ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

মিউ মিউ শব্দে তাকিয়ে দেখি একটা সুন্দর নাদুস নদুস বেড়াল ওয়েটিং চেয়ারের নীচে ঘুরে ঘুরে খাবার খুঁজছে। ভাবলাম ছবি তুলে ব্লগে দেই, সিটিজেন জার্নালিজমের একটা চমৎকার নমুনা হবে। গুড় লাগালোর মত করে লেখায় একটা পিন মেরে দিলেই বন্দর অথরিটি এর জন্য নগদে পেরেক খাবে। শিরোনাম হবে, “শাহজালাল বিমানবন্দরেও বিড়াল, নিরাপত্তা কোথায়?”। যেই ভাবা সেই কাজ, বারকয়েক একাত ওকাত হয়ে একটা যুতসই ছবি তুলে ফেললাম। পোস্ট দিতে যেয়ে থমকে গেলাম! অমরদা’র কথা মনে পড়ে গেল।

বহুদেশ ঘুড়ে বেড়ানো আর নয়টি ভাষা জানা আমাদের বায়ার অমরদা হলেন ভারতের গুজরাট অঞ্চলের মানুষ। প্রায় আমার বাবার বয়সী হলে কি হবে, চালচলনে ও কাজের গতিতে তিনি আমাদেরও হার মানায়! অনেকদিন আগে তিনি আমাদের ডিএমডি স্যারের রুমে গল্পচ্ছলে বলেছিলেন, “দেখুন সাহেব, আমি অফিসে আমার লোকদের বকাঝকা করিনা, করলে দেখা যায় তার জেরে মার খায় তার বাড়ীর কুকুর-বেড়াল”। ডিএমডি স্যার হেঁসে বললেন কিভাবে? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, দেখুন, আমি গালি দিলাম আমার কর্মীকে, সে বাড়ীতে যেয়ে দ্বিগুণ রাগে তা ঝাড়লেন তার বউয়ের উপর। বউ সেই রাগে মার দিলেন হাতের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করতে থাকা ছেলেটাকে। ছেলে আর কিছু করতে না পেরে লাঠি দিয়ে বাড়ির কুকুর- বেড়ালকে পেটাতে শুরু করলো। তাহলে পাপ হলো কার?

Cat

সাথে সাথেই আমি ব্লগের লিঙ্ক কেটে দিয়ে মনে মনে বললাম, বেঁচে থাকো বেড়ালমণি! আমার কারনে তোমাকে হত্যা করা হবে- এই পাপ আমি করতে চাই না।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে টিভির স্ক্রিনে ফ্লাইটের গেট নম্বরের খোঁজ করছি, এমনসময় আমার সামনে দিয়ে ইউরোপিয়ান সাজের এক সুন্দরী, ডান হাতে মোবাইল উঁচু করে ধরে হাই কিউটি! হাই কিউটি! চিৎকার করতে করতে দৌড়ে গেল। আমি মাথা সোজা রেখে শুধুমাত্র চোখজোড়া ঘুড়িয়েই দেখি তিনি বেড়ালটার ছবি তোলার জন্য সেটার পিছনে পিছনে ছুটছেন। আর সেই মেয়ের পিছনে পিছনে ছুটছে আরও এক যুবক; কিছুটা লাজুক মুখে। আমার সন্দেহ হলো, ছেলেটির হাতে থাকা পাসপোর্টের দিকে তাকিয়ে দেখি সেগুলো ‘সবুজ’ রঙের; আমারই মত! মনে মনে চিৎকার করে উঠলাম, উলে! উলে!

(অসমাপ্ত)

অনুরোধঃ এই লেখার উপরে ভিত্তি করে যেন বিড়ালগুলোকে তাড়ানো না হয় বা মেরে ফেলা না হয়! বিড়ালটাকে গর্ভবতী মনে হয়েছে!