ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

মাস তিনেক আগে SIBL ব্যাংকের একটা ভিন্ন ব্রাঞ্চ থেকে আমার নিজ একাউন্টে মাত্র ৭ হাজার টাকা জমা দিতে যেয়ে পড়লাম ফ্যাসাদে। আমার চেনা ‘ক্যাশিয়ার’ ভাই জমার রসিদসহ টাকাটা হাতে নিয়েই কেমন কেমন যেন করতে শুরু করলো। আমি বললাম, ভাই কি হইছে? সে উত্তর না দিয়ে অন্য আর একজনের কাছে যেয়ে কি যেন ফিস ফিস করে আলাপ করে এসে বললো, স্যার আমরা আপনার টাকাটা এই ব্রাঞ্চ থেকে জমা দিতে পারবো না। বললাম, কেন? আগে তো অনেকবার দিয়েছি? উত্তরে সে জানালো, নতুন একটা নিয়ম হয়েছে, আপনার একাউন্টে বছরে কত টাকা লেনদেন হবে সেটা আপনার একাউন্টের ব্রাঞ্চে যেয়ে লিখে দিয়ে আসতে হবে। শুনেই আমার মাথায় রক্ত চড়ে গেল, বললাম, গত ১০ বছর ধরে এই একাউন্টে আমি নিয়মিত লেনদেন করছি আর আজ হটাৎ করে নতুন নিয়ম জারি করলেন? ভাই ভ্যাজাল না করে আগে টাকাটা জমা নেন, পড়ে আমি সব নিয়ম পালন করুমনে।

কাঁচের ঘেরের ভিতর থেকে আমার ভাবভঙ্গী দেখেই ব্রাঞ্চ ম্যানেজার তার রুম থেকে বের হয়ে এসে বললেন, দাদা কি হইছে? বললাম, স্যার আগে টাকাটা জমা নেন তারপর সব বলছি, বলেই তার হাতে টাকাটা তুলে দিয়ে আমি ঠান্ডা হলাম। উনি তার অভিজ্ঞতা দিয়ে কাজটা করে দিয়ে বললেন, দাদা, আপনার ব্যাংকে সময় করে যেয়ে একটা ফর্ম ফিলআপ করে দিয়ে আসবেন। আমি আচ্ছা বলেই অফিসের দিকে ছুটলাম। পিছন থেকে ম্যানেজারের গলা শুনলাম, দাদা কফি খেয়ে যান! পরে, বলেই দিলাম দৌড়! এবার চাকরী বাঁচাই!

গত ১৫-২০ দিন আগে আমি UCBL ব্যাংকে যাচ্ছি ভিসার জন্য একটা ব্যাংক স্টেটমেন্ট তুলতে। এমন সময় আমার কলিগ মিজান এসে কিছু টাকা এগিয়ে দিয়ে বললো, দাদা আমার একাউন্টে এই ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে আসবেন। আমি টাকাটা নিয়ে যথারীতি ব্যাংকে হাজির হলাম। ওর একাউন্টে টাকাটা জমা দিতে যেয়ে আবারও ফ্যাসাদে পড়লাম। ক্যাশিয়ার মেয়েটা একবার কম্পিউটারের স্ক্রিন আর আর একবার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে কেমন কেমন করতে শুরু করলো। কিছু একটা ভজঘট বেঁধেছে বুঝেই আমি আমার ছোট ছোট চোখ দুটোকে একটু বড় করতেই একজন নেতৃস্থানীয় অফিসার এগিয়ে এসে বললেন, স্যার, আপনি অন্যের একাউন্টে টাকা জমা দিতে পারবেন না। এতে আপনার ভোটার আইডি কার্ড লাগবে। এনেছেন? বললাম, না। তিনি বললেন, কিছু আইডেন্টটিফিকেশন ছাড়া আমরা টাকাটা জমা নিতে পারবো না। বললাম, কার নির্দেশ, বিবি’র? মাথা নেড়ে সে সম্মতি জানালো। কোন কাজ হাতে নিলে সেটা না করে ফেরত আসাটা আমার ধাতে নেই। বুদ্ধি খাঁটাতে থাকলাম, ভিজিটিং কার্ড সাধলাম তাতেও কাজ হলো না, পরে আমার অফিস আইডেন্টি কার্ডটা এগিয়ে দিয়ে তবেই টাকাটা জমা দিতে পাড়লাম। কার্ডের একটা ফটোকপি দিয়ে আসতে হলো সাথে আমার মোবাইল নম্বরটাও।

