ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

আমরা কি কখনো ভেবেছিলাম কোডাক, নোকিয়ার মত কোম্পানি একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে? অথবা পিরামিড তাজমহল বানানোর সময়ে সেই সময়ের রাজা-বাদশারা কি ভেবেছিলেন তাদের বংশধররা একসময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে?

না, ভাবেনি এবং সুসময়ে এ নিয়ে কেউই ভাবে না!

বর্তমানে আমরা কি ভাবছি- গুগল, এপলের মত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানদ্বয়ও একসময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে? অথবা আমরা যে মাধ্যমে লিখছি তাও একসময় থাকবে না, অর্থাৎ বিলুপ্ত হয়ে যাবে? যেমন করে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে কাগজের পত্রিকা ও বই এবং সাথে করে নিয়ে যাচ্ছে কলমকেও?

যুগে যুগে পৃথিবীতে বড় বড় ব্যক্তিরা আবির্ভুত হন, আবির্ভাব ঘটে নতুন নতুন মতবাদ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের, কালক্রমে তা একসময় বিলুপ্তও হয়ে যায়! নতুন করে আসে শক্তিমান কোন ব্যক্তি, মতবাদ বা রাষ্ট্র। আবারো তারা নতুন করে এই পৃথিবীতে রাজ করতে শুরু করে, হয়ে ওঠে প্রতাবশালী। ভাবে তারাই সেরা; অমর! কিন্তু ঘটনা ঘটে ভিন্ন আঙ্গিকে যখন তাদের আর কিছু করার থাকে না!

এই পৃথিবীতে কোটি কোটি বছর ধরে উৎপত্তি আর বিলুপ্তির একটা প্রক্রিয়া চলছে। এতদিনে যার একটা ফরমেটেও দাঁড়িয়ে গেছে। অবশ্য এই ফরমেটে একটা ব্যতিক্রমও আছে। যেমন লেখক বলেছিলেন, “অতিকায় ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছে কিন্তু তেলাপোকা টিকে আছে”! এই কথাটার সত্যতাও পাওয়া যায়! অন্তত কয়েক কোটি বছরের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ দেখানো যেতে পারে।

এখন আমাদের সামনে দুটো অপশন খোলা আছে- অতিকায় ডাইনোসর হয়ে বাঁচতে যেয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অথবা তেলেপোকার মত মরতে মরতে বেঁচে যাওয়ার!

পরিবর্তনই পৃথিবীর সার কথা! আমাদের উচিত এই পরিবর্তনকে ভালোর দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা! তাতে করে অন্তত কিছু স্মৃতিচিহ্ন থাকতে পারে!

আর বাকিটা সময়ের হাতে তোলা থাকবে >>>

২৫/০৯/২০১৬