ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

আজ বিশিষ্ট কবি ও ব্লগার, আমাদের প্রিয় নুরন্নাহার শিরীন আপু’র ৬০ তম জন্মদিন। ইয়েস, আমরা যারা ওনার সাথে ব্লগিং করছি; আমরা কি জানি তিনি একজন সিনিয়র সিটিজেন? সবম্ভতঃ জানি না! কারণ তার লেখা ও ব্লগিং স্টাইল যেকোন তরুণ প্রজন্মের ব্লগারকেই হার মানাবে।

এই ব্লগের অনেক লেখা বিডি নিউজের ফ্যান পেজে শেয়ার দেওয়া হয়। আমাদের বাঙ্গালীর চরিত্র অনুযায়ী সেখানে নামে বেনামে অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী ব্লগের লেখা দেখে- না পড়ে, না বুঝেই আজেবাজে মন্তব্য করতে শুরু করে। একদিন দেখলাম, সেই ফ্যান পেজে শেয়ার দেওয়া তার একটা পোস্টের বিরুদ্ধে আজেবাজে মন্তব্যকারীদের রীতিমত শয়েস্থা করছেন তিনি। আমরা যারা বাংলাদেশে বসবাস করেও ফেসবুকের এইসব ‘হেট স্পীসের’ বিরুদ্ধে পাল্টা মন্তব্য করা দূরে থাক; পড়তেও সাহস পাই না! সেখানে তিনি রীতিমত ‘মুক্তিযুদ্ধ’ করছেন; আর আমি দূরে বসে থেকে তা দেখে মুচকি হাসছি! শেষে নীলকণ্ঠ’র অনুরোধে তিনি সেই অসম যুদ্ধে ক্ষান্ত দিলেন! যেখানে ভাল’রা সব লুকিয়ে থাকে; আর খারাপেরা থাকে দলবেঁধে সেখানে যুদ্ধ শুরু করাই অনুচিত। তারপরেরও আপু সেটা করে দেখিয়েছেন!

বলতে কি আমি, আমি আসলে ব্লগ সম্পর্কে তেমন কিছু না জেনেই এতে লেখা শুরু করেছিলাম। শুধু জানতাম ব্লগে বাংলায় লেখা যায় এবং তা সহজেই প্রকাশ করা যায়। মাঝেমাঝে গুটিকয়েক ব্লগারকে কোন কোন বিষয়ে আন্দোলন করার ছবি পত্রিকায় দেখতাম। ব্লগে লেখার বাইরে আমি কোনদিন কিছু লিখিনি। শুধুমাত্র কিছুদিন ডায়েরী লিখেছিলাম আর অল্প কিছু চিঠিপত্র এর মধ্যে পিতার কাছে ‘টাকা চাহিয়া’ পত্রও ছিল। ২০১১ সালে প্রথমে সামুতে আমার এক কলিগ একাউন্ট খুলে দিলো। সেই কলিগও ব্লগ কি জানতো না কিন্তু নেট সম্পর্কে তার ভাল ধারণা ছিল। কয়েকটা দিনলিপি টাইপের লেখা দেওয়ার পর আমি আর সামুতে লগইন করতে পাড়লাম না; এর কারণ কি সেটাও জানলাম না। পরে বিরক্ত হয়ে এই ব্লগে নিবন্ধন করলাম। আর সেই থেকে শুরু।

শিরীন আপু’র জন্মদিনের লেখায় কেন আমি নিজের গীত গাইছি? সেটা একটা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে! বলছিলাম, আমার প্রথমদিকের লেখাগুলোতে একমাত্র শিরীন আপু নিয়মিত কমেন্ট করে লেখায় উৎসাহ দিতেন। আজ যদি এখানে আমার একটা অবস্থান হয়ে থাকে- তাতে তার অবদান ব্যাপক এবং আমি তা শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করছি!

আর আজকের জন্মদিনের শুভক্ষণে শিরীন আপুকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শুভেচ্ছা জানাই!

খবরে প্রকাশ এই যে, আজকের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ঢাকার একটা নামকরা রেস্তরাঁয় একটা পার্টির সাথে খানাপিনা’র আয়োজন হয়েছে। সেখানে নাকি একটা বড়সড় কেকও আছে! আমি নিমন্ত্রণ পেয়েও দূরত্বজনিত ও আপু যেহেতু নিমত্রণের সাথে বিমান টিকেট পাঠায় নাই যা এখন গুলশান বানানীর সবাই হরহামেশাই করে থাকে! তাই সময়মত উপস্থিত হতে পারছি না! অবশ্য আপুও একটা বড় বাঁচা বেঁচে গেল!

তাই প্রার্থনা করি, আপু যেন আরও অনেক অনেক জন্মদিন পালন করতে পারে আর সময় সুযোগ মত একটাতেই উপস্থিত হয়ে- খাওয়া কাহাকে বলে, উহা কত প্রকার ও কি কি উদাহরণ সহ তা দেখিয়ে দিতে পারি!

শুভ জন্মদিন শিরীন আপু!

৩১.০১.২০১৬