গত তিন মাসে আমাদের দেশের জেনারেল ব্যাংকিং-এর একজন নিয়মিত গ্রাহক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতার সারমর্ম তুলে ধরলাম মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে- এটাকে আপনারা ধান ভানতে শিবের গীতও বলতে পারেন।

শুনলাম আমাদের ফরেন রিজার্ভ থেকে নাকি একটা ‘বড় দাও’ মেরে দেওয়া হয়েছে? আরও একটা ‘মস্ত দাও’ ভাগ্যক্রমে আঁটকে গেছে। সেটা মেরে দিতে পারলে নাকি ওনারা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ থেকে নিয়ে যেতে পারত? অবশ্য টাকাটা তেমন বড় কিছু নয়। অতীতে এর চেয়েও বড় বড় দাও মেরে দেওয়া হয়েছে। তাতে দেশের অর্থনীতির তেমন কিছু হয়নি, এবারও হবে না। তাই এসব নিয়ে আলোচনা না করাই ভাল, শুধু শুধু সময় নষ্ট করা হবে এতে। তাছাড়া আমাদের অর্থনীতির ‘দুইজন’ স্টার পাইলট থাকতে আমাদের চিন্তা কী? তাই তাদের নানা রঙ বেরঙের পুরস্কার প্রাপ্তিতে হাততালি দিতে দিতে আসুন পুরোনো লেখাগুলোকে ঝালিয়ে নেই, ক্যামন?

বাংলাদেশ লুটের কল্পকাহিনী ও কিছু আলোচনা

লিখেছিলামঃ সোমবার ০৩সেপ্টেম্বর২০১২

বাস্তবতাঃ ১

আপনাদের কি মনে আছে, ২০১০ সালের শেয়ার মার্কেট লুটের তদন্ত কমিটির প্রধান জনাব ইব্রাহিম খালেদ স্যারের কথা? তদন্ত করে তিনি লাখ লাখ বিনিয়োগকারীদের আর্থিকভাবে পঙ্গুকারী তথা শেয়ার বাজার লুটেরাদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে সেটা জনসম্মুখে প্রকাশ করেছিল। সেই কারণে, সেইসব লুটেরার দল একজোট হয়ে খালেদ স্যারের এমন অবস্থা করেছিল, যেন সবদোষ তার। এমনকি ওইসব দুষ্টের দল স্যারকে নিয়ে অনেক আজেবাজে রিপোর্ট পত্রপত্রিকায় ছাপিয়ে তার জিনা হারাম করে দিয়েছিল।

এর মাধ্যমে ওরা দুটো উদ্দেশ্য হাসিল করেছিলোঃ

১। শেয়ার মার্কেট লুটের তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ধামাচাপা দেওয়া, যাতে করে কেউ তাদের বিচার করতে বা চাইতে না পারে।
২। ভবিষ্যতে আর কোন ভাল মানুষ যেন অপরাধের তদন্ত করতে না চায়, তার ভয় ধরানো।

দুটো ক্ষেত্রেই তারা দারুণ সফল!

বাস্তবতাঃ ২

এবার আসা যাক হলমার্ক দ্বারা সোনালী ব্যাংকের ৩,৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গেঃ

আমরা সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করছি যে সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিজস্ব তত্বাবধানে তদন্ত কমিটি গঠন এবং তাদের মাধ্যমে সঠিকভাবে তদন্ত করে সত্যিকার দোষীদের বের করতে পেরেছে! এখন আমরা চাই দোষীদের কঠিন সাজা দেওয়া হোক এবং লুটকৃত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা সোনালী ব্যাংকের ভল্টে ফিরে আসুক! কোন ধরনের আইনের মারপ্যাঁচে ফেলে যেন লুটকৃত টাকা ফেরত আসা বন্ধ করা না হয়!

