ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

কে লুটপাটের বোয়াল আর কে রাঘব বোয়াল? – তা বলা না গেলেও, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও দলগুলোর আঁচার-আচরণ বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে- আওয়ামীলীগ, বিএনপির চেয়ে অনেক বেশী পরিপক্ক, গোছানো ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। তাদের মূল নেতৃত্ব অনেক বেশি সহনশীল। বাস্তবে কি করবে বা কতটুকু করবে তার শতভাগ নিশ্চয়তা না থাকলেও; আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব মানুষের সাথে অন্তত কথা বলে ও শোনে।

অপরদিকে, বিএনপির মূল নেতৃত্ব চলে অনেকটাই রাজা-বাদশা টাইপের আচরণে। তাঁরা পারতপক্ষে দ্বিতীয়স্তরের নেতাদের কথাও শোনে না। আর সাধারণ মানুষের কথা তো অনেক দূরের কথা!

তবে বিএনপির দ্বিতীয় স্তরের নেতা থেকে শুরু করে গ্রাম বাংলার নেতৃত্ব পর্যায়ের নেতারা আওয়ামী লীগের নেতাদের চেয়ে অনেক বেশী দলীয়কর্মীঅন্ত প্রাণ। তারা নিজ কর্মী বাহিনী ও সমর্থকদের উপকার করতে না পারলেও ক্ষতি করে না। বা বলা যায়- টাকা নিয়ে কোন কাজ করতে হলেও তারা নিজ দলের লোকদেরকেই বিবেচনা করে।

অপরদিকে, ‘ক্ষমতাবিহীন আওয়ামীলীগ’ বেঁচে থাকে তাদের নিবেদিত কর্মী ও সমর্থক বাহিনীর ভালবাসায় কিন্তু এই দল ক্ষমতায় আসলে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয় এইসব কর্মী ও সমর্থকরাই! সেইসব নেতা ও তাদের পরিবারই তাদের ক্ষতি করে যারা এতদিন ছিল তাদেরই উপকার ভোগী! অনেকটা “যে থালে খায়, সেই থালই ফুঁটা করা’র প্রবাদের মত করে!

অর্থাৎ আওয়ামী লীগের নেতারা ক্ষমতায় যাওয়া মাত্র তাদের নিজ মানুষদের ভুলে যায় ও তাদের উপর অত্যাচার শুরু করে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তারা টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, বেড়ে যায় পরিবার ও আত্মীয় প্রীতি। এমনকি সেই আত্মীয়রা যদি তাকে বা তার দলকে কোনদিন ভোট নাও দেয় তাতেও তাদের কোন ভ্রূক্ষেপ থাকে না!

আরও দেখা যায়- এই সময়টাতে তারা বিপক্ষের রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে দহরম মহরমের পাশাপাশি আত্মীয়তা ও ব্যবসা বাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পরে। অপরদিকে, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তাদের নেতারা তাদের কর্মী সমর্থকদের ভালবাসে এবং ভাল রাখে। অথবা আর কিছু করতে না পারলেও অন্তত ক্ষতি করে না!

তবে দু’দলেরই জেনম চেক করলে দেখা যায়- ধর্মীয় সংখ্যালঘুর উপর নির্যাতন ও তাদের জমি-বাড়ী দখলে আশ্চর্য রকমের মিলনরেখা ও সহাবস্থান!

২৪/১০/২০১৬