ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

আমরা যারা মালয়েশিয়ার উন্নতি আর আমাদের অবনতি নিয়ে সারাদিন হা হুতাশ করি। তারা যদি মালয়েশিয়ায় এসে- এইদেশ কিভাবে উন্নতি করলো?- তা ভাল করে দেখি তাহলে দেখতে পেতাম-

১) জনাব মাহাথিরের আমলে এই দেশে গণতন্ত্র ছিল না। ছিল একদলীয় টানা প্রায় দুই যুগের শাসন।

২) মাহাথিরের সরকার তার দেশের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ ব্যবসা তুলে দিয়েছেন চীনা বংশভুত ব্যবসায়ীদের হাতে। প্রতিটা রাস্তা ব্যবহার করতে হবে আপনাকে নগদে ট্যাক্স দিয়ে।

৩) যতদূর জানি এদেশে ব্যক্তি সম্পত্তি (জায়গা-জমি) বলে তেমন কিছু নেই। যা আছে সেটা হচ্ছে সুলতান/সরকারের কাছ থেকে মেয়াদী লিজ নেওয়া।

৪) হাজার হাজার একর পাহাড়, বনভূমি, জলাভূমি ধ্বংস করে গড়ে তোলা হয়েছে টাউনশীপ, শহর-বন্দর, বিমান বন্দর। পামগাছের বাগানের জন্য ঠিক কত হাজার পাহাড় বুলডেজার দিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে তা বোধ হয় কারো পক্ষেই বলা সম্ভব না এবং প্রতিদিন তারা শত শত পাহাড় কাটছে। এমনকি বন কেটে সাফ করে কাঠ রফতানী করা হচ্ছে।

৫) এখানে ধর্ম ও জনগোষ্ঠী অনুযায়ী কিছু কিছু আইন আলাদা। খাবার-পানীয়, পোশাক পড়া হয়- যার যার বিশ্বাস অনুযায়ী। কেউ কাউকে তাতে বাঁধা দিতে পারে না। দিলেই শাস্তি।

অতএব আমরা যারা উন্নয়নও চাই আবার বলি পরিবেশের ক্ষতি হবে না একটুও! তারা আসলে একটা বিভ্রান্তির মধ্যে আছি। আপনি যখন বিদ্যুৎ খরচ করে ফেসবুকে ব্লগে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন, আপনি কিন্তু এটা করতে যেয়ে বিদ্যুৎ খরচ করছেন? আর আপনার খরচকৃত ‘প্রতি উইনিট’ বিদ্যুতের জন্য আপনি ‘প্রতি উইনিট’ পরিবেশের ক্ষতি করছেন! বিষয়টা মনে রাখবেন?

আমি কাবাব খেতে খেতে পশুপ্রেম দেখাতে চাই না; পশুপ্রেমী সাজতেও চাই না! যদি আমরা সবাই বিবেককে প্রশ্ন করি উত্তর পেয়ে যাবো! একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে- নিজে পরিবেশের ক্ষতি করে; পরিবেশের জন্য কান্নাটা হয়ে যায় ‘মায়া কান্না’!

সবশেষে- যদি উন্নয়ন চাই তাহলে মনে রাখতে হবে, আমরা কোন না কোনভাবে পরিবেশের ধ্বংস চাচ্ছি। সেটা হোক না সুন্দরবন বা বুড়িগঙ্গা!

হ্যাঁ আমরা দুটোর মধ্যে ব্যালান্স করার জন্য একটা প্যারামিটার করতে পারি যাতে এই ক্ষতি কম হয়!

আসুন- আমরা সবাই উন্নয়নও চাই এবং পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি কিভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করি।

০৪.০৮.২০১৬