আমাদের আশঙ্কাঃ

ঘর পোড়া গরু যেমন সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়, আমরাও তেমনি ভয় পাচ্ছি। আমাদের আশঙ্কা একটা পর্যায়ে ব্যাংকের কিছু নিম্ন ও মধ্যপদস্থ কিছু কর্মচারীকে চাকরীচ্যুত করা হবে যারা হয়ত উচ্চ পদস্থ কারো দ্বারা আদিষ্ট হয়ে বা বাধ্য হয়ে ডকুমেন্ট-এ স্বাক্ষর করেছে মাত্র বা কিছু বকশিস পেয়েছে ! যদিও সেগুলিও অপরাধ! তার জন্য তারা শাস্তি পাক কোন আপত্তি নাই কিন্তু এত বড় একটা ঋণ কেলেঙ্কারি যার সাথে এক-দুই কোটি টাকা না, ৩,৫০০ কোটি টাকা জড়িত তা কোনক্রমেই এদের দ্বারা সম্ভব না। এর সাথে অবশ্যই ব্যাংকের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে বাইরের প্রভাবশালীরাও (লুটেরা) জড়িত বলে আমরা মনে করি।

এবার আসুন উপরোক্ত ঘটনা দুটির প্রেক্ষিতে আমরা কিছু আলোচনা আর কিছু কল্পনা করি, কেউ নিজের সাথে মিলিয়ে ফেললে বা “কল্পনা” “ঘটনায়” পরিনত হলে বা কোন ঘটনার সাথে মিলে গেলে তার জন্য আমি বা আমরা দায়ী না!

আসুন, দেখি বাংলাদেশের কোথায় কোথায় নগদ টাকা ছিল, এখনো আছে এবং তা কিভাবে তা লুট বা শূন্য করা হয়েছিলো বা ভবিষ্যতে হবে!

১। শেয়ার বাজারঃ কমপক্ষে ২০ লক্ষ সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সারা জীবনের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ। এটা লুট হয়েছে ২০১০ সালে। এটা ছিল তরল বা নগদ টাকার প্রধান ভাণ্ডার যা এখন শুন্য! – মানুষকে লোভ দেখিয়ে এটা লুট করা হয়েছিল।

২। সোনালী ব্যাংকঃ এটা সরকারের ব্যাংক যাতে জমা আছে লক্ষ লক্ষ স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের সারা জীবনের সঞ্চয়, সরকারী চাকুরিজীবীদের পেনশন ফান্ড –এ জমাকৃত টাকা, এটা লুট হয়েছে ২০১২ সালে। এটা ছিল তরল বা নগদ টাকার মাঝারি ভাণ্ডার যা এখন শুন্য! এখন শুনছি জনতা ব্যাংক, অগ্রনী ব্যাংকও কিছুটা লুট হয়েছে। মারহাবা! মারহাবা!

– ডকুমেন্ট কারসাজি, মিথ্যা ঘোষণা, জামির জাল দলিল, সম্পত্তির বায়বীয় মূল্য, সরকারি/বেসরকারি প্রভাব ইত্যাদির মাধ্যমে এটা লুট করা হয়েছে।

৩। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভঃ বর্তমানে এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তরল বা নগদ টাকার ভাণ্ডার (শেয়ার বাজার লুট হওয়ার পরে)। এখানে জমা আছে সরকারের টাকা যা দ্বারা আমদানি ব্যয় মিটানো ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয় এবং সর্বোপরি সরকারের সকল আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করার পাশাপাশি, দেশের সমগ্র জনগনের তিন মাসের খাদ্য ক্রয়ের সমপরিমাণ অর্থ রাখা হয়। এটা কি অচিরেই শুন্য হবে? আমি লুট শব্দটা ব্যবহার করলাম না!

