ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

তমাল চা স্টলে আড্ডা দিচ্ছে হটাৎ সে দেখলো সামনের ফটোকপির দোকানে একটা মেয়ে ঘুরছে। মেয়েটি নতুন, তাকে আগে কখনো দেখেনি সে! ভাবলো, মনে হয় ফার্স্ট ইয়ারে এসেছে! আরও একটু ভালভাবে দেখার জন্য ঐ মেয়েটির আশেপাশে বার দুয়েক চক্কর দিয়ে অবশেষে তার সাথে আই কন্ট্যাক্ট করতে পারলো। কিন্তু ঘটনার ফলাফল হলো মারাত্মক এবং প্রথম দেখাতেই তারা একে অপরের প্রেমে পড়ে গেল!

তমাল মনে মনে বলল, ওরে বাপরে, কী সুন্দর চোখ! আমি যে তোমাকেই চাই; এতদিন কোথায় ছিলে চাঁদসুখ, এদিকে ঘোরাও না তোমার মুখ? অপরদিকে মেয়েটি ভাবলো আরে, আমি তো এই ছেলেকেই খুঁজছি! এতদিন, কোথায় ছিলে চাঁদসোনা, আসো! ধর না আমার হাতখানা?

লাইব্রেরীতে মেয়েটির নাম জানতে পারলো তমাল। তার নাম চম্পা। অতি অল্প সময়েরই তাদের বোঝাপড়াটা বরফের মত জমে গেল। কিন্তু সমস্যা দেখা দিলো তাদের নিজ নিজ সার্কেলের বন্ধুদের মধ্যে। তারা এই সম্পর্ককে মেনে নিতে পারলো না এবং দুইজনকেই হিংসা করতে শুরু করলো।

তমাল-চম্পা জুটি বেশ জমে গেছে কিন্তু ক্লাস, দেখা-সাক্ষাৎ নিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের মধ্যে ঠোকাঠুকি শুরু হয়ে গেল। এটা আরও বেড়ে গেল যখন চম্পা তারই ডিপার্টমেন্টের এক বড় ভাইয়ের কাছে ক্লাসের পড়া বুঝে নেওয়ার জন্য একটা গ্রুপ ডিসকাশনে অংশ নিলো। বন্ধুদের ফোঁড়ন আর সেই বড় ভাইয়ের সাথে চম্পাকে হেঁসে হেঁসে কথা বলতে দেখে তমাল মনে মনে জেলাসি হয়ে উঠলো। একদিন তা আরও বড় হয়ে ওদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে গেল।

পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় দু’জনের কেউই জানতে পারলো না যে, এই বিচ্ছেদ আসলে সাময়িক। উল্টো তারা আরও ভুল করে বসলো! একে অপরকে দেখে নেওয়ার চেষ্টা করতে যেয়ে চম্পা তার সেই বড় ভাইয়ের সাথে আরও একটু ঘনিষ্ঠ হওয়ার ভান করতে চাইলো। আর তমালও চম্পাকে শেষটা দেখিয়ে দিতে চাপাতি খুঁজে নিলো।

জেদাজেদি ওদেরকে পয়েন্ট অব নো রিটার্নে নিয়ে এসেছে। তারা একে অপরকে সবসময় এড়িয়ে চলে, কথা বলা তো দূরে থাক, কেউ কারো দিকে ফিরেও তাকায় না! এমনি এক সময়ে চম্পাকে সেই বড়ভাইয়ের সাথে ক্লাস শেষে হাঁটতে দেখে তমাল এবার সত্যি সত্যি চাপাতি হাতে নিলো এবং ফাঁকায় পেয়ে একদিন মেয়েটিকে কোপাইয়া দিলো।

চম্পা হাসপাতালের আই,সি, ইউতে আর তমাল পুলিশের হাজতখানায়। দেশব্যাপী আন্দোলনে সবাই তমালের ফাঁসী চাচ্ছে! সেদিকে ওর খেয়াল নেই! সে চম্পাকে খুন করার জন্য কোপালেও যখন শুনলো যে চম্পা এখনো মরেনি এবং চিকিৎসায় বেঁচে যেতে পারে? তখন থেকেই সে প্রার্থনা করতে লাগলো- চম্পা যেন বেঁচে যায়, গড!

