুটের টাকায় ভর্তুকি হিসেবে দিতে রাজী নই।তারপরেও যদি গো ধরে আপনারা এটা করতেই চান? তাহলে অনুরোধ করবো- এই বিষয়ে জনগণের অনুমতি নিন; গণভোট দিন!তারপর গুনি- কোন ব্যালটে কত ভোট? বাচ্চু’রা আপনাদের কয় ভোট এনে দেয়?অফটপিকে একটা গল্প বলি-

গ্রামের কৃষক পারিবারের এক যুবতি মেয়ে, রাতে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘরের বাইরে বের হয়েছে আর তখনই ওত পেতে থাকা পাশের বাড়ীর প্রভাবশালী পরিবারের ছেলেরা তাকে মুখে চেপে ধরে নিয়ে যেয়ে একটা পাটক্ষেতে ধর্ষণ করেছে।
পরদিন গ্রাম্য বিচারে মেয়েটিকেই এর জন্য দায়ী করা হলো আর তার গরীব বাবাকে করা হলো জরিমানা।

গ্রাম্য বিচারে প্রভাবশালীদের চাপে যখন সেই অভাগা বাবাটির আর কিছুই করার ছিল না; তখন সে প্রতিবাদের স্বরে চিৎকার করে বলে উঠলো- আমার মেয়ে, আমার পাটক্ষেত আবার আমিই দিবো জরিমানা? এই বিচার আমি মানি না!

সরকারের আচরণ দেখে আমারও বলতে ইচ্ছে করছে- আমাদের ব্যাংক, আমাদের টাকা আবার আমরাই দিবো জরিমানা? এই বিচার আমরা মানি না!

০৫/০৮/২০১৫ রাতঃ ৯.৫৭