ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

কয়েক মাসের মধ্যে আমার দুইবার হেলিকপ্টারে চড়ার সৌভাগ্য হয়েছে। যার প্রথমটা ছিল পারটেক্স এভিয়েশনের ফোর সিটার আর দ্বিতীয়টা ছিল আর, আর, এভিয়েশনের সেভেন সিটার। উভয় ফ্লাইটে আমাদের সাথে ছিলেন যথাক্রমে জাপান ও মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল।

প্রথমবার আমাকে সেলফী রোগ তেমন একটা ধরেনি, তাই কপ্টারের ভিতরেই অল্পবিস্তর সেলফি তুলেছিলাম। কিন্তু দ্বিতীয়বার আমি মোটামুটি ‘সেলফি রোগে’ আক্রান্ত হওয়ায় কপ্টার উড়ন্ত অবস্থায় হটাৎ আমার মনে হলো, আরে! দরজা খুলে তো দারুণ সেলফি তোলা যায়!”

যেই ভাবা সেই কাজ, একটু উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখি- দরজার লক বা জানালার কাঁচ ইচ্ছে করলেই খোলা যায়। কিন্তু আমার ‘অপরাধী মন’ সঠিক সময়ে সঠিক রিডিং দিলো এই বলে, “ জানালা খুল্লেই বাতাসে কপ্টারসহ পরকালে উড়ে যাবি সুকান্ত”! এবং আমি অফ গেলাম!

গত দুইমাসে আমি কমপক্ষে দুইবার মৃত্যুর হাতে পড়তে পড়তেও পড়িনি। এর একটা ছিল রাস্তায় আর অন্যটা ছিল ইলেকট্রিক শর্ট সার্কিটে।

দ্বিতীয়বার, আই মিন গত সপ্তাহে হেলিকপ্টার থেকে নেমে পাইলটকে বিদায় সম্ভাষণ দেওয়ার সময়ও ভাবিনি, আসলে আমি টানা তৃতীয়বারের মত বেঁচে গেলাম!

খবরে পড়লাম- মেঘনা এভিয়েশনের একটা হেলিকপটার বিধ্বস্ত হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়ায় এবং তাতে সেলফী তুলতে যেয়ে একজন মারা গেছেন।

এই সম্পর্কীয় আমার জানা তথ্যগুলো শেয়ার করছি-

১) এই হেলিকপ্টারগুলো খুবই হালকা ধরনের। [অবশ্য আমি এরচেয়ে ভাল কোন কপ্টার দেখেনি]

২) পাইলটরা প্যাসেঞ্জারদের আনন্দ দেওয়ার জন্য উড়ন্ত অবস্থায় নানা ক্যারিকেচার করে। [আমার দ্বিতীয় ভ্রমণে এমনি এক ‘নিচু উড়ান’ ক্যারিকেচারে হাওরের মধ্য দিয়ে যাওয়া এক অচেনা রাস্তায়- চলন্ত রিক্সা থেকে তিনজন প্যাসেঞ্জার ভয়ে ছিটকে পড়ে গেছেন। আমি পিছনের সীটে বসার কারণে এই মজার দৃশ্য (!) নিজ চোখে দেখতে পারিনি!]

৩) এই সামান্য ক্যারিকেচারে তেমন কোন সমস্যা হয়ত নেই, কিন্তু আশংকা আছে ইলেক্ট্রিক তারে জড়ানো বা গাছের ডালের সাথে লেগে যাওয়ার!

৪) অতি উৎসাহী প্যাসেঞ্জার (অবশ্যই বাঙালী) এই হেলিকপ্টারের জন্য একটা বড় ধরণের থ্রেট! [দুঃখজনকভাবে জনাব শাহ আলম তা প্রমাণ করে গেলেন!]

৫) দেশের প্রয়োজনেই এই সার্ভিস দিন দিন আরও বাড়বে। শিল্পমালিকরা বিশেষ করে যারা আন্তর্জাতিক ব্যবসায় জড়িত, তারা বিদেশীদের কাছে নিজ দেশের ‘নেগেটিভ ভাবমূর্তি’ কাটাতে বেশী করে এর উপর নির্ভরশীল হবেন। যার প্রণোদনা হিসেবে কাজ করছে- যানজট ও নিরাপত্তার সংকট।

৬) উড়ানের আগে পাইলটরা কোন বিষয়েই ব্রিফ করেন না, যাতে করে যাত্রীরা সতর্ক হতে পারেন!

৭) ‘প্যাসেঞ্জার ইনস্যুরেন্স পলিসি’গুলো রিচেক করা দরকার। সবাই যেন সমভাবে তা মানে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

৮) আমার দেখা পাইলটদ্বয়কে দক্ষ মনে হয়েছে। তারপরেও রিচেক দরকার। কোন ট্রেইনি পাইলট যেন প্যাসেঞ্জার নিয়ে উড়তে না পারে।

৯) ভাল মানের কপ্টার এই সার্ভিসে যোগ করতে হবে।

অফটপিকঃ বিজ্ঞান বলে- অপরাধী মন, ঠকে কম!

১৭/০৯/২০১৬ রাতঃ ২.৫০