ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

সুতপা তখন আরও ছোট। অ, আ পড়াচ্ছিলাম, জিজ্ঞাসা করলাম বল তো মা, আমরা চোখ দিয়ে কি করি? ওর স্মার্ট উত্তর, “টিভি দেখি বাবা”! হাঁসতে হাঁসতে বললাম, ঠিকই কইছিস তুঁই! বাপের মতই হইছিস। মান রাখবি!

এরপরে একদিন আমি ল্যাপটপে পড়ছিলাম আর ও পড়ছিল ওর নার্সারির বই। হঠাৎ ও বলে উঠলো, আচ্ছা বাবা, তুমি ছোট ছোট লেখা পড় আর আমি বড় বড় লেখা পড়ি, কেন?

উত্তরে বললাম, আমি বড় তাই ছোট ছোট লেখা পড়ি, আর তুঁই ছোট তাই বড় বড় লেখা পড়োস।

না বাবা তুমি কিছুই জানো না! তোমার চোখ ছোট ছোট তো; তাই তুমি ছোট ছোট লেখা পড়। আর আমার চোখ বড় বড়, তাই আমি বড় বড় লেখা পড়ি!

বললাম, ঠিকই আছে তোর কথা! এবার চুপ থাক!

ব্লগে লিখতে যেয়ে পড়েছি আরেক যন্ত্রণায় কোন ফাঁকে যে বানানে ভুল ঢুঁকে যায় তা চোখেই পড়ে না। অনেক খুঁজেও পাই না। এটার একটা উত্তর মেয়ের কাছ থেকে বের করতে হবে। ও নিশ্চয় এর একটা ভাল সমাধান দিতে পারবে!

এই চোখের যন্ত্রণা কি আজকের? সেইকালে মানে যখন জোয়ান ছিলাম, চোখেও সেইরাম ধার ছিল তখন! সেই সময়ে শুধুই সুন্দর চোখের মেয়েদের খুঁজতাম, তাদের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। চেষ্টা করতাম আই কন্ট্যাক্ট করার। করতামও! ছোট্ট সময়ের দুই-একটা ঘটনা এখনো মনে দাগ কেটে আছে। মাঝে মাঝে ভাবি, আহ! কোথায় গেল সেই সুন্দর চোখের অধিকারিণীরা? অবশ্য তারাও আমার সাথে একই কাজ করতো বলে রক্ষা! নইলে আমার এই চোখের আর কি দাম থাকতো?

একটা গান আছে না?

চোখ যে মনের কথা বলে
চোখে চোখ রাখা শুভ নয়!
চোখের সে ভাষা বুঝতে হলে
চোখের মত চোখ থাকা চাই।

লিংক

কোথায় করিনি এই কর্ম? রাস্তায়, রিক্সায়, বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে, ফেরিতে সব জায়গায় করেছি। ভাগ্যিস সেই সময়ে বিমানে চড়ার সুযোগ হয় নাই, নইলে বিমানেও আই কন্ট্যাক্ট করতাম। প্যাসেঞ্জার উল্টা দিকে বসে তো কি হইছে? প্রয়োজনে বিমান বালাদের সাথে আই কন্ট্যাক্ট করতাম আর চামে ফ্রি জুস খেতাম! অবশ্য আমার বউয়ের চোখও সুন্দর, আর ওই দেখেই না প্রেমে পড়ে বিয়ে করলাম। অবশ্য ওর সাথে খুবই অল্প সময়ের জন্য চোখে চোখ মেলাতে পেড়েছিলাম আর তাতেই কাইত করলাম!

মনে মনে ভাবি, আজকাল কার ছেলে-মেয়েরা এই আই কন্ট্যাক্টের আনন্দ থেকে একেবারেই বঞ্চিত হচ্ছে। এ এক নির্মল আনন্দ, চলার পথে সুন্দর সময় কেটে যেত আমাদের। আর এখনকার পোলাপান খালি চোখের সামনে মোবাইল টেপে! চোখের অন্য ব্যবহারগুলো এরা জানলোই না! আফসুস!

এই চোখের চাহনির আরেক নাম আছে, তার নাম ‘নজর’। এই নজরে আবার দুই ভাগ আছে। একটা সুনজর আর অন্যটা কুনজর। সুনজরটা ভাল তখনই যদি সেটা তোমার উপর তোমার বসেরটা পড়ে, তাহলে চাকুরীতে তোমার উন্নতি ঠেকায় কে? আবার তোমার উপর যদি খারাপ মানুষের কুনজর পড়ে, তাহলে তুমি গেছ। রাস্তায়ও হাঁটতে পাড়বে না। ছোটবেলায় মা-বড়মাদের বলতে শুনতাম, বাচ্চার কপালে কাজলের কালো টিপটা বড় করে লাগা, নজর লাগবে। তখন বুঝি নাই- এই নজর, আসলে কি নজর? এখন বুঝতেছি, এটা ছিল কুনজর!

তনু মেয়েটার উপর যে ছেলেগুলোর নজর পড়েছিল সেটা ছিল কুনজর। এটা পশুদের থাকে। ভুল করে এই ছেলেরা মানুষের গর্ভে জন্ম নিয়েছে! আর এক্ষেত্রে সুনজর হলো, সেই পশুগুলো যাদের চোখের কারণে ধরা না পড়ে দিব্যি খাচ্ছে দাচ্ছে; বাহাবা পাচ্ছে! একেই বলে সুনজর; প্রশাসনের সুনজর! মানুষ আর পশু মিশে একাকার!

সো, চোখই বলবে তুমি বন্ধু কেমন বন্ধু; মানুষ না পশু?

২৬/০৩/২০১৬