ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বাংলাদেশের ইতিহাসে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের পারফর্মেন্স সবচেয়ে খারাপ। যদি বলেন কেন? আমি বলি, হিসাব নেন এক এক করে-

ক) ২০১০ সালে শেয়ার বাজার লুটপাট হয়েছে। এর একটা টাকাও উদ্ধার হয়নি।
খ) হলমার্ক ৪,০০০ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, এর এক টাকাও উদ্ধার হয়নি।
গ) বিসমিল্লাহ গ্রুপ মেরেছে আরও ১২০০-১৫০০ কোটি টাকা, যার এক টাকাও উদ্ধার হয়নি।
ঘ) বেসিক ব্যাংক থেকে লুট হয়েছে আরও ৪,০০০ কোটি টাকা, তার এক কোনাও উদ্ধার হয়নি।
ঙ) কিছুদিন আগে পত্রিকায় পড়লাম এক ইন্সুরেস কোম্পানীর এমডি ও তার পরিবার মেরে দিয়েছে আরও প্রায় ৫০০-৭০০ কোটি টাকা।
চ) এছাড়াও আরও অনেক টাকা মেরে দেওয়া হয়েছে, জনতা, অগ্রণী ব্যাংক থেকে। যার একটা টাকাও উদ্ধার হয়নি।
ছ) এবার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকেও মেরে দেওয়া হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। আমাদের সৌভাগ্য যে সেটা ৮,০০০ কোটি টাকা হয়নি।

এর সবই হয়েছে এই গভর্নরের আমলে। অর্থমন্ত্রীও এর দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। তারা দুইজনই সমান ব্যর্থ!

একদিকে ‘বাঘ’ সমানে আমাদের ‘গরু বাছুর’ খেয়ে যাচ্ছে আর অপরদিকে ‘রাখাল বালক’ কাঁঠাল পাতা দিয়ে বাঁশি বাজিয়েই যাচ্ছেন? উল্টো উনি বছর বছর ‘রিজার্ভের’ নাম ভাঙ্গিয়ে একটার পর একটা পুরস্কার পাচ্ছেন। অথচ পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল লক্ষ লক্ষ সেই শ্রমজীবী মানুষের, যারা পরিবার-পরিজন দেশে রেখে বিদেশভুয়ে এসে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন এবং বৈধ চ্যানেলে সেটা দেশে পাঠাচ্ছেন। কি কষ্টটাই না করছেন এই ‘দেশ’ ফেলে আসা মানুষগুলো? ভিসা নাই, পারমিট নাই তারপরেরও পালিয়ে থাকছেন, কাজ করছেন সবচেয়ে নোংরা পরিবেশে এবং নিম্নস্তরের কাজগুলো। যে ছেলে দেশে থাকতে হয়ত মা’র তোলা ছাড়া কিছুই খেত না, তারাই বিদেশে এসে ক্লিনারের কাজ করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়েও রেস্টুরেন্টের ফ্লোর পরিষ্কার করছে।

এছাড়াও পুলিশের মার তো খাচ্ছেনই, ধরা পড়লেই জেল, রাতের অন্ধকারে জায়গায় জায়গায় রেড দিয়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। বিমান থেকে নামার সময়ই এয়ারপোর্টে বন্যপশুর মত লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখছেন বিদেশের পুলিশেরা। তারপরও মুখ চেপে তারা সব মেনে কাজ করছেন, সেই তুলনায় কম বেতন পেয়ে দেশে পাঠাচ্ছে। আর আমাদের দেশের একশ্রেণীর উচ্চ শ্রেণীর (!) মানুষ সেটাকে দেখিয়ে দেখিয়ে ভাব নিচ্ছেন, “দেখুন আমাদের রিজার্ভ বাড়ছে, সব আমাদের ক্রেডিট”! আসলেই কি তাই?

আমি মনে করি,বাংলাদেশ ব্যাংকে দেশী-বিদেশী লুটেরাদের সহযোগী একটা ‘কার্টেল’ তৈরী হয়েছে। এরা সব জেনেও গোপন করে যাচ্ছে সবকিছু। যখনই এর কিছুটা প্রকাশ হয়, তখনই শুধু দেখা যায়- এরা সমস্বরের বলে ওঠে,’আমরা জানি না’ বা ‘আমরা রিপোর্ট আগেই করেছিলাম”! টাকা কিন্তু মেরে দেওয়া হচ্ছে ঠিকই। এই একই ‘রোল’ প্লে করা হচ্ছে সেই শেয়ার মার্কেট লুটের সময় থেকেই, একই চরিত্র দেখা গেছে হলমার্ক আর বেসিক ব্যাংক লুটের সময়ও। যখনই তাদের ধরা হয়, ওমনি কিছু কাগজ বের করে দিয়ে বলবে, “এই দেখুন আমাদের রিপোর্ট! এটা আমরা আগেই করেছিলাম, আগেই উপর মহলে জানিয়েছিলাম’’। আমি বলি, টাকা যে মেরে দিচ্ছে এটা তাহলে তোরা আগেই মিডিয়াকে জানালি না কেন? তাহলে অন্তত আমরা হাওকাউ করে একটা কিছু করতে পারতাম?

এই কার্টেলই বলে বেড়াচ্ছে, “অমুকে ভাল মানুষ’, ‘উনি সেরা লোক’, ওনার মত দেশে আরও একজন মানুষও নেই” – এসব বলে বলে ক্ষমতার উচ্চকেদ্রে তাদের সম্পর্কে একটা ভাল ধারণা দিয়ে তাদেরকে টিকিয়ে রেখে, নীচ থেকে গাট কেটে সব লুট করছে।

যে দেশে মাত্র এক টাকা চুরি করলে মানুষকে পিটিয়ে মারা হয়, ২০০ টাকা ঘুষ খেলে মাননীয় মন্ত্রী চড় মারে, ২০ হাজার টাকার একটা ক্রেডিট কার্ড বা ৫০ হাজার টাকার লোন নিতে চাইলে গ্রাহকের ক্রেডিট পারফর্মেন্স চেক করা হয়? সেখানে শুধু ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে প্রায় ১২,০০০ হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে বিনা বাঁধায় অথচ কোন বিচার নেই? শুনতে হয় এটা তেমন কিছু না!

মনে হয় কই,– এটা কি তোদের বাপের টাকা?

একটা ব্যাপক পরিবর্তনই শুধু এই কার্টেল ভাঙ্গতে পাড়বে! সেটা হতে হবে- কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ অর্থ মন্ত্রনালয় পর্যন্ত। সব জায়গায়ই এই কার্টেলের লোক আছে। এমনকি হয়ত আছে আরও উপরেও >>>

খবরঃ আমাদের মাননীয় গভর্নর স্যার পদত্যাগ করেছেন! ভাল! এবার কার্টেল ভাঙ্গুন! নইলে আবারো এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে! এক্কেবারে ঝেড়ে মুছে সাফ করুন!

১৫/০৩/২০১৬