– বাতাসে কান পাতুন কিভাবে এটা শূন্য হবে জানতে পারবেন! দেশীয় অর্থে পদ্মা সেতু, নতুন বিমান বন্দর, গভীর সুমুদ্র বন্দর শব্দগুলিকে আপাতদৃষ্টিতে ভাল বা নিষ্পাপ মনে হছে কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে আমাদের কিন্তু ভীষণ ভয় করছে! কারন “খলের কিন্তু ছলের অভাব হয় না”!

৪। ভবিষ্যৎ-এর কোন এক রাতে, বাংলাদেশীদের কয়েকটা পারসোনাল বোয়িং প্লেন শাহজালাল এয়ারপোর্টে অবস্থান করেছে যাতে আহরণ করছে বাংলেদেশের নাম করা লুটেরাগন । কিছুক্ষণ আগেই ওরা দেশের শেষ অর্থ ভাণ্ডার “ডাক বিভাগ” শূন্য (!) করে এসেছে। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে বিদেশে চলে যাছে স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য। আর ওরা ওদের প্রিয় ড্রাইভারদের হাতে একটা করে খাম ধরিয়ে দিচ্ছে পত্রিকা অফিসে দেওয়ার জন্য যাতে আছে এক লাইনের একটা “প্রেস রিলিজ”, আর তাতে লেখা আছে – “এ দেশটা বসবাসের একেবারেই অযোগ্য”!

তারপরে-

চারিদিকে আগুন জ্বলছে । সকল মানুষ রাস্তায়। কোথাও একটুও খাবার পাওয়া যাচ্ছে না! আর আমাদের ভবিষ্যৎ একেবারেই ঝরঝরে!

http://blog.bdnews24.com/sukantaks/120759#sthash.baFCubNI.dpuf

কোনটা বড়ঃ চার হাজার কোটি টাকা না দুইশত টাকা?

লিখেছিলামঃ সোমবার ১০সেপ্টেম্বর২০১২

আমরা বড় ধরনের ধাঁধাঁয় পড়ে গেছি। ছোটবেলা থেকে যা শিখেছি তা কি ভুল? আমদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ কি তবে আমাদের ভুল শেখালেন? বাবা-মা সঠিক শিক্ষা দেয়নি? তাহলে কি আমাদের শিক্ষা সনদগুলো সবই ভুয়া?

আমাদের অর্থমন্ত্রী চার হাজার কোটি টাকার লুটপাটকে বললেন ছোট দুর্নীতি বা তেমন কোন বড় ঘটনা নয়। যার মানে হলো যারা এটা করেছেন তাদের ছোট্ট করে একটু বকুনি দিয়ে দিলেন, অপরদিকে আমদের রেলমন্ত্রী দুইশত টাকা ঘুষ খাওয়ার অপরাধে বলরামকে দিলেন এক রাম চড়।

আর আমাদের ধাঁধাঁটা এখানেই, দুই শত টাকা কি তাহলে চার হাজার কোটি টাকার চেয়ে বড় হল না? তার মানে কি এই দাঁড়াচ্ছে না যে, দুই শত টাকা ঘুষ খেয়ে বলরাম, চার হাজার কোটি টাকা লুটেরা তানভীর এর চেয়েও বড় অপরাধ করেছেন?

আর যাদের কল্যাণে এই প্রশ্নটা আমাদের সামনে লাফিয়ে পড়েছে, তারা হলেন আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যুগল; সবজান্তা অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল মুহিত ও সর্বত্যাগী যোগাযোগ ও রেলমন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের। তারা দুইজনই জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্বারা নিয়োগকৃত দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।

এখন আমরা আমজনতা আছি বিপদে। কোনটা বিশ্বাস করবো, যদি জনাব …… কর্মকাণ্ড আর জনাব ……… কথা বিশ্বাস করি তাহলে আমরা এতদিন যা শিখেছি তা ভুল হয়ে যায় । কারণ জনাব ……… কথায় এটা প্রমাণ হয়ে গেছে যে, বলরাম, তানভীরের চেয়েও বড় অপরাধী, আর জনাব ……… কিন্তু তানভীরকে এখনো একটিও চড় দেননি। যার মানে দাঁড়াচ্ছে চড় খেকো বলরাম তানভীরের চেয়ে বড় অপরাধী হিসাবে প্রমানিত!

