ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

ছাত্রজীবনে একটা কথা প্রায়ই বলতাম, একটা ভাল প্রেম যেমন গাছে তোলে, তেমনি পাগাড়েও নামায়! কথাটা কতটুকু সত্য সেটা অভিজ্ঞজনেরা ভাল বলতে পারবে! আমি সেদিকে না যেয়ে- যেটা বলতে এই মধ্যরাতে লিখতে বসেছি সেটা হলো, একজন ভালবন্ধু একটা বিশাল লাইব্রেরীর সমান! হ্যাঁ! কথাটা আমার না। এটা বলেছেন, ভারতের সদ্য প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিজ্ঞানী জনাব এ পি জে আব্দুল কালাম আজাদ, আমার প্রিয় ব্যক্তিত্বদের মধ্যে তিনি একজন।

অর্থাৎ তার কথাটা যদি আমি বুঝে থাকি, সেটা হলো, তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, একটা লাইব্রেরীর সব বই পড়ে একজন মানুষ যে জ্ঞান অর্জন করতে পারে বা যে উপকার পেতে পারে, তারচেয়ে ভাল উপকার পেতে পারে একজন ভাল বন্ধুর কাছ থেকে। অর্থাৎ তিনি বইয়ের চেয়েও একজন ভাল বন্ধুর উপদেশকে বা সঙ্গকে বেশী দাম দিয়েছেন।

আসলেই কি বন্ধুত্ব অমুল্য? আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে এর কিছু নজির দেখা যায়। প্রথমেই তাকাই ফিডেল কাস্ট্রো আর চে গুয়েভারের বন্ধুত্বের দিকে। এদের বন্ধুত্ব ছিল একেবারেই নিঃস্বার্থ এবং সেটা গড়ে উঠেছিল একটা আদর্শকে কেন্দ্র করে। একটা সময় পর তারা তাদের সেই আদর্শকে ধারন করে নিজ নিজ পথে চলে গিয়েছিলেন। ফলশ্রুতিতে তারা দুইজনই তাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে সফল হয়েছিলেন। শোনা যায়, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেন্দে ও পাবলো নেরুদার মধ্যেও এমনই এক বন্ধুত্ব ছিল। বন্ধুত্ব ছিল আমাদের বঙ্গবন্ধু ও সৈয়দ তাজউদ্দিনের মধ্যেও, যার ফলে দুইজন মিলে একটা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ উপহার দিতে পেরেছিলেন একটা নিপেরিত জাতিকে।

যদি আমরা জীবিতদের মধ্যে তাকাই তাহলে দেখতে পাই- বিল গেটস আর তার বন্ধুদের সেই দুনিয়া বদলের বন্ধুত্ব; যার নাম ‘মাইক্রোসফট’। আবার এপল, গুগল থেকে আলিবাবা এদের সবই তো তৈরী হয়েছে মেধাবী ও ভাল বন্ধুদের মিলিত শক্তিতে। আর ফেসবুক তো তৈরিই হয়েছে বন্ধুদের দ্বারা এবং বন্ধুদের জন্য। কি ভুল বললাম?

আবার পৃথিবীর প্রায় সব সফল ব্যক্তিদের সাফল্য খুঁজতে গেলে দেখা যাবে সেখানেও আছে তাদের সহধর্মিণীদের বন্ধুর মত পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে। উদাহরণে কাস্তুবাই, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, উইনি ম্যান্ডেলাদের নাম নির্দ্বিধায় বলা যায়। বলা যায় মেলিন্ডা গেটস, সোনিয়া গান্ধী আর হিলারী ক্লিন্টনের নামও।

আবার এর ব্যতিক্রমও আছে, শোনা যায় বঙ্গবন্ধু ও খন্দকার মোশতাকের মধ্যেও বন্ধুত্ব ছিল কিন্তু মোশতাক সেই বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে নিজে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ইতিহাসে এক বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। জানি জেনারেল জিয়া আর কর্নেল তাহেরের মধ্যকার বন্ধুত্ব আর বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাসও। এছাড়াও ব্রুটাসের গল্পটা আমরা সবাই কমবেশি জানি।

নির্মম ব্যতিক্রম এখানেও আছে, বেগম মুজিব যেখানে খুনিদের বলেছিলেন, “ওকে যখন মেরেছো তখন আমাকেও এখানে মেরে ফেলো”! কিন্তু বিপরীতে তেমন কিছু শোনা যায়নি! জিয়া হত্যার বিচার কেউ চায়নি!

কি বুঝলেন?

আমি আসলে বলতে চাচ্ছি, ভাল বন্ধুরা যেমন গাছে তোলে তেমনি পাগাড়েরও নামায়, মানে খুনি হিসেবেও বন্ধুর পিছনে দাঁড়িয়ে যায়।

আমি আরও বলতে চাচ্ছি, আজ যেসব তরুণেরা বিপথে পা বাড়াচ্ছে, আত্মঘাতী হচ্ছে? এর পিছনেও আছে বন্ধুত্ব। তবে সেটা ধ্বংসাত্বক, জাতিবিনাশী কর্মকাণ্ড, বন্ধুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা! এটা কাম্য নয়! হওয়া উচিত নয়! এতে করে মানব জীবনে বন্ধুত্ব বলে কিছু থাকবে না। আগামীতে আমাদের দেশীয় পরিবারগুলো ‘বন্ধু’ শব্দ শুনেই ভয় পাবে! বাবা-মা’রা আতঙ্কে থাকবেন!

সবশেষে, নিচে কয়েকজন ভাল বন্ধুর নমুনা দেওয়া হলো। পাশাপাশি কিছুটা পক্ষপাতীত্বও করা হলো, কারণ এর বাইরেও এদের আরও অনেক ভাল বন্ধু ছিল এবং এখনো আছে।

এবং এনারা গত ২২ বছর ধরে এভাবেই দাঁড়িয়ে আছে >>>

bondhu

কি বন্ধুরা ভাল তো সব?

১০/০৭/২০১৬

এবং প্যাঁচাল না পেরে, আসো সবাই মিলে গজল শুনি। ভাল থাকবে মন ও মাথা >>>