ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

ক্যাপ্টেন মাতিউল ভাই ফোন দিয়ে বলল, দাদা যদি আমরা আপনাদের একটার জায়গায় দুইটা হেলিকপ্টার দেই, সমস্যা আছে?

আমি বললাম, কী! আবার বলেন?

মানে আপনাদের একটা সিক্স সিটারের জায়গায় যদি দুইটা ফোর সিটার একই কষ্টে দেই, তাহলে কি নিবেন?

বললাম, নিমু না মানে? দাঁড়ান তার আগে একটু বুইঝা লই! আর আমার দুইটা প্রশ্নের উত্তর দেন! নাম্বার ওয়ান হলো, আপনার প্রস্তাবে হ্যাঁ করে পরে আবার ফাইশা যাবো না তো? দুই নম্বর হলো, আমাদের টার্গেট এরিয়াগুলোতে দুইটা একসাথে নামাওঠা করতে পারবে কিনা?

দুটোতেই মাতিউল ভাই হ্যাঁ করা মাত্র ডিরেক্টর স্যারকে জানিয়ে ডিল ফাইনাল করলাম। নেমে পড়লাম ২৬ অক্টোবরের জাপানি বায়ারদের ভিজিট প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজে! জীবনে প্রথমবারের মত চোখের সামনে হেলিকপ্টারে ওঠার সুযোগ দেখতে পাচ্ছি! সিটের সংখ্যা যত বাড়বে আমার তাতে চড়ার সুযোগ তত বাড়বে! গরুগাড়ি থেকে বিমান সবটাতেই চড়েছি বাকী আছে একমাত্র হেলিকপ্টার এবং তা এবার নাগালের মধ্যেই! কাজের স্পিড বেড়ে গেল!

ফ্লাইট সিডিউল অনুযায়ী ২৬ তারিখের সকালে শাহজালাল বিমানবন্দরে দুই টার্মিনালে আমি আর আমার বস সালাউদ্দিন ভাই অবস্থান নিলাম! বুঝতে পারছিলাম না তারা কোন গেট দিয়ে বের হবে! ভিতরে ঢোকার টিকেট কাটতে চাইলে কাউন্টারে আমাকে বললো, টিকেট বিক্রি নিষেধ! আমি বললাম, কেন? উত্তর দেয় না। আবার জিজ্ঞাসা করলাম! এবার কাউন্টারের ভিতরে বসে থাকা অন্য একজন উত্তর দিলো, উপরের নির্দেশ! একটু পর পুলিশের হুইসেল আর এক্টিভিটি দেখে বুঝলাম কিছু একটা হয়েছে! এক অফিসারকে জিজ্ঞাসা করলাম, স্যার! কি হইছে? উত্তরে তিনি বললেন, বড় স্যার আসছেন! আমি যা বোঝার বুঝে বাইরে এসে দাঁড়িয়ে থাকলাম। পরে শুনেছিলাম সেদিন থেকে বাংলাদেশের বিমান বন্দরগুলোতে রেড এলার্ট জারী করা হয়েছিল।

দুইজন বিদেশির হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ ভ্রমণে যখন বিদেশিরা অনাগ্রহ দেখাচ্ছে, সেখানে আমাদের ডিএমডি স্যারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চার জন জাপানি আমাদের কোম্পানি ভিজিটে আসছেন! আর আমরা স্যারের ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী প্ল্যানও সাজিয়েছি মিশন ইম্পসিবল স্টাইলে! বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারে করে ফ্যাক্টরি ভিজিট তারপর আবার এসে বাকীপথটুকু গাড়িতে করে সরাসরি হোটেল সোনারগাঁও!

আধ ঘন্টা যায়, এক ঘন্টা যায়! জাপানিরা আর বের হয় না! এদিকে হেলিকপ্টারের সিডিউল ভণ্ডুল হওয়ার পথে। কারণ ফিরতি পথে ডে লাইটের অভাব হতে পারে! ভাষাগত কারণে জাপানিরা সাধারণত ফোনে কথা বলতে চায় না এবং আমাদের তারা কোন ফোন নম্বরও দেয়নি! এদিকে ভিতরেরও ঢুকতে পারছি না! ফ্লাইট ল্যান্ড করেছে তাও এক ঘন্টা পার হয়ে গেছে! ভয় হচ্ছিল, আদৌ তারা এসেছে কিনা! বা শেষ মুহূর্তে যাত্রা বাতিল করেছে! উপায়ান্তর না দেখে দিলাম আমার ফোন নম্বর দিয়ে মেইল! প্রায় দশ মিনিট পরে একটা আননোন নাম্বার থেকে ফোন আসলো, রিসিভ করা মাত্র অপরপ্রান্ত থেকে বলল, আই সিবাহারা, কাম, কাম, ঢাকা! আমি বললাম, আন্ডারস্ট্যান্ড, আই এম ওয়েন্টিং টার্মিনাল নাম্বার ওয়ান! কাম!

ওরা বের হওয়ার পর যেতে যেতে জিগাইলাম, এত দেরি হলো কেন? উত্তরে সিবাহারা ক্ষোভের সাথে জানালো, তাদের তিনজন জাপান থেকে বাংলাদেশের ভিসা নিয়ে আসলেও তাড়াহুড়ায় একজন এসেছে ভিসা ছাড়া কারণ জাপানিরা আমাদের দেশে অন এরাইভাল ভিসা পায়! আর সেটা পেতেই যত হাঙ্গামা! আমাদের ভিসা অফিসারেরা তাদের একঘণ্টা দেরি করিয়ে দিয়েছে!
Haor-3 Haor-2 Haor-1
বাকিটা বুঝে গেলাম, আর মনে মনে ভিসা অফিসারদের গালি দিতে দিতে দুইজন করে ভাগ করে আমি আর সালাউদ্দিন ভাই দুই হেলিকপটারে চড়লাম! ভাগ্যিস সেলফি রোগ আমারও হয়েছে তাই ভয় পাওয়ার বদলে দাঁতগুলো বার বার বের হচ্ছিল! তবে একবারই ভয় পেয়েছিলাম সেটা ফিরতি পথে; হাওরের উপরে একটা গাংচিলকে সাইড দিয়ে যেয়ে মাতিউল ভাই হেলিকপ্টারটাকে কাত করে বামদিকে সরিয়ে নিয়েছিল! মনে মনে বলেছিলাম, নীচে বাঘ উপরে পাখি, জাপানিদের নিয়ে আমরা আসলেই ভয়ে আছি!

বাকিটা মিশন ইম্পসিবল স্ট্যাইলে শেষ করলাম!
একটা ভাল সেলফিও তুলতে পারলাম না!

আফসুস!
তবে আমাদের হাওর অঞ্চলের কয়টা ছবি তুলেছি!

০৪/১১/২০১৫