অতএব আসুন আমরা আমজনতা আমাদের এতদিনের যা কিছু অর্জিত জ্ঞান, বিদ্যা-বুদ্ধি ছুড়ে ফেলে দিয়ে একত্রে মন্ত্রী মহোদয়দের সাথে কোরাস করিঃ

চার হাজার কোটির চেয়ে দুইশত বড়
তানভীরের চেয়ে বলরাম বড়
ডাকাতের চেয়ে চোর বড়
বিদ্বান এর চেয়ে মূর্খ বড়
আর, বাঙ্গির চেয়ে বীচি বড় !!!

যে বাণী চোরা শোনেনা, শুনবেও নাঃ-

নিকট অতীতে হাওয়া ভবনের হাওয়া দেনেওলারা জনগণকে পাঙ্খা বানিয়ে সাধারণ এক নর’কে হাওয়া দিয়ে ‘নররাজ’ বানাতে যেয়ে ‘পশুরাজ’ বানিয়ে ফেলেছিল! বর্তমানে হাওয়া দেনেওলারা ‘হাওয়া’, কিন্তু পশুরাজটি ঠিকই উঠতে বসতে টের পাচ্ছেন, আসলে তিনি নরই ছিলেন!

বর্তমানে আপনারা যারা বিভিন্ন ভবনের বাসিন্দা হয়ে মৌতে দিন গুজরান করছেন আর দেশটাকে বাঙ্গি বানিয়ে খাবলিয়ে খাচ্ছেন, অচিরেই এর মেজেজাটা টের পাবেন! অতীতে এই বাংলায় কেউই “টের” পাওয়া ব্যতিত যায়নি, আপনারাও “টের” টা পাবেন! এই বিষয়ে বাঙ্গালী জাতির অভিজ্ঞতা সর্বত্র স্বীকৃত।

http://blog.bdnews24.com/sukantaks/122051#sthash.Kdzd2xEy.dpuf

বেসিক ব্যাংক লুটঃ মামা তুমি কি করতে?

লিখেছিলামঃ শনিবার ০১নভেম্বর২০১৪

হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে ভাগ্নে বলল, মামা! ধর, তোমার বাড়ীতে আমাকে পাহাড়ায় রেখেছো। দায়িত্ব দিয়েছো বাড়ীর জিনিষপত্র সব দেখেশুনে রাখার। কিছুদিন পর তুমি এসে দেখলে বাড়ীর মূল্যবান জিনিষপত্রের অনেক কিছুই নেই। তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করলে, জিনিষপত্র গুলো কই গেল? আমি উত্তর দিলাম, “এগুলো চোরেরা বস্তায় ভরে চুরি করে নিয়ে গেছে; পাড়া-পড়াশিরা কেউ কিছু বলল না চোরদের; সবাই নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিল, মামা”। এক্ষেত্রে তুমি কি করতে বা আমাকে কি বলতে?

আমি বললাম, সেক্ষেত্রে তোর কানের নীচে একটা দিয়ে বলতাম, হারামজাদা, চোর যখন বস্তায় জিনিষগুলো ভরছিল তখন তুঁই কি করছিলি?

ঠিক আছে মামা! আমি জানি তুমি তাই বলতে, অন্য কেউ হলে সেও তাইই বলতো। এবার আসি আমার মূল কথায়-

মামা, তুমি তো জান, আমাদের সরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রায় সবগুলোই গত সরকারের আমলে লুটপাট হয়ে গেছে। লুট হয়ে গেছে প্রায় নয় হাজার কোটি টাকার মত; তারমধ্যে সোনালী ব্যাংক থেকে এক হলমার্কই হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা, আবার বেসিক ব্যাংক থেকে নামে বেনামে সেই ব্যাংকের চেয়ারম্যান কর্মচারীদের সাথে মিলে ডাকাতি করেছে আরও প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। জনতা ব্যাংক থেকেও হয়েছে কিছু। আর ডাকাতিগুলো হয়েছে প্রায় তিন-চার বছর ধরে এবং চোখের সামনে, পত্র-পত্রিকায় এনিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে কিন্তু চুরি ঠেকেনি বরঞ্চ চোররা জামাই আদরে থেকেছে এবং ভেগেছে! – ঠিক আছে?

