ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

আমি যেমন ব্লগে পোস্ট দিয়েই অপেক্ষায় থাকি আর ভাবি, “সবাই আমার পোস্টে কমেন্ট করবে আর আমি তার উত্তরগুলো রসিয়ে রসিয়ে দেব। নিজে থেকে অন্য কারো পোস্টে কমেন্ট করবো না! লেখা ভাল লাগলেও করবো না, খারাপ লাগলেও করবো না। কারণ এতে যদি আমার জাত যায়? ব্লগার হিসেবে ভ্যালু কমে যায়?” আই এম দ্যা ওনলী ওয়ান! আমিই সেরা! আমিই সব! – আমার এই চিন্তা মার খেয়ে যাওয়ার সম্ভবনা আছে অন্যের পোস্টে কমেন্ট করলে বা অন্যের প্রশংসা করলে!

তেমনি আমরা পুরুষরা আদরে-আপ্যায়নে, ভালবাসায়-পরকীয়ায়, মর্দনে-সঙ্গমে সারাক্ষণ ভাবি, নারীরাই সব দিবে, তারা আমাদের খাবার দিবে, অসুখে-বিসুখে তাদের কোমল হাতের স্পর্শ দিবে, বিছানায় শরীরখানা এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বছর বছর আমাদের সন্তানও দিবে। মাগার আমরা নিজ থেকে তাদের কিছুই দেব না। সামান্য জলটুকুও না। যদিওবা কখনো সময় আসে কিছু দেওয়ার সাথে সাথে তার বিপরীতে একটা শিখণ্ডী খাঁড়া করে দেব; ধর্ষণের ভয় দেখাবো, মেয়েমানুষ বলে গালিগালাজ করবো।

আজ নারী দিবসের বিভিন্ন লেখায় মন্তব্যকারীদের কথাবার্তা পড়ে আমার তাই মনে হলো।

এসব ক্ষেত্রে আমার সচরাচর যা হয় তা হলো কিছু উদ্ভট চিন্তা এসে মাথায় ভড় করে যা মাথা থেকে বের করতে না পারলে সেখানেই ঘুরতে থাকে! ভন ভন করে ঘুরতেই থাকে! র‍্যাম দুর্বল তো তাই লিখে রাখি-

আচ্ছা ধরুন-

১) একটা সিস্টেম করা হলো যাতে করে, নারী ও পুরুষদের সম্পত্তি আলাদা আলাদা করে সরকার রেজস্টি করে দিলো। দলিলগুলো আলাদা আলাদা রঙের করা হলো। পরবর্তীতে উত্তরাধিকার সূত্রে সেই সম্পত্তি পুরুষেরটা পুরুষ বা বাবার ছেলে সন্তানেরা বা নাতিরা পাবে আর মা বা নারীদেরটা তাদের মেয়েরা বা নাতনীরা পাবে। যদি কারো উত্তরাধিকার না থাকে সেক্ষেত্রে সম্পত্তি সরকারের তত্ত্বাবধানে চলে যাবে। সরকার সেই সম্পত্তি লিঙ্গভেদেই পরবর্তীতে অন্যকারো কাছে বন্টন করবে।

২) পুরুষ বা নারী যাই আয় করুক না কেন বিয়ের প্রথমদিন থেকেই তা দুইভাগে বন্টন করতে হবে। নগদ টাকার ক্ষেত্রে যার যার একাউন্টে তা চলে যাবে। আর স্থায়ী সম্পদ স্বামী ও স্ত্রীকে যৌথভাবে কিন্তু দুই দলিলে ক্রয় করতে হবে (বিবাহিতদের ক্ষেত্রে)। অবিবাহিতরা নিজেদের নামে বা একক নামেই নিজেদের আয় রাখতে পাড়বে বা সম্পত্তি ক্রয় করতে পাড়বে।

৩) ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যেই বিবাহিত নারীরা তাদের কাঙ্খিত সন্তান নিয়ে নিবে পাশাপাশি পড়াশোনাও করবে এবং ২৮ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে তারা নিজেদের কর্মে প্রবেশ করবে।

[এক্ষেত্রে একটা কথা আসতে পারে, নারীরাই কেন সন্তান জন্ম দিবে? কেন? কেন? সেক্ষেত্রে আমার উত্তর হলো- এরচেয়ে বেশী কিছু আমি জানি না। রঙধনুওয়ালাদের অন্যকোন পন্থা থেকে থাকলে সেটা বাংগাল ভাই ভাল জানে]

৪) দেশের সার্ভিস সেক্টর যেমন প্রাইমারি-সেকেন্ডারী এডুকেশন, রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, গ্রোসারী ব্যবসা, সরকারী অফিসের ডেস্ক জবগুলো নারীরাই শুধু করবে। ছেলেরা থাকবে শ্রমঘন কাজে যেমন গাড়ী চালানো, সরকারী বাহিনীতে ও কন্সট্রাকশনের কাজে।

[এক্ষেত্রে একটা কথা আসতে পারে নারীরা কেন শুধু হালকা কাজ করবে? তারা কি সৈন্য হতে পারে না? পাহাড়ে-পর্বতে দাবড়াতে পারে না? আমি জানি পারে কিন্তু একই কর্মে নারী-পুরুষকে সমান সুযোগ দিলে যেই লাউ সেই কদুই হবে। সব পুরুষের অধিকারে চলে যাবে এই এখন যেমন!]

৫) কোন বাড়িতেই একবেলার বেশী রান্না হবে না এবং তার জন্য নারীদের মাসিক বেতন দিতে হবে। এছাড়াও পাড়ায় পাড়ায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসা চালু করা হবে নারীদের তত্ত্বাবধানে। এতে করে যে কাজ নারীরা বাসায় করে ‘ফ্রি সার্ভিস’ দেওয়া ছাড়া কোন আয় করতে পারতো না, সেই একই কাজ করে নিজেরা যথেষ্ট আয় করতে পাড়বে। জিডিপিতে নারীর আয় যোগ হবে।

৬) রাজনীতির ক্ষেত্রে একই দলে দুইটা উইং থাকবে। যেমন ধরন- সংসদের ৩০০ আসনের ১৫০টা হবে পুরুষদের আর ১৫০টা হবে নারীদের। নারীরা ভোট দিয়ে তাদের সাংসদ মনোনয়ন করবে আর পুরুষেরা করবে পুরুষ সাংসদ। একই পদ্ধতি সব স্থায়ীয় নির্বাচনে বলবত হবে। সরকার প্রধান অল্টার করে করে হবে। একবার পুরুষ হলে দ্বিতীয়বার অবশ্যই নারী সরকার প্রধান হবে।

আজ এই পর্যন্তই থাক >>>

[লাভ নাই জেনেও এতক্ষণ উলুবনে মুক্তা ছড়ালাম]

০৯/০৩/২০১৬ রাতঃ ১২.১৮