ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

 

দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুঁকে বসকে বললাম, স্যার, এই ব্যাচের প্রোডাকশনের কোয়ালিটি খারাপ হয়েছে, এই তার রিপোর্ট।

উত্তরে বস বললেন, মাঝেমাঝে টুকটাক খারাপ হয়ই, প্রোডাকশনের ব্যাপার, এটা তেমন সিরিয়াস কিছু না; রিপোর্টটা কার্পেটের নিচে রেখে দাও!

দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুঁকে বসকে বললাম, স্যার আমাদের পণ্যের কোয়ালিটি নিয়ে বায়াররা কমপ্লেইন করছে, বিষয়টা সিরিয়াসলি নেওয়া উচিত! এই দেখেন বায়ারদের মেইল!

উত্তরে বস বললেন, বায়াররা মাঝে মাঝে একটু-আধটু কমপ্লেইন করেই। মেইলগুলো কার্পেটের নিচে রেখে দাও!

দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুঁকে বসকে বললাম, স্যার বায়াররা আমাদের প্রেরিত পন্যগুলো একসেপ্ট করতে চাচ্ছে না, ম্যাটার সিরিয়াস, ম্যানেজমেন্টকে জানানো দরকার!

উত্তরে বস বললেন, আরে রাখো! মালের দাম কমানোর জন্য বায়াররা এমন করেই! এগুলোকে ইগনোর করো আর সব মেইল কার্পেটের নিচে রেখে দাও!

বায়াররা পণ্য একসেট না করার কারনে আমাদের পণ্যবাহী কন্টেইনারগুলোর পোর্টে হিউজ ড্যামারেজ এসেছে এবং আজকের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিলে সেগুলো অকশনে চলে যাবে। বিষয়টা জানা মাত্র বসকে জানাতে যাবো এমন সময় বসের রুম থেকে হৈ চৈ শোনা গেল! দৌড়ে গিয়ে দেখলাম, বস শ্বাস নিতে পাড়ছে না, চোখ বড় বড় করে পড়ে আছে!

কারণ খুঁজতে যেয়ে তার রুমটা অনেক নোংরা আর কার্পেটের নিচে অনেকগুলো রিপোর্ট পাওয়া গেল! তাই দেখে ডাক্তার বললেন, কার্পেটে জমে থাকা ধুলো থেকে তার এজমা’র ক্রনিক এটাক হয়েছে! আর ম্যানেজমেন্ট ইস্যু করলেন বসের টারমিনেশন লেটার যাতে কারণ হিসেবে দেখানো হলো, “You made simple things as chronic by hiding important massages under carpet”!

মোটোঃ সময়ের একফোঁড়; অসময়ে তা দশফোঁড়!

অফটপিকঃ ম্যানেজমেন্টের জায়গায় জনগণ পড়তে বাঁধা নেই!

১৪/১১/২০১৫