আমি বললাম, আছে! তোর মূল কথায় আয় এবার!

আচ্ছা মামা, তুমি তো এই বিষয়েরই ছাত্র ছিলে, আচ্ছা বলতো এই চুরি ঠেকানোর দায়িত্ব কার ছিল?

আমি বললাম, যেহেতু বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকে সেক্ষেত্রে প্রথম দায়িত্বটা ছিল তারই অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রধান দায়িত্ব ছিল এটা ঠেকানো। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রীর এবং সব শেষে সরকারের।

বুঝলাম! মামা তুমি আজকের নিউজটা পড়েছো?

আমি বললাম, কোনটা?

ওই যে, “আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর; যিনি গত টার্মেও গভর্নর ছিলেন মানে ব্যাংকগুলোতে চুরির সময়ে ছিলেন, তিনি সংসদীয় কমিটির মিটিঙে বলেছেন, “বেসিক ব্যাংকের টাকা জালিয়াত চক্র ও আগের পরিচালন পর্ষদ বস্তায় ভরে নিয়ে নিয়ে গেলেও দুদক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না”। – এই বিষয়ে তোমার অভিমত কি মামা, মানে এই কথা তোমার সামনে বললে তুমি কি বলতে?

যা ভাগ এখান থেকে! আমার মাথাটা গরম করে দিস না! বলে আমি নিজ কাজে মন দিলাম।

আমার ঝাড়িতে ভাগ্নে উত্তর না জেনেই যেভাবে এসেছিল সেভাবেই চলে গেল! আর আমি মনে মনে বললাম, ভাগ্নে আমার; না বুঝেই আমাকে জেলের ভাত খাওয়াতে এসেছিল! ভাগ ! আমি জেলে গেলে তুঁই ত বেশী কষ্ট পেতিরে পাগল !!!

সুত্রঃ প্রথম আলো, ৩১/১০/২০১৪, শেষ পৃষ্ঠা

৩১/১০/২০১৪ রাতঃ ১০.৩৫

http://blog.bdnews24.com/sukantaks/160625#sthash.SEvxJsvD.dpuf

বেসিক ব্যাংকের এমডি অপসারণঃ কিন্তু টাকার কি হবে?

লিখেছিলামঃ সোমবার ২৬মে২০১৪, পূর্বাহ্ন ০১:২৬

খবরে পড়লাম, সরকার বেসিক ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করেছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন তাকে এখন অপসারণ করে কি লাভ? কাজ যা করার তা তো করে ফেলেছে অর্থাৎ লুটপাট কমপ্লিট করার পর এখন তাকে সরিয়ে কি লাভ? টাকার কি হবে? অপরদিকে ব্যাংকের চেয়ারম্যান জনাব বাচ্চু’র কি হবে? রাজনৈতিক লিঙ্ক থাকায় সেও কি আর সবার মত বেঁচে যাবে? যেমন বেঁচে গেছে সোনালী/জনতা ব্যাংকের চোরগুলা!

আমি মনে করি- গত ও এবারের আওয়ামীলীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এই ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতাই শুধু দেখাননি, চরম আর্থিক অন্যায়ও করেছেন! সাধারণ মানুষের গচ্ছিত টাকা তার লুট করিয়েছেন বা লুটে সহায়তা করেছেন। অন্যকোন দেশ হলে এতদিন সোনালী, বেসিক সহ আরও কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যেত এবং এদের আজীবন জেল বা ফাঁসী হত। সব সম্ভবের দেশ বলে বাংলাদেশে এখনো এরা বড় গলায় কথা বলছেন এবং স্বপদে বহাল তবিয়তে আছেন! একটু লজ্জাও নেই এদের! এরাই নাকি দেশের জ্ঞানী গুণী আর শিক্ষিত মানুষ!