হাসপাতালে সুস্থ হয়েই চম্পা তমালের ফাঁসি চেয়ে বসলো। তা শুনে তমালের আবারও রাগ হলো। বিচারের দিন সব ঠিক থাকলেও চম্পা কোর্টে তমালকে নির্দোষ দাবী করলো এবং মাফ করে দিতে বললো। ফলে তার শাস্তি কমে যাওয়ায় বছর পাঁচেক পর সে জেল থেকে মুক্তি পেল।

জেল থেকে বের হয়ে তমাল জানলো, পাশের গ্রামের একটা ছেলের সাথে চম্পার বিয়ে হয়ে গেছে। শুনেই সে তেলেবেগুনে আবার জ্বলে উঠলো এবং মেয়েটির ক্ষতি করার জন্য সুযোগ খুঁজতে লাগলো। অপরদিকে তমাল যেন ভাল হয়ে যায় এবং বিয়ে করে ভাল থাকে, তার প্রার্থনা করতে লাগলো চম্পা।

ধুর!

কেন যে এতরাতে এই বিষয়টা নিয়ে লিখতে বসেছি তা আমি জানি না! তবে এটা জানি, প্রেমের মরা জলে ডোবে তো নাই-ই এমনকি পোড়েও না!

আসলে যে বিষয়ে লিখতে চেয়েছিলামঃ

বেসিক্যালী আমি প্রেম পীরিতের বিশেষজ্ঞ নই! এই বিষয়টা ভাল যায় আমাদের নিতাই দা’র সাথে। আশাকরি, তিনি জুবায়ের ভাইয়ের সাথে বাহাস করে এর একটা বাস্তব রূপ দিবেন আই মিন নাট্যরূপ দিবেন!

love-1

আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, দেখা যায় বেশীর ভাগ প্লেটোনিক লাভেই একই ধরণের ঘটনাক্রম থাকে। আগের যুগে দেবদাস মদ গিলেছে অপরদিকে পার্বতী স্বামীগৃহে থেকেও তার জন্য প্রদীপ জ্বেলে অপেক্ষায় থেকেছে। আবার উল্টোটাও দেখা গেছে। ছেলে স্যাক্রিফাইস করে সন্ন্যাস ব্রত নিয়ে বনে গেছে অথবা চিরকুমার থেকেছে। অবশ্য এর অন্যদিকও ছিল!

কিন্তু হাল আমলে এই ঘটনাগুলোতে রোমান্টিকতার বিপরীতে খুনোখুনি ঢুকে গেছে। প্রেমিকের চাপাতির আঘাতে প্রেমিকারা মারা যাচ্ছে বা এসিডে ঝলছে দিচ্ছে তাদেরই প্রিয় মুখ! যা খুবই হৃদয় বিদারক!

উন্নতবিশ্বে এর অন্যরূপ দেখা যায়। যেমন মুষ্টিযুদ্ধের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মাইক টাইসনকে একটা টিভি প্রোগ্রামে যখন জিজ্ঞাসা করা হলো- আচ্ছা, আপনাদের ডিভোর্সের পরে কী ঘটেছিল? উত্তরে সে বলেছিল, “আমি স্বেচ্ছায় ডিভোর্স নিয়ে সুখেই ছিলাম কিন্তু যখন ওকে অন্য পুরুষের সাথে গাড়ীতে উঠতে দেখলাম, তখন আমি নুডলসের মত নেতিয়ে পড়েছিলাম”।

সবচেয়ে ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটিয়েছেন, স্পেসএক্সের মালিক এলন মাস্ক। যতদূর জানি সে তার একই স্ত্রীকে এইবার নিয়ে দুইবার ডিভোর্স করেও আবারো লিভিং টুগেদার করছে। অপরদিকে একইরকম আলোচিত ঘটনা ঘটিয়েছেন হলিউডের দুই সুপার স্টার, এঞ্জলিনা জোলী ও ব্যাড প্রিটও। বহু বছর লিভ টুগেদার করতে পারলেও বিয়ে করে অল্প কয়দিনই শুধু একসাথে থাকতে পেরেছেন!

আসলে প্রেম-ভালবাসাটা এমনই! কোন গ্রামার মানে না!

love-2

ধুর! এতরাতে এরকম ফালতু লেখা লিখতে আর ভাল্লাগে না! তারচেয়ে প্রেমময় একটা কবিতা লেখার চেষ্টা করি! ভুল হলে কারেক্ট প্লিজ, এনি কেউ?

তুমি আসবে বলে-
রাতটা সেদিন নির্ঘুম কেটেছিলো!
তুমি আসবে না জেনেও
আজকের রাতটাও নির্ঘুম কাটবে!

ভালবাসার দোলাচলে
ভেসে যাচ্ছে সাজানো ঘর
আর আসবে না বলেই কী!
হয়ে যাবে আমার পর?

-ধুর!

গুড নাইট!

## আসেন তারচেয়ে প্রিয় গজল শুনি! ভাল থাকবে মন ও মাথা!