ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

যখন শেয়ার মার্কেট লুট করা হয়! তখন আমরা চিল্লাই আর আপনারা হাসেন! বলেন, এসব কিচ্ছু না! সব দুষ্টুদের রটনা! জুয়া খেলতে আসলে তো এমন হবেই? যখন সেই লুটেরাদেরই আপনারা ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। তখনো আমরাই চিল্লাই; আর আপনারা হেসে বলেন, মূর্খরা শুধুই চিল্লায়! ওরা জানে ইনি কে, কী তার মেধা!

যখন সোনালী, জনতা, বেসিক, অগ্রণী, জনতা ব্যাংকের সাথে সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকও লুট হয়! গাড়ি বোঝাই করে, বস্তায় ভরে, ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়! তখনো আমরাই চিল্লাই আর বলি- এটা জনগণের টাকা, আপনারা লুট করতে পারেন না! উত্তরে আপনারা আমাদের শোনান, ’চার হাজার কোটি টাকা তেমন কোন টাকা না! এটা আমাদের বাজেটের ক্ষুদ্র অংশমাত্র’! বাংলাদেশ ব্যাংক লুটের সময় বললেন, ’রিজার্ভের ক্ষুদ্র একটা অংশই মাত্র চুরি হয়েছে’! এসব বাণী আপনাদের কাছে মধুর মনে হলেও আমজনতার কানে তা সীসা ঢেলে দেয়! তারা কষ্ট পায়! ক্ষোভে ফেটে যেতে ইচ্ছে করে তাদের!

যখন বিশ্বজিৎকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে মারা হয়, কলেজের প্রিন্সিপালকে জুতাপেটা করা হয়, স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করানো হয়, ছাত্রলীগের নামে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিতে দেশ ভরে যায়, সরকারি বিল্ডিং বানাতে যখন রডের বদলে দেওয়া হয় বাঁশ, তখনও আমরাই বলি- এসব কী? ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? তখনো আপনারাই আমাদের শোনান, ’এসবই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর সাথে দলের কেউ জড়িত নাই’! আর আমরা দেখি- সব জায়গায়তেই আপনাদের দলকে!

টেন্ডারের মাধ্যমে কোন প্রজেক্টের কাজ শুরু হওয়ার পরই যখন দেখি সেই প্রজেক্টের ব্যয় শত থেকে হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে দিচ্ছেন, জনগণের কাছে তা খুলে বলছেন না- কেন এই ব্যয় বৃদ্ধি? তখন আমরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে জিজ্ঞাসা করি, এই ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণটা কেন টেন্ডারের আগেই বিবেচনা করা হলো না? যখন আমরা জানতে চাই, একই প্রজেক্ট বানাতে আমাদের পাশের দেশগুলোতে কত টাকা লাগে? তখন আপনারা আমাদের বেকুব বলে উপহাস করেন। উন্নয়ন বিরোধীদের দলে ট্যাগ দেন?

১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের একাগ্র ভোটে দল হিসেবে এই বাংলাদেশে টিকে ছিলেন। ক্ষমতা পেয়েই তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেন? লুটতে থাকলেন তাদের বাড়ি-জমি? আপনাদের দলের লোকেরা মা-মেয়েকে একসাথে গণধর্ষণ করলেও আপনারই আমাদের শোনান, ’মেয়ে ধর্ষিত হলেও মায়েরটা ছিল স্বেচ্ছায়’? রামু, নাসিরাবাদে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে যখন বৌদ্ধ, হিন্দুদের বাড়িঘর প্যাগোডা, মন্দির পোড়ানোতে আপনাদেরই দেখা যায় সবার আগে? তখনো আমরাই অবাক হয়ে বলি, এসব কী করছেন? উত্তরে ধমক দিয়ে বলেন, ’থাম মালাউনের বাচ্চা’!

যখন এমপি মন্ত্রীরা ধরাকে সরা জ্ঞান করে, তাদের ছেলেরা, মেয়েরা, মেয়ের জামাইরা গ্রামের ছোট টেন্ডার থেকে শুরু করে লুটে নেয় সব প্রজেক্টের কাজ, যখন সেই কাজের বদলে হয় আই ওয়াশ আর বিল তোলার উৎসব, তখনো আমরাই বলি, ভাই এসব করছেন কী? একটু অন্তত কাজ করেন। উত্তরে বলেন, ’এই কে আছিস? ওকে থানায় ঢোকাও’!

খেলতে থাকা ছোট শিশুটাকে যখন এমপি লিটন গুলি করেন, আমরা সরব হয়ে তার বিচার চাই। আপনারা হাতের ভেলকি দেখিয়ে বলেন, ’এই গুলির ঘটনাটা ছিল ভুলবশত; খেলাচ্ছলে’!

nanok_mp_liton

সেই এমপি লিটন যখন গুলিতে নিজ ঘরে মারা পরে, আপনারা চিল্লাতে থাকেন, এটা অমুকে করেছে, তমুকে করেছে! তখন কিন্তু আমজনতার বুক ভেতর হাসি জাগে! গোপনে হাসির কারণটা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেই উত্তর আসে, ’এটা কিচ্ছু না’!

০৫/০১/২০১৬

বাংলাদেশ লুটের ফলোআপ