আওয়ামীলীগকে এরাই ভোটে জেতাবে? দেখা যাবে ফ্রি এন্ড ফেয়ার ইলেকশন হলে !!!

অপেক্ষায় আছি !!!

২৫/০৫/২০১৪, রাতঃ ৯.৩০

http://blog.bdnews24.com/sukantaks/157549#sthash.vCm6UjrH.dpuf

বেসিক ব্যাংককে ভর্তুকি দিতে রাজি নই!

লিখেছিলামঃ বৃহস্পতিবার ০৬আগস্ট২০১৫

মালয়েশিয়ার MH 370 নিখোঁজ হয়েছে আজ প্রায় বছর দুয়েক হলো। অনেক চেষ্টা করেও বিমানটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বোয়িং-৭৭৭ মত এত বড় প্লেনটা কী কারণে নিখোঁজ হলো তার সঠিক কারণ কেউ জানাতে পারেনি এখনো। কিন্তু এই বিষয়ে একটা জেনারেল পার্সেপশন হলো- বিমানটি নিখোঁজের পিছনে পাইলট ও কো-পাইলটের দায় আছে। অর্থাৎ বলা হচ্ছে- বিমানটিকে এরা ইচ্ছাকৃতভাবে সমুদ্রে ডুবিয়ে দিয়েছে। এক কথায় বলা যায়- যতদিন না দুর্ঘটনার সঠিক তথ্যটা জানা যাচ্ছে; ততদিন সকলের চোখে পাইলটদ্বয়ই অপরাধী।বাংলাদেশের অর্থনীতিকে যদি একটা বিমান হিসেবে ধরে নেই; তাহলে এর পাইলট ও কো-পাইলট যথাক্রমে আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের স্টার গভর্নর। আমরা সবাই জানি ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে আমাদের অর্থনীতিতে বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে; যেমন- শেয়ার মার্কেটে লুটপাট হয়েছে, সোনালী ব্যাংক থেকে হলমার্কের নামে চার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, বেসিক ব্যাংকে ভয়াবহ লুটপাট হয়েছে যার পরিমাণও প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা নামে বেনামে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

অর্থনীতি নামক আমাদের বিমানের পাইলটদ্বয়কে বলছি-আপনারা আমাদের দেশের হাতেগোনা কয়েকজন সৎ, বিজ্ঞ ও সম্মানিত মানুষদের দুইজন। ব্যক্তিগতভাবে আমি আপনাদের করজোড়ে প্রণাম জানাই। কিন্তু আমার উল্লেখিত দুর্ঘটনাগুলো যেহেতু আপনাদের দায়িত্বকালীন সময়েই হয়েছে সেহেতু আপনারা এই লুটপাটের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। মালয়েশিয়ার জেটের পাইলটদ্বয়ের মত আম-জনতার চোখে আপনারাও আসামী; যতক্ষণ না আপনারা প্রকৃত অপরাধীদের ধরিয়ে দিচ্ছেন অর্থাৎ ‘ব্ল্যাক বক্স’ এর তথ্য উদ্ধার করা যাচ্ছে।

আজ প্রথম আলোর “আবদুল হাই বাচ্চুকে ধরার সাধ্য কার” শিরোনামের খবরটা পড়লাম, বেসিক ব্যাংকে লুটপাটের নায়ক বাচ্চুকে আমাদের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক) দায় মুক্তি দিচ্ছে অর্থাৎ তাকে বাদ দিয়ে অন্যদের আসামি বানাচ্ছে!

খবরটা পড়ে রীতিমত অবাক হয়েছি; প্রথম যে প্রশ্নটা আমার মাথায় এসেছে তা হলো- দুদক দায়মুক্তি দেওয়ার কে? কে অপরাধী আর কে ভাল মানুষ; এটা বিচার করার জন্য আমাদের আদালত আছে, আছে সুপ্রিম কোর্ট! ব্যাংকের প্রধান হিসেবে যার দায়িত্বকালীন সময়ে বেসিক ব্যাংকে এত বড় লুটপাট হলো; তাকে বাদ দেওয়ার অধিকার কি দুদুকের আছে? নাকি দুদক নিজেই নিজেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ভাবছে? দুদক হয়ত ভুলে গেছে এই ব্যাংক একটা সরকারি ব্যাংক এবং এখান থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে যা সম্পূর্ণ এই দেশের জনগণের সঞ্চিত টাকা। নাকি গল্পের সেই “বেড়ায় ক্ষেত খাওয়ার” মত করে দুদুকের দুর্নীতি ঠেকানোর জন্য আরও একটা কমিশন গড়তে হবে এই অভাগা জাতিকে?

খবরে আরও পড়লাম, সরকার লুটপাটকৃৎ হাজার হাজার কোটি টাকার এক পয়সাও উদ্ধার না করে সরকারেরই কোষাগার থেকে আরও দুই হাজার কোটি টাকা দিয়ে বেসিক ব্যাংককে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে চাচ্ছে। আই থিংক ইটস এ রাবিশ চিন্তা! সরকার ব্যাংকটিকে বাঁচাক এতে আমার কোন আপত্তি নাই! কিন্তু সেটা হতে হবে লুটেরাদের যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। হতে হবে প্রকাশ্য আদালতে প্রকৃত অপরাধীদের কঠোর বিচার।কিন্তু তা না করে জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ থেকে দেওয়া করের টাকা দিয়ে ব্যাংকটিকে বাঁচানোর বুদ্ধিটাকে আমি আরও একটা ‘কূটবুদ্ধি’ মনে করছি! পাশাপাশি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

একজন নিয়মিত আয়কর দাতা হিসেবে মনে করি- এই দুই হাজার কোটি টাকার মধ্যে আমার ‘এক পয়সা’ হলেও আছে এবং আমি তা লুটের টাকায় ভর্তুকি হিসেবে দিতে রাজী নই।তারপরেও যদি গো ধরে আপনারা এটা করতেই চান? তাহলে অনুরোধ করবো- এই বিষয়ে জনগণের অনুমতি নিন; গণভোট দিন!

তারপর গুনি- কোন ব্যালটে কত ভোট? বাচ্চু’রা আপনাদের কয় ভোট এনে দেয়?

অফটপিকে একটা গল্প বলি-

গ্রামের কৃষক পারিবারের এক যুবতি মেয়ে, রাতে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘরের বাইরে বের হয়েছে আর তখনই ওত পেতে থাকা পাশের বাড়ীর প্রভাবশালী পরিবারের ছেলেরা তাকে মুখে চেপে ধরে নিয়ে যেয়ে একটা পাটক্ষেতে ধর্ষণ করেছে।

পরদিন গ্রাম্য বিচারে মেয়েটিকেই এর জন্য দায়ী করা হলো আর তার গরীব বাবাকে করা হলো জরিমানা।

গ্রাম্য বিচারে প্রভাবশালীদের চাপে যখন সেই অভাগা বাবাটির আর কিছুই করার ছিল না; তখন সে প্রতিবাদের স্বরে চিৎকার করে বলে উঠলো- আমার মেয়ে, আমার পাটক্ষেত আবার আমিই দিবো জরিমানা? এই বিচার আমি মানি না!

সরকারের আচরণ দেখে আমারও বলতে ইচ্ছে করছে- আমাদের ব্যাংক, আমাদের টাকা আবার আমরাই দিবো জরিমানা? এই বিচার আমরা মানি না!

০৫/০৮/২০১৫ রাতঃ ৯.৫৭

http://blog.bdnews24.com/sukantaks/172603#sthash.uGKCIhOB.dpuf

আপডেটে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন

১০/০৩/২০১৬ রাতঃ ১